ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

এমপিদের গাড়ি বিলাস নিয়ে তাসনিম জারার কড়া সমালোচনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১০ পিএম
ডা. তাসনিম জারা। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এনসিপি নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপিদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির দাবি জানিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এ ধরনের দাবি উঠায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়। বিষয়টিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক এনসিপি নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।

বুধবার (২২ এপ্রিল) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এমপিদের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। যখন শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স ও সরকারি কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধি ও ন্যায্য দাবির জন্য রাজপথে দিনের পর দিন আন্দোলন করছেন, তখন এমপিরা সংসদে নিজেদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্যস্ত।

আরও পড়ুন

জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানে দীর্ঘসূত্রতা দেখা গেলেও এমপিদের গাড়ি বা অফিসের দাবির প্রশ্নে সরকারি ও বিরোধী দল মুহূর্তের মধ্যে একমত হয়ে যায়।

জারা উল্লেখ করেন, পৃথিবীর কোনো পেশার মানুষ নিজের বেতন বা সুযোগ-সুবিধা নিজে নির্ধারণ করে না। এমপিদের বেতন জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে আসে, তাই এটি তারা নিজেরা নির্ধারণ করা নীতিগতভাবে ভুল। তার মতে, এমপিরা জনগণের সেবক। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় জনগণের সমস্যার চেয়ে এমপিদের নিজস্ব প্রাপ্তির হিসাবই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এমপিরা সংসদে গিয়েছেন জনগণের সমস্যার সমাধান করতে, নিজেদের প্রাপ্তির হিসাব কষতে না। যখন একজন শিক্ষক ছয় মাস আন্দোলন করেও সাড়া পান না, কিন্তু এমপিদের সুবিধার সিদ্ধান্ত কয়েক দিনেই হয়ে যায়, তখন পরিষ্কার হয়ে যায় এই ব্যবস্থায় আসলে কার স্বার্থ গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. তাসনিম জারা মনে করেন, এমপিদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের জন্য একটি নিরপেক্ষ কাঠামো থাকা প্রয়োজন। জনসেবার দোহাই দিয়ে জনগণের করের টাকায় নিজেদের বিলাসিতা নিশ্চিত করাকে তিনি অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন।

এর সমাধান হিসেবে জারা বলেন, একটা স্বাধীন কমিটি গঠন করুন, যারা এমপিদের ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করবে।
এই কমিটি কী করবে? প্রথমত, অন্যান্য পেশার সাথে তুলনা করে দেখবে। একজন এমপির দায়িত্ব কী, সময় কতটুকু দিতে হয়, ঝুঁকি কেমন, যোগ্যতা কী লাগে। এগুলো বিবেচনা করে দেখবে তার প্রাপ্য আসলে কতটুকু হওয়া উচিত। একজন জেলা জজ, একজন সচিব, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, একজন হাসপাতালের কনসালট্যান্ট। এদের সাথে তুলনা করে একটা যৌক্তিক অবস্থান বের করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, কমিটি দেখবে সুযোগ-সুবিধাগুলো আজকের বাস্তবতায় প্রাসঙ্গিক কিনা। অনেক ভাতা বা সুবিধা হয়তো কোনো এক সময়ে যুক্তিসঙ্গত ছিল, কিন্তু আজকের দিনে তার আর কোনো ভিত্তি নেই। আবার কিছু নতুন চাহিদা হয়তো তৈরি হয়েছে, যেগুলো এখনো স্বীকৃত হয়নি।

এই কমিটির কাজ শুধু সুধিবা বাড়ানো বা শুধু সুবিধা কাটছাঁট করা না। হতে পারে কিছু ক্ষেত্রে এমপিদের প্রাপ্যতা আসলেই অপ্রতুল। একজন প্রত্যন্ত এলাকার এমপিকে যে পরিমাণ যাতায়াত করতে হয়, যে পরিমাণ মানুষের সাথে দেখা করতে হয়, সেই হিসেবে তার সহায়তা তহবিল বা অফিস সুবিধা হয়তো বাড়ানো দরকার।
আবার কিছু সুবিধা, যেমন শুল্কমুক্ত বিলাসবহুল গাড়ি, হয়তো আজকের দিনে যৌক্তিকতা হারিয়েছে। সেগুলো ছাঁটাই হোক। মোদ্দা কথা, কোনটা বাড়বে কোনটা কমবে, সেটা নিরপেক্ষ বিচারে ঠিক হোক। এমপিরা নিজেরা এই সিদ্ধান্ত নেবেন না। নেবে স্বাধীন কমিটি।

এনসিপির সাবেক এই নেত্রী বলেন, এই কমিটিতে কারা থাকবেন সেটা আলাদা আলোচনার বিষয়, এবং সেই আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে মূল নীতি হচ্ছে বিচারক, অর্থনীতিবিদ, প্রশাসন বিশেষজ্ঞ, সুশাসন সংস্থার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও থাকতে হবে। একজন সরকারি স্কুলশিক্ষক, একজন নার্স, একজন ছোট ব্যবসায়ী থাকতে পারেন। কারণ এমপিদের সুযোগ-সুবিধা শেষ পর্যন্ত একটা অনুপাতের প্রশ্ন। সাধারণ বাংলাদেশির জীবনমানের সাথে তাঁদের প্রাপ্যতার অনুপাত। সেই অনুপাত বোঝার জন্য ঘরে এমন মানুষ দরকার, যারা সেই জীবনটা যাপন করেন।

এমপিদের নিজেদেরই এই প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এটা আপনাদের মর্যাদার প্রশ্ন। জাতির সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বেতন নিজে ঠিক করা একটা অস্বস্তিকর বিষয়। যেটা থেকে বের হয়ে আসা আপনাদের নিজেদের স্বার্থেই প্রয়োজন।

আরটিভি/এমআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাদেক হোসেন খোকার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সাবেক মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
সাদেক হোসেন খোকার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি, বিদায় বাংলাদেশ: আসিফ মাহমুদ
ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।  মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিনগত রাত ১২টা দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি। বিদায় বাংলাদেশ!’ ওই পোস্টে বিমানের ভেতরে অবস্থান করা একটি ছবিও যুক্ত করেন তিনি। ছবিতে আসিফের সঙ্গে রয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তবে তারা কোথায় যাচ্ছেন সেটি উল্লেখ করেননি পোস্টে। এদিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পোস্টে ৯০ হাজার রিয়্যাকশন পড়েছে। সাড়ে ৪ হাজার নেটিজেন বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। দুই শতাধিক ব্যক্তি পোস্টটি শেয়ার করেছেন। আরটিভি/এসআর 
আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি, বিদায় বাংলাদেশ: আসিফ মাহমুদ
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে চীনা মন্ত্রীর শ্রদ্ধা 
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশে সফররত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে চীনা মন্ত্রীর শ্রদ্ধা 
‘সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দিয়ে পালিয়ে যাবে’
সরকারকে উদ্দেশ্য করে  বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, ওই সাপই একদিন ছোবল দিবে। ছোবল দিয়ে সাপ কিন্তু পালিয়ে যাবে। কিন্তু পড়ে থাকবে আপনাদের লাশ।
‘সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দিয়ে পালিয়ে যাবে’
পোশাক শ্রমিক আন্দোলন, নাশকতা ঠেকাতে মাঠে যুবদল
পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে রাজধানীর মিরপুরে বেশ কয়েকটি নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে যুবদলের নেতাকর্মীরা।  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে সোমবার (০২ নভেম্বর) রাস্তায় যুবদলের অবস্থান দেখা যায়। মঙ্গলবারও (০৩ নভেম্বর) সেই অবস্থানেই আছেন তারা।    মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে মিরপুর ১২ নম্বর থেকে ১০ নম্বর গোলচত্বরে অভিমুখে নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে মিছিল করেন যুবদল নেতাকর্মীরা। এ সময় সরকারের পক্ষে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের। পরে মিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেন তারা।    ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আইয়ুব আলী বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে আগের তিন বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই আন্দোলন শুরু হলো! একইসঙ্গে শুরু হলো ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ। এ ঘটনাগুলো কোনো অবস্থাতেই শ্রমিকদের হতে পারে না।  তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন করা। সেই দাবি মেনে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। দ্রুতই তাদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা হবে। কিন্তু সব দাবি মেনে নেওয়ার পরও এখনও কেন অবরোধ-সহিংসতা হচ্ছে?  ‘এখনও কেন জনমনে আতংক সৃষ্টি এবং দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হচ্ছে? এটা স্পষ্ট যে, এখন যারা আন্দোলন করছে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। শ্রমিকদের আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রমিকদের ছদ্মবেশে সহিংস কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।’ যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য শাহিনুজ্জামান মিন্টু বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা নাশকতা আমরা সমর্থন করি না। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছি। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আমিনুল হক হিমেল, মনিরুল ইসলাম মনির, জুলহাজ আহমেদ, সাবেক সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, কামরুল ইসলামসহ যুবদলের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
পোশাক শ্রমিক আন্দোলন, নাশকতা ঠেকাতে মাঠে যুবদল
আরও পড়ুন
ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে একদিনে ২ হাজারের বেশি মামলা
২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় ৫৪৭ জন ধরা
পুলিশের ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় গ্রেপ্তার ৫৪৯
নতুন দুই এমপির শপথ দুপুরে