ক্ষমা চাওয়ার দোয়া ও দোয়া কবুলের কয়েকটি মুহূর্ত

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ , ০৯:২৮ পিএম


ক্ষমা চাওয়ার দোয়া ও দোয়া কবুলের কয়েকটি মুহূর্ত
ফাইল ছবি

আল্লাহ চান বান্দা প্রতিটি বিষয়ে তার কাছে প্রার্থনা করুক। বান্দা আল্লাহর কাছে চাইলে তিনি খুশি হন। বান্দা প্রতিনিয়তই ভুল করে থাকে, তাই ভুলে থেকে ক্ষমা লাভের শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে দোয়া। এটি বান্দার জন্য স্রষ্টার একটি নেয়ামতও। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অনেক স্থানে বলেছেন তিনি ক্ষমাশীল। আর তিনি ক্ষমা করে দেওয়াকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন।

আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার অনেক দোয়া রয়েছে। কয়েকটি দোয়া তুলে ধরা হলো।

হজরত আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয়ই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দোয়ায় ক্ষমা প্রার্থনা করতেন-

رَبِّ اغْفِرْلِىْ خَطَايَاىَ وَجَهْلِىْ

উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফিরলি খাত্বাইয়ায়া ওয়া ঝাহলি।’

অর্থ : ‘হে প্রভু! আমাকে ক্ষমা করুন। আমার ভুল ও অজ্ঞতাগুলোও ক্ষমা করুন।’ (বুখার, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব গোনাহ থেকে মুক্তির দোয়া-

رَبِّ اغْفِرْلِىْ مَا أَسْرَارْتُ وَ مَا أَلَنْتُ

উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফিরলি মা আসরারতু ওয়া মা আলানতু’

অর্থ : ‘হে প্রভু! গোপনে ও প্রকাশ্যে আমি যা করেছি; আপনি তা ক্ষমা করে দিন।’ (মুসনাদে আহমাদ)

হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু ক্ষমা প্রার্থনায় বললেন-

سُبْحَانَكَ إِنِّي قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ

উচ্চারণ : ‘সুবহানাকা ইন্নি কাদ জালামতু নাফসি ফাগফিরলি ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা।’

অর্থ : (হে আল্লাহ!) তুমি অত্যন্ত পবিত্র সত্তা। আমার উপর আমি অত্যাচার করেছি। অতএব তুমি আমাকে মাফ কর, কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না।’ (তিরমিজি)

দোয়া কবুলের কয়েকটি মুহূর্ত

দোয়া কবুলের জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ও আদব আছে, নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে দোয়া করলে আশা করা যায় আল্লাহ তা কবুল করবেন। 

* রাতের শেষ তৃতীয়াংশের যদি দোয়া করা হয়, তাহলে তা কবুল হয়। হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ মহান সবচেয়ে কাছের আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকছো? আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার কাছে চাইছো? আমি তাকে তা দেব। কে আছো আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী’ আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। (মুসলিম)

* জুমার দিনের দোয়া কবুল করা হয়। হাদিসে এসেছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) আমাদের একদিন শুক্রবারে ফজিলত নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আলোচনায় সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যে সময়টায় যদি কোনও মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় পায় এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ মহান অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসূল (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টা সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। ’ (বুখারি)

* আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া কবুল হয়। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া করা হলে তা ফিরিয়ে দেয়া হয় না। ’ (তিরমিজি)

* সেজদারত অবস্থায় দোয়া করা হলে তা কবুল হয়- রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে সময়টাতে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটতম অবস্থায় থাকে তা হলো সেজদারত অবস্থা। সুতরাং তোমরা সে সময় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি চাও বা প্রার্থনা করো।’ (মুসলিম)

এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission