বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান অভিযোগ করেছেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া ও মারধর করেছেন। তবে ছাত্রদল অভিযোগটি ‘ভাইরাল হওয়ার অপচেষ্টা’ ও ‘সাজানো নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় কোনো মামলা না হলেও পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্তাধীন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ জুন। সেদিন মাহদী হাসান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লাইভে এসে দাবি করেন, শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকা থেকে ড্রাইভিং পরীক্ষা শেষে ফেরার পথে বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সামনে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে ধাওয়া করেন। পরে তিনি লাইভ চালু রেখেই হবিগঞ্জ সদর থানায় আশ্রয় নেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান।
মাহদীর অভিযোগ, পরদিন ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জমা দিতে গেলে ফের হামলার শিকার হন তিনি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে একদল যুবক তার পথরোধ করে মারধর করেন বলে দাবি তার। পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মাহদী হাসান দাবি করেন, বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ, মুজাক্কির হোসেন ইমন, রক্সিসহ ১৫ থেকে ২০ জন তার ওপর হামলায় অংশ নেন। প্রয়োজনীয় ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের পর আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে হামলার অভিযোগের বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, প্রথম ঘটনায় মাহদী হাসান থানায় এসে ধাওয়ার অভিযোগ করলেও তার ফেসবুক লাইভে কাউকে দেখা যায়নি। তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মারধরের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ এবং যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত তদন্তে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি।
অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ লিংকন অভিযোগকে সরাসরি নাকচ করে বলেন, মাহদীর ফেসবুক লাইভেই অভিযোগের অসাড়তা স্পষ্ট হয়েছে। তার দাবি করা লাইভ ভিডিওতে ধাওয়ার কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগকে তিনি ‘ভাইরাল হওয়ার অপচেষ্টা’ এবং ‘সাজানো নাটক’ বলে মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এ ঘটনাকে ঘিরে জেলায় নানা আলোচনা তৈরি হলেও অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
আরটিভি/এসএস



