জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ করে শেখ হাসিনার চিঠি

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ , ০৬:৩৩ পিএম


জাতিসংঘের প্রকাশিত নিহতের সংখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করে শেখ হাসিনার চিঠি
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে তথ্য প্রকাশ করেছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় ‘ওএইচসিএইচআর’। এ তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ‘অত্যন্ত ভুল’ বলে চ্যালেঞ্জ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (২৯ মে) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের আইনজীবী স্টিভেন পাউলস কেসির মাধ্যমে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ককে শেখ হাসিনা একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন।

গত ২৮ মে পাঠানো ওই চিঠিতে পাউলস দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টে ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর। 

চিঠিতে বলা হয়, এমনকি খোদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গত ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫-এ প্রকাশিত অফিসিয়াল গেজেটেও নিহতের সংখ্যা ৮৩৪ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা জাতিসংঘের দাবিকৃত সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিজস্ব হিসেবে এই সংখ্যা ছিল ৬৫০ জন।

জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট নিয়ে আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই এসব দাবি করে আসছে। এনডিটিভির খবরে স্টিভেন পাউলস কেসি নামে যে আইনজীবীর কথা বলা হয়েছে এবং যে চিঠির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে তা কালবেলা যাচাই করতে পারেনি। তবে এনডিটিভি লিখেছে, তারা চিঠিটি সংগ্রহের পর যাচাই করেছে।

অন্যদিকে এই ধরনের চিঠি জাতিসংঘ কতটা আমলে নিতে পারে বা তাদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, সে বিষয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।

পাউলস কেসি এবং তার চেম্বার বাংলাদেশের ২০২৪ পরবর্তী সহিংসতা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের অভিযোগ নিয়ে আইসিসি ও জাতিসংঘে আগেও আবেদন করেছেন। সেই আবেদন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়। তার আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে দেশে সমালোচনাও হয়েছিলো।

শেখ হাসিনার আইনি দলের অভিযোগ, এই অতিরঞ্জিত নিহতের সংখ্যাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, এই সংখ্যাকে বড় করে দেখিয়ে শেখ হাসিনাকে একজন ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা তার সরকার উৎখাতের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান অজুহাত ছিল।

পাউলস তার চিঠিতে জাতিসংঘের এই তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এই তদন্তটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমন্ত্রণে পরিচালিত হয়েছিল।

চিঠিতে ড. ইউনূসের পূর্বের একটি মন্তব্যকে উদ্ধৃত করা হয় যেখানে তিনি আন্দোলনটিকে একটি সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল অপারেশন হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

আইনজীবীর মতে, এমন একটি সরকারের অধীনে পরিচালিত তদন্ত নিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব নয়, যাদের বিরুদ্ধে খোদ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ ট্রাইব্যুনাল তাকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। শেখ হাসিনার আইনজীবীরা শুরু থেকেই এই বিচার প্রক্রিয়াকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে আসছেন।

চিঠির শেষ অংশে পাউলস জাতিসংঘকে এই ‘ভুল তথ্য’ সংশোধন করে একটি প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে জাতিসংঘ কোনো ‘মিথ্যা বয়ান’ প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত না হয়। এখন পর্যন্ত ওএইচসিএইচআর এই চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission