‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন গকসুর এজিএস

গবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ 

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬ , ০৯:১০ এএম


‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন গকসুর এজিএস
গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সামিউল হাসান শোভোন। ছবি: সংগৃহীত

‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সামিউল হাসান শোভোন।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, তার আগের পোস্টটি বাস্তব সহিংসতার আহ্বান ছিল না; বরং রাজনৈতিক প্রতিবাদ, ব্যঙ্গ ও রূপকের ভাষায় লেখা হয়েছিল।

সামিউল হাসান বলেন, গত ৪ আগস্ট দেওয়া তার ফেসবুক পোস্টকে ‘বিকৃতভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে। তার দাবি, পোস্টটির মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক দ্বৈত মানদণ্ড, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং ক্যাম্পাস রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার সমালোচনা করা। জাতীয় সংসদ ও শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক বাস্তবতার বৈপরীত্য তুলে ধরতেই তিনি ওই ভাষা ব্যবহার করেছিলেন।

রগ কাটার মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে বাস্তব সহিংসতার আহ্বান বা হুমকি ছিল না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত একটি অভিযোগকে রূপক ও ব্যঙ্গাত্মক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। আমার উদ্দেশ্য ছিল একতরফা হামলা, দমন-পীড়ন এবং বিচারহীনতার অভিযোগের মুখে রাজনৈতিক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করা।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রনেতাদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শোভোন বলেন, জকসুর ভিপি, জিএসসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। একজন নির্বাচিত ছাত্রনেতাকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা শুধু কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট সংগঠনের বিষয় নয়; এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের প্রশ্ন। ক্যাম্পাসে যদি সহিংসতা, ভয়ভীতি ও প্রতিশোধের রাজনীতি স্বাভাবিক হয়ে যায়, তবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো ছাত্রসংগঠনের সদস্যের ওপর হামলা হোক না কেন, সমান গুরুত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা উচিত। আইন যদি সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হয়, তবে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা এবং রাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি হওয়া অনিবার্য।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার আগের পোস্টে কোথাও ছাত্রদলের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, যারা সহিংসতা, দখলদারিত্ব ও ভয়ের রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত মনে করেন, তারা যদি নিজেদের সেই বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে নেন, তবে সেই ব্যাখ্যার দায় আমার বক্তব্যের নয়; বরং তা তাদের নিজস্ব উপলব্ধির বিষয়।

সামিউল হাসান শোভোন সবাইকে তার পোস্টটি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি ছিল রাজনৈতিক সহিংসতা, বিচারহীনতা ও দ্বৈত মানদণ্ডের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদী বক্তব্য। গণতান্ত্রিক সমাজে মতভেদ ও বিতর্ক স্বাভাবিক হলেও এর সমাধান ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সামিউল হাসান শোভোনের একটি ফেসবুক পোস্টে ‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি করুন’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে গকসুর একাধিক প্রতিনিধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission