জামায়াত আমিরের ‘রহস্যময়’ পোস্ট

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৮:২৬ পিএম


জামায়ত আমিরের ‘রহস্যময়’ পোস্ট
ফাইল ছবি

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আর থাকল না। ইসলামী আন্দোলন জোটে না থাকার পাশাপাশি এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। এমন অবস্থায় ফেসবুকে এক ‘রহস্যময়’ পোস্ট দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। 

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ধৈর্যের পরীক্ষাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবাইকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন। আমিন। অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। তাহলে আল্লাহ তা’আলাও আপনার সম্মান বাড়িয়ে দেবেন, ইনশাআল্লাহ।

Capture

বিজ্ঞাপন

এর আগে, ইসলামী আন্দোলনের জন্য আসন ফাঁকা রেখে বৃহস্পতিবার আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করে ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। তবে, অনেক আলোচনা ও দেনদরবারের পরও আসন সমঝোতা নিয়ে জোটের সংবাদ সম্মেলনে আসেনি ইসলামী আন্দোলন। 

তখনই ধারণা করা হয়েছিল, দলটি হয়তো ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে আর থাকছে না। ২৪ ঘণ্টা না যেতেই শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে জোটে না থাকার পাশাপাশি এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন। একইসঙ্গে জামায়াতের সম্পর্কে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে দলটি। বিষয়টি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামায়াত।

বিজ্ঞাপন

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আসন সমঝোতা, রাজনৈতিক আলোচনা কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষকেই অসম্মান বা চাপ প্রয়োগ করা হয়নি; বরং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, বাস্তবতা ও সম্মান বজায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, মনোনয়ন দাখিলের পরও কিছু বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি থাকায় পর্যায়ক্রমে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে লিয়াজোঁ কমিটি মাঠের বাস্তবতা, দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অবস্থানসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে একাধিক জরিপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ প্রক্রিয়ায় আট থেকে দশটি জরিপ বিশ্লেষণ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, গত কয়েক দিনে দীর্ঘ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। আসন বণ্টন ছিল সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ফল, কাউকে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।
 
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সহানুভূতি জানাতেই ওই সাক্ষাৎ হয়েছিল। সেখানে জাতীয় সরকার গঠন বা এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। আলোচনার মূল বিষয় ছিল– বেগম জিয়া যে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন, তা নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে অব্যাহত রাখা।

জামায়াতের বিরুদ্ধে শরিয়া আইন চালুর অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিষয়টি বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও কূটনৈতিক প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে দলের আমির স্পষ্ট করে বলেছেন–বাংলাদেশের সংবিধান ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই দেশ পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে কোনো দ্ব্যর্থতা নেই।

ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ‘অসম্মানজনক’ আচরণের অভিযোগের বিষয়ে জুবায়ের বলেন, সংশ্লিষ্ট নেতার অসুস্থতা ও ভুলে যাওয়ার কারণে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে যে কষ্ট হয়েছে, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। মানুষ হিসেবে এ ধরনের ভুল হতে পারে। এর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। একে অবজ্ঞা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে সরে দাঁড়ালেও আলোচনার পথ এখনও খোলা আছে। রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের এখনও সময় বাকি। লিয়াজোঁ কমিটি ও শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

আরটিভি/আরএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission