বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ে আবারও ছাত্রশিবির পুরোনো গুপ্ত-মুনাফেকি ও প্রতারণার রাজনীতি শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
রোববার (১৭ মে) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ মন্তব্য করেন তিনি।
আরটিভির পাঠকদের জন্য পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো—
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মানোন্নয়ন, একাডেমিক পরিবেশ পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু এই ইতিবাচক পরিবর্তনই গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছাত্রশিবিরের জন্য। কারণ, যেসব উপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের অধিকাংশই ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং প্রকাশ্যে কিংবা নেপথ্যে জামায়াতপন্থী মতাদর্শের ধারক।
এই জামায়াতপন্থী প্রশাসনকে ব্যবহার করেই ছাত্রশিবির দীর্ঘদিন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুপ্ত রাজনীতি ,মব সন্ত্রাস, ভয়ভীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, সিন্ডিকেট ও নিজেদের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এখন সেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ে তারা আবারও শুরু করেছে পুরোনো মুনাফেকি ও প্রতারণার রাজনীতি।
নবনিযুক্ত উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে শিবির তাদের পরিচালিত ফেইক পেজ ও গোপন প্রোপাগান্ডা সেল ব্যবহার করছে। কোথাও মিথ্যাচার, কোথাও বিভ্রান্তি, কোথাও আবার সরাসরি যোগদানে বাধা—এটাই তাদের চেনা চরিত্র। মুখে তারা “সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার” এর কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে তারা চায় ক্যাম্পাসে আবারও গুপ্ত রাজনীতি ,ভয়, সহিংসতা ও গোপন নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে “যোগ্যতা নেই” বলে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, সেটি শুধু হাস্যকরই নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একজন ব্যক্তি যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএসডব্লিউআর থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, সুইডেনের University of Gothenburg থেকে আন্তর্জাতিক মাস্টার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন—তাঁকে অযোগ্য বলার দুঃসাহস কেবল মিথ্যাচারনির্ভর রাজনীতির পক্ষেই সম্ভব।
একইভাবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিরুদ্ধেও ছাত্রশিবির অপতৎপরতা চালাচ্ছে। অথচ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া বহু বছরের স্বাভাবিক ও স্বীকৃত প্রক্রিয়া। কিন্তু শিবিরের সমস্যা নিয়মে নয়—সমস্যা হলো, তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কেউ প্রশাসনে আসুক, সেটা তারা মানতে পারে না।
আজ ডুয়েটে নবনিযুক্ত উপাচার্যের যোগদান ঠেকাতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা যে সহিংস হামলা চালিয়েছে, তা আবারও প্রমাণ করেছে—তারা আদর্শের রাজনীতি নয়, সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। এরা প্রকাশ্যে নৈতিকতার কথা বলে, আর আড়ালে ক্যাম্পাসে মব তৈরি করে, গুজব ছড়ায়, হামলা চালায়—এটাই তাদের মুনাফেকি রাজনীতির আসল চেহারা।
শিক্ষাঙ্গনকে আর কোনো গোপন এজেন্ডাধারী অপশক্তির হাতে জিম্মি হতে দেওয়া হবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, মিথ্যাচার ও শিবিরের প্রতারণামূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে অতীতের মতো আজও রাজপথে সোচ্চার থাকবে।
আরটিভি/এসআর



