ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

উন্নয়নে \'চীনা মডেল\' দারুণ অনুপ্রেরণা হতে পারে: ছাত্রদল নেত্রী নওরীন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
জান্নাতুল নওরীন উর্মি। ছবি: সৌজন্য

চীন সরকারের আমন্ত্রণে সম্প্রতি বিএনপির ২০ তরুণের একটি প্রতিনিধি দল দেশটি সফরে যায়। এই দলে ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসম্পাদক জান্নাতুল নওরীন উর্মি। সফর শেষে দেশে ফিরে আরটিভি অনলাইনের মুখোমুখি হন তিনি; শেয়ার করেন এই বিশেষ সফরের অভিজ্ঞতার কথা।

১. চীনের উন্নয়নের কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে?

উর্মি: চীনের নগর পরিকল্পনা, বিশেষ করে Planning Exhibition Hall-এ প্রদর্শিত দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত পরিকল্পনা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। সেখানে শুধু ভবিষ্যতের শহরের নকশা নয়, বরং পরিবেশ, পরিবহন, আবাসন ও শিল্পায়নের একটি সমন্বিত রূপ দেখানো হয়। এটি চীনের উন্নয়নের পেছনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিকল্পনার প্রতি তাদের আস্থা ও দূরদৃষ্টিকে প্রকাশ করে।

২. বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় চীনের কোন অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে?

উর্মি: Waste-to-Energy বা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন মডেল বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে। Chongqing Sanfeng Environment Group-এর প্ল্যান্ট দেখে স্পষ্ট হয়েছে যে, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্য কেবল পরিবেশের জন্য বোঝা নয়, বরং বিদ্যুৎ ও সম্পদের উৎস হতে পারে। এই অভিজ্ঞতা জানিয়েছে, প্রথাগত ল্যান্ডফিলের পরিবর্তে উন্নত ইনসিনারেটর ও ফ্লু-গ্যাস ক্লিনিং সিস্টেম ব্যবহার করলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরের বর্জ্য সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা পরিবেশ দূষণ কমাবে এবং ল্যান্ডফিলের প্রয়োজনীয়তা ৯০% পর্যন্ত কমাতে পারে।

8ae93b92-1e56

৩. বাংলাদেশ AI বিপ্লবে পিছিয়ে পড়া এড়াতে কী করতে পারে?

উর্মি: প্রথমত, সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় AI কৌশল প্রণয়ন করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে, যেমন চংকিং রোবট এআই অ্যাপ্লিকেশন ডেমনস্ট্রেশন সেন্টার বা সাংহাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIAIR)-এর মতো প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা। এই সফর আমাদের দেখিয়েছে যে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিল্পে AI-এর বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে হবে। প্রযুক্তি বিনিময় ও দক্ষতা উন্নয়নে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন

৪. বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়নে চীনের কোন অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করা সম্ভব?

উর্মি: Minzhu গ্রামের নারীকেন্দ্রিক উদ্যোগ ও টেকসই উন্নয়ন মডেল বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য দারুণ অনুপ্রেরণা। সেখানে ৪৬% নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্টার্টআপে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল, যা গ্রামের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত অবস্থার আমূল পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশেও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নারীদের জন্য জৈব সার উৎপাদন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প স্থাপন করা যেতে পারে। গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনের এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখতে পারি কিভাবে নারীদের সঠিক সুযোগ ও প্রশিক্ষণ দিলে তারা সমগ্র গ্রামকে টেকসই উন্নয়নের পথে পরিচালিত করতে পারে।

6683d9d6

৫. আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ কোন চীনা মডেল অনুসরণ করলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে?

উর্মি: আমার মতে, শিল্পের সঙ্গে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও তরুণদের সম্পৃক্ত করার সমন্বিত মডেলটি সবচেয়ে ফলপ্রসূ। যেমন Urban Planning Exhibition Hall, Financial Center-এ তরুণদের ইন্টার্ন উদ্যোক্তা হিসেবে সম্পৃক্ত করা এবং Humanoid Robot Incubator-এর মতো উদ্যোগ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শিল্পের এই সংযোগ বাংলাদেশকে উচ্চ প্রযুক্তির অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করবে।

৬. ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও গণপরিবহনে চীনের কোন মডেল বাংলাদেশ অনুসরণ করতে পারে?

উর্মি: AI, বিগ ডাটা এবং স্মার্ট গভর্নেন্স ভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা মডেলটি বাংলাদেশের জন্য খুবই কার্যকরী হতে পারে। সাংহাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIAIR)-এ দেখেছি কিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডাটা এনালাইটিক্স ব্যবহার করে ট্রাফিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, যানজট কমানো এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ করা যায়। বাংলাদেশও এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার শহরগুলোকে স্মার্ট ও টেকসই করতে পারে।

9d0c4a

৭. তরুণদের জন্য চীনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী?

উর্মি: তরুণদের জন্য চীনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যে বিনিয়োগ, পরিশ্রম ও নৈতিক নাগরিক হওয়ার গুরুত্ব। সাংহাই চিন উ অ্যাথলেটিক ফেডারেশন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝতে পেরেছি যে, ‘শারীরিক, বৌদ্ধিক ও নৈতিক’ (体、智、德) শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া একটি জাতিকে কীভাবে শক্তিশালী করে তোলে। ‘শরীর শক্তিশালী করো, জাতি ও জনগণকে শক্তিশালী করো’ এই প্রতিপাদ্য আমাদের তরুণদের কেবল পড়াশোনা নয়, শারীরিক ও নৈতিক গঠনেও মনোযোগ দেওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। এই কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ বাংলাদেশেও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

৮. বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা আপনি কীভাবে দেখছেন। সম্পর্ক জোরদারে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে?

উর্মি: বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। বর্তমানে সম্পর্কটি ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত হয়েছে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ ও টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। সম্পর্ক জোরদারে নিম্নলিখিত উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

d83c932b-555

উচ্চ প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো: চট্টগ্রামের চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, সৌর ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বাণিজ্য ভারসাম্য ও বৈচিত্র্য আনা: চীনের বাজারে আরও বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও মূল্য সংযোজিত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো যায়।

তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার: ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর জন্য এই সফরের মতো তরুণ প্রতিনিধি বিনিময় কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে।

7c1f97e8-2

৯. চীনের উন্নয়নের পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি কী- দূরদর্শী নেতৃত্ব, পরিকল্পনা, প্রযুক্তি নাকি মানবসম্পদ? বিশ্ববিদ্যালগুলোর ভূমিকা কতটা জোরালো?

উর্মি: আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই চারটি উপাদানের সমন্বয়ই চীনের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি, তবে দূরদর্শী নেতৃত্ব ও পরিকল্পনাকে আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। এই নেতৃত্বই প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের পথ তৈরি করে দেয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অত্যন্ত জোরালো। তারা শুধু শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও গবেষণায় দক্ষ করে তোলে না, বরং শিল্পের সঙ্গে সংযোগ তৈরির মাধ্যমে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে, যেমনটি রোবটিক্স ও AI কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে।

১০. এই সফর শেষে বাংলাদেশে কোন পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দেখতে চান? নীতিনির্ধারকদের জন্য চীনের তিনটি বিষয় গ্রহণের পরামর্শ যদি দিতে বলা হয়...

উর্মি: এই সফর শেষে আমি তরুণ সমাজের মধ্যে একটি ‘উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের’ মানসিকতার পরিবর্তন দেখতে চাই, যেখানে তারা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, উদ্যোক্তা ও সমস্যার সমাধানকারী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে।

53b9ce26

নীতিনির্ধারকদের জন্য চীনের তিনটি বিষয় গ্রহণের পরামর্শ:

১. বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও সম্পদ উৎপাদন মডেল (Waste-to-Energy): বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যা সমাধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের জন্য Chongqing Sanfeng-এর মতো কারখানা স্থাপন করা। এটি ল্যান্ডফিলের চাপ কমাবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা করবে।

২. শিল্প-শিক্ষা-গবেষণার সমন্বয় (Industry-Academia-Research Collaboration): তরুণদের AI, রোবোটিক্স ও উচ্চপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে এবং চাকরির বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের মধ্যে ইন্টার্নশিপ ও উদ্ভাবন কেন্দ্র গড়ে তোলা ।

৩. গ্রামীণ নারীকেন্দ্রিক টেকসই উদ্যোগ (Rural Women-led Sustainable Initiatives): Minzhu গ্রামের আদলে গ্রামীণ নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশ উভয়েরই উন্নতি ঘটাবে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রামে বিএনপির লিফলেট বিতরণ
দেশব্যাপী ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগরীতে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রামে বিএনপির লিফলেট বিতরণ
পরিকল্পিত নাশকতা, ভাঙচুর ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রীপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবির আন্দোলনের সুযোগে শ্রমিকদের সঙ্গে ‘ছদ্মবেশে’ পরিকল্পিত নাশকতা, ভাঙচুর নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গাজীপুরের শ্রীপুরে বিক্ষোভ করেছে শ্রীপুর পৌর ছাত্রদল।
পরিকল্পিত নাশকতা, ভাঙচুর ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রীপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে ড. খন্দকার মোশাররফ
চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে ড. খন্দকার মোশাররফ
‘টানা ৩ মাস রাজপথ পাহারা দিতে হবে’
নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি টানা তিন মাস রাজপথে পাহারা দেওয়ার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
‘টানা ৩ মাস রাজপথ পাহারা দিতে হবে’
নতুন আমির পেল জামায়াতের ২৭ জেলা ও মহানগর শাখা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি জেলা ও মহানগর শাখার আমিরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি জেলা ও মহানগর শাখায় নতুন আমির নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি শাখাগুলোতে আগের আমিররাই পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।
নতুন আমির পেল জামায়াতের ২৭ জেলা ও মহানগর শাখা
আরও পড়ুন
‘গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ৫২টি নতুন কূপ খনন করবে সরকার’
অনলাইনে বিয়ের দাওয়াত এতিম তরুণের, হাজির ১০ হাজারের বেশি অতিথি!
বাংলাদেশে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
চবিতে ছাত্রদল নেতার অবৈধ দোকানের সংবাদে ছবি প্রকাশ নিয়ে সাংবাদিকের নামে জিডি