জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু।
সম্প্রতি একটি ঘরোয়া বৈঠকে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন করেন বেল জানা গেছে। নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষা মিশ্রিত ঢঙে রীতিমতো হাস্যরস করা ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেনী-২ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু। তাকে সমর্থন জানিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তেই জামায়াতের দীর্ঘদিনের ঘোষিত প্রার্থী লিয়াকত আলী ভূঞা মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
তবে ভিডিওতে জামায়াত এক প্রকারে যেচে গিয়ে এবি পার্টির সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা করতে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন ১১ দলের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু। একই সঙ্গে আগেভাগেই জামায়াতের প্রার্থী প্রত্যাহার নিয়েও হাস্যরস করেছেন তিনি।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, উনাদের (জামায়াত) ইন্টারেস্টে আমরা উনাদের সাথে আসছি। আমাদেরকে সহযোগিতা করা তো উনাদেরই নৈতিক দায়িত্ব। আমি তো উনার কাছে যেয়ে খুঁজুম না (খুঁজব না)। এ সময় অন্যরা তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
তিনি আরও বলেন, দুই নাম্বার হচ্ছে, উনারা একটা ভুল করছেন। উনারা যদি লিয়াকত সাহেবকে প্রার্থী হিসেবে রেখে দিতেন, তাইলে আজকে উনাদের কথা ছিল। উনারা তো লিয়াকত সাহেবের (মনোনয়ন) প্রত্যাহার করে ফেলছেন, আমাদের সাথে আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই। অন্তত আমি যদি কই, আমি ইলেকশন করতাইন্নো, তো উনাদের অবস্থা কী? এখন উনারা ভোট করবো কারে লই?
এদিকে, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে এবি পার্টির একটি জেলার পেজ থেকে দাবি করা হয়, গতকাল এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। এই মতবিনিময়ে অনানুষ্ঠানিক আলাপ করেন প্রায় ৪০ মিনিট। অনেকটা ঘরোয়া আলাপ। পরে শেষে এসে তিনি ফরমাল বক্তব্য রাখেন।
এক সাংবাদিক জামায়াতের নমিনেশন না দেয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন। তখন তিনি দীর্ঘ আলাপ করেন। তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, জামায়াত একটি সাংগঠনিক শক্তির রাজনৈতিক দল। এখানে ব্যক্তির চেয়ে সংগঠনকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। কিন্তু আমরা ব্যক্তিকেও প্রাধান্য দিতে চাই। এখন জামায়াত তাদের নমিনেশন দেয় নাই, এটাতো জামায়াতের সিদ্ধান্ত। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন যে, নির্বাচনের যাবতীয় দায়িত্ব আমাদের। আপনারা শুধু জয়েন করেন আমাদের জোটে।
এরপর তিনি বলেন যে-জামায়াত যে নমিনেশন দেয়নি এটাতো তাদের ভুল। এরজন্য তো আমরা দায়ী না। কারণ আমাদের জোটের আলাপ তো এখনো ফাইনাল হয় নাই। জামায়াতের উচিত ছিল নমিনেশন দেয়া। এখন আমরা যদি ভোট না করি, তাহলে জামায়াত কাকে ভোট দিবে? অর্থ্যাৎ নমিনেশন না দেয়াতে আমাদের কোন হাত নাই। তিনি এও বলেছেন- আমি জোটের নমিনেশন ঠিক করার কেউ না। আমি শুধু এটার পার্ট মাত্র। এখন সবাই আমাদের উপর মনেকষ্ট নিচ্ছেন, এতে আমাদের দোষ কোথায়? এরপর তিনি জোটের প্রয়োজনীয়তা এবং আগামীর রাজনীতির সংকট নিয়েও কথা বলেন।
দীর্ঘ প্রায় ১ ঘন্টার আলাপে আগে পরে তিনি এইকথাগুলো বলেন। কিন্তু পুরো আলাপের একটা ক্লিপ একটা নিউজ পোর্টাল ভাইরাল করার অপচেষ্টা করেছে। মঞ্জু বক্তব্যের শুরুতেই বলেছেন- এটা ইনফরমাল আলাপ, তোমরা কেউ ভিডিও করিও না। এখন আপনি আপনার বন্ধুদের সাথেও তো ইনফরমাল কথা বলেন। সব কথা যদি কোট করা হয়, তাহলে কি রাজনীতি বলে কোন কিছু থাকে? সবেচেয়ে বড় কথা হলো- তিনি পুরো ১ ঘন্টা আলাপে পুরো বিষয়টাকে ব্যাখ্যা করেছেন। আপনি যদি ২ মিনিটে পুরো বক্তব্য বুঝতে চান, তাহলে বলতে হবে এটা সুনিশ্চিত প্রোপাগান্ডা।
আমরা জামায়াত জোটের সবাইকে বলতে চাই, সামনে রাজনৈতিক একটি ক্রশিয়াল মোমেন্ট অপেক্ষা করছে। এই জোট শুধু নির্বাচনী জোটে শেষ হবে না বরং দীর্ঘমেয়াদী সংগ্রামে রাজপথে লড়াই করতে হবে। তাই সবাইকে রাজনৈতিক সহনশীল আচরনের অনুরোধ করছি।
আরটিভি/কেএইচ




