চুরি ও অনিয়মের অভিযোগে ইবির ১৩ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬ , ১২:২৫ পিএম


চুরি ও অনিয়মের অভিযোগে ইবির ১৩ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার
ছবি : আরটিভি

চুরি ও বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মোট ১৩টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে। গবেষণাপত্রে লেখকত্ব বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে সমস্যা, তথ্যসূত্র বা রেফারেন্স সংক্রান্ত সমস্যা, চিত্র সংক্রান্ত অসঙ্গতি বা ডুপ্লিকেশন, অবিশ্বস্ত ফলাফল বা উপসংহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন সময় বিশ্বের বিভিন্ন জার্নাল থেকে এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী রিট্রাকশন ওয়াচ ডাটাবেইজে সম্প্রতি অনুসন্ধান করলে এ তালিকা পাওয়া যায়। তালিকায় ইবির অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ড. সাদেক আলী, অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল ও ড. মো. সজিব আলীসহ একাধিক বিভাগের বর্তমান ও প্রাক্তন গবেষকদের নাম রয়েছে।

বৈশ্বিক জার্নাল সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মোট ১৩টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে বিশ্বসেরা ২শতাংশ গবেষকের তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. হাবিবুর রহমানের ২টি গবেষণাপত্রও রয়েছে।

আরও পড়ুন

মোট ১৩টি গবেষণা রেকর্ডের মধ্যে ১২টি পিয়ার রিভিউড জার্নাল আর্টিকেল এবং একটি রিট্রেকটেড প্রিপ্রিন্ট। ১২টি জার্নাল আর্টিকেল ভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছিল; ২টি প্রিপ্রিন্ট রিসার্স স্কয়ারে পোস্ট করা হয়েছিল। লেখকভিত্তিক হিসাবে ১৩টি পৃথক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-সংযুক্ত পরিচয় এবং ১৭টি লেখক-রেকর্ড উপস্থিতি পাওয়া গেছে। চারজনের ২টি করে এবং নয়জনের একটি করে রেকর্ড রয়েছে। 
বিভাগভিত্তিকভাবে গণিত ৪টি, এনএফটি ৩টি, আইসিটি ২টি, সিএসই ২টি এবং বাকি তিনটি প্রকাশিত বিভাগীয় লেবেলে একটি করে রেকর্ড রয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২টি, যার দুইটিই ড. হাবিবুর রহমানের (সহলেখক ইমরান হাসান)। এছাড়া গণিত বিভাগের ৪টি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রের ড. মো. মোস্তফা কামালের ২টি এবং ড. মো. সজিব আলীর ২টি রয়েছে।

অ্যাপ্লাইড নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি বিভাগের ২টি গবেষণাপত্রের মধ্যে ড. কামরুজ্জামানের একটি, আতিকুর রহমান ও সাবেক শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেনের যৌথ আরেকটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শাহেদুর রহমান ও আসিফ ইকবালের যৌথ ১টি গবেষণাপত্রও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ৩টি গবেষণাপত্রের মধ্যে একটি শিক্ষার্থী এন. গাফারের এবং অপর দুইটি বিভাগের শিক্ষক ড. মো. সাদেক আলীর।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যারা কাজ করে তাদের ত্রুটি বিচ্যুতি হয়, আর যারা কাজ করে না তাদের ভুল ত্রুটির সম্ভবনা থাকে না। গবেষকদের উৎসাহিত করা উচিত। তবে কেউ জেনে শুনে অন্যের লেখা চুরি করে বা বিভিন্ন মাধ্যমে কপি করে চালিয়ে দেয় তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য হুমকি স্বরূপ। রিসার্স পেপারগুলো দেখেই জীবনের উৎকর্ষতা আনে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে ভুল গবেষণার ফল, আমাদের সমাজে বা বায়ুমণ্ডলে (বৈজ্ঞানিক) ভুল কিছু বয়ে আনবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission