ফজর ও এশার নামাজ জামাতে পড়ার ফজিলত

ধর্ম ডেস্ক

রোববার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ , ১১:১১ পিএম


ফজর ও এশা
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নামাজ। এটি অন্যতম ফরজ ইবাদত। একজন মুমিনের জন্য দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে ফজর ও এশার নামাজের রয়েছে আলাদা গুরুত্ব। বিশেষ করে জামাতে নামাজ আদায় করার গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআনে ৮২ বার নামাজের কথা এসেছে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বলেন, আমি রাসুলকে (সা.) জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, যথাসময়ে সালাত আদায় করা। ইবনু মাসঊদ (রা.) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। ইবনু মাসঊদ (রা.) আবার জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? রাসুল (সা.) বললেন, এরপর আল্লাহর পথে জিহাদ বা জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২)

রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পেছনে তিনটি গিঁট দেয়। প্রতি গিঁটে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব, তুমি শুয়ে থাকো। তারপর সে যদি জেগে আল্লাহকে স্মরণ করে তাহলে একটি গিঁট খুলে যায়, অজু করলে আরেকটি গিঁট খুলে যায়, তারপর নামাজ পড়লে আরেকটি গিঁট খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয় উত্ফুল্ল মনে ও অনাবিল চিত্তে। না হলে সে সকালে ওঠে কলুষ কালিমা ও আলস্য নিয়ে।’ (বুখারি, হাদিস: ১১৪২)

একাকী নামাজ আদায় করার চেয়ে জামাতে আদায় করার গুরুত্ব অনেক বেশি। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, একাকী নামাজ আদায় করার চেয়ে জামাতে নামাজ আদায়ে ২৭ গুণ বেশি সওয়াব। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৫)

দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রথম ওয়াক্ত ফজর ও শেষ ওয়াক্ত এশার নামাজ জামাতে আদায় করলে বান্দার জন্য রয়েছে বিশেষ সওয়াব। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, মুনাফিকদের জন্য সবচাইতে ভারী সালাত হলো এশা ও ফজরের সালাত। তারা যদি এই দুই সালাতে কী মর্যাদা আছে জানতে পারতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এ দুই সালাতে উপস্থিত হতো। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৫৭)

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, মানুষ যদি আজান ও প্রথম কাতারের সাওয়াবের কথা জানতো এবং লটারি ছাড়া তা লাভের কোন উপায় না থাকত তবে তারা এর জন্য লটারি করত। যদি নামাজে দ্রুত মসজিদে উপস্থিত হওয়ার ফজিলত মানুষ জানতো, তবে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করতো। এশা ও ফজরের সওয়াব যদি তারা জানতো, তবে তারা এ দুই নামাজের জন্য হামাগুড়ি দিয়ে হলেও মসজিদে আসতো। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

আবদুর রহমান ইবনু আবূ আমরা (রহ.) বলেন, একদিন উসমান ইবনে আফফান (রা.) মাগরিবের নামাজের পর মসজিদে ঢুকে একা বসে ছিলেন। আমি তার কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি বললেন, ভাতিজা! আমি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এশার নামাজ জামাতের সাথে আদায় করল, সে যেন অর্ধরাত পর্যন্ত নামাজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করল সে যেন সারা রাত নামাজ আদায় করল। (সহিহ মুসলিম: ১৩৬৬)

হজরত আবু বকর ইবনে আবু মুসা (রা.) তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি দুই শীতের নামাজ (ফজর ও এশা) আদায় করবে; সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (বুখারি ৫৭৪)

আরটিভি/এফএ-টি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission