ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও রুমমেটদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের গোপন ছবি তুলে তার যুক্তরাজ্যপ্রবাসী প্রেমিকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও রুমমেটদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ছাত্রী হলের কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া গোপনে ধারণ করে আবিদ নামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন। সম্প্রতি ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি ভুক্তভোগীদের কাছে ছবিগুলোর কিছু অংশ পাঠান। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে হলজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে তারা কয়েকটি স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করেছেন বলেও জানান। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বলেন, এমন কিছু হয়নি। যা রটানো হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত করে বলা হচ্ছে। তদন্ত হোক, বিস্তারিত তখনই বলব। এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, ঘটনার বিষয়ে জানার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা জরুরি সভা করেছি। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তারকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামান।
আরটিভি/জেএমএ



