ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

৫ বছরে আগে রিসোর্টে নিজের ‘মুতা বিয়ে’ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মামুনুল হক

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক । ফাইল ছবি

পাঁচ বছর পর নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের বহুল আলোচিত ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তার দাবি, ‘৫০১’ ছিল ফ্যাসিবাদী হাসিনার ব্যর্থ প্রজেক্ট এবং ওই ঘটনার মাধ্যমে তাকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

শনিবার (২০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক জানান, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল তিনি তার স্ত্রী জান্নাত আরা (ঝর্ণা) কে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সে সময় পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী, সাংবাদিক ও অন্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে ও তার স্ত্রীকে হেনস্তা করে। রিসোর্টের রিসেপশন থেকে জানানো হয় যে পুরো রিসোর্ট পুলিশ ঘিরে ফেলেছে। কক্ষের দরজা খোলার পর অনেকেই জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার শুরু করে। এমনকি তাকে এবং তার স্ত্রীকে নানান উপায়ে হেনস্তা করা হয়। পরিস্থিতি থেকে স্ত্রীকে রক্ষা করতে তাকে ওয়াশরুমে রাখেন। পরে নারী পুলিশ সদস্য এসে ওয়াশরুমে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকেও লাইভ সম্প্রচার চালান।

তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি এবং জান্নাত আরা উভয়েই নিজেদের বৈবাহিক সম্পর্কের কথা স্পষ্টভাবে জানান এবং সেটি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিতও হয়। তার দাবি, প্রথমে পুলিশ তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। পরে এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তথ্য যাচাইয়ের জন্য ফোনটি ফেরত দেন এবং পরিচিতজনদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত হন। তবে পরে ডিজিএফআই কর্মকর্তারা এসে তাদের থানায় নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আরও দাবি করেন, রিসোর্টের বাইরে তখন হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। তিনি তাদের শান্ত করেন এবং পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তার ফেসবুক আইডির লাইভ সুবিধা প্রযুক্তিগতভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

জান্নাত আরার সঙ্গে বিয়ে প্রসঙ্গে ফেসবুকে তিনি উল্লেখ করেন, জান্নাত আরা আগে তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে পারস্পরিক সম্মতিতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

তার দাবি, বিবাহবিচ্ছেদের পর জান্নাত আরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং একপর্যায়ে তিনি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে তিনি আগে থেকেই জানিয়ে দেন যে ইসলাম অনুযায়ী একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা রক্ষার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। এরপর জান্নাত আরা সম্মতি দিলে শরিয়ত অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে তিনি দাবি করেন।

বিয়ের পর জান্নাত আরাকে একটি কোরআন শিক্ষাকেন্দ্রে ভর্তি করিয়ে দেন এবং পরে তিনি সেলাই ও নারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কাজে যুক্ত হন বলেও উল্লেখ করেন মাওলানা মামুনুল হক।

বিয়ে গোপন রাখার কারণ হিসেবে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, উপমহাদেশে একাধিক বিয়ে সামাজিকভাবে জটিল বিষয়। তাই প্রথম পরিবারে অস্থিরতা তৈরি করতে চাননি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় আইনে প্রথম স্ত্রীর অনুমতির বিষয়টিও জটিলতা সৃষ্টি করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার দাবি, ইসলামে কাবিন বাধ্যতামূলক নয় এবং তার প্রথম বিয়েতেও কাবিন হয়নি। তবে তার একাধিক বিয়ের বিষয়টি ঘনিষ্ঠজনেরা জানতেন বলে তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন

রিসোর্টে অন্য নাম ব্যবহারের ব্যাখ্যা

পোস্টে মাওলানা মামুনুল হক জানান, তার পরিচয়পত্রে প্রথম স্ত্রী আমিনা তাইয়েবার নাম ছিল। অন্যদিকে জান্নাত আরার পরিচয়পত্রে তার সাবেক স্বামী শহিদুল ইসলামের নাম ছিল। এ কারণে তারা আলোচনার ভিত্তিতে প্রথম স্ত্রীর নাম ব্যবহার করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

প্রথম স্ত্রীকে ফোনে শহিদুল ইসলামের স্ত্রী বলে পরিচয় দেওয়ার বিষয়েও তিনি ব্যাখ্যা দেন। তার ভাষ্য, প্রথম স্ত্রী আগে থেকেই জান্নাত আরাকে শহিদুল ইসলামের স্ত্রী হিসেবে চিনতেন। তাই বিষয়টি শান্তভাবে উপস্থাপনের জন্য তিনি সেই পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির প্রশ্ন তোলেন, তিনি বা জান্নাত আরা কোনো আইন ভঙ্গ করেছিলেন কি না? তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যক্তিগত কল রেকর্ড ফাঁস করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তার দাবি, তিনি রাষ্ট্রীয় আইন কিংবা শরিয়তের আইন কোনোটিই লঙ্ঘন করেননি। তারপরও তাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ

পোস্টে মামুনুল হক দাবি করেন, রিসোর্ট ঘটনার পর তৎকালীন এনএসআই মহাপরিচালক তার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাকে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন বলে দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জান্নাত আরা, তার বাবা, সাবেক স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। জান্নাত আরাকে দীর্ঘ সময় হেফাজতে রাখা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

আদালত ও সাক্ষ্য প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, জান্নাত আরার ছেলে আব্দুর রহমানকে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। তবে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেন বলে দাবি করেন। এতে সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

‘মুতা বিয়ে’ প্রসঙ্গে ফেসবুকে মামুনুল হক জানান, তার বিরুদ্ধে ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’, ‘সাময়িক বিয়ে’ বা ‘মুতা বিয়ে’র যে অভিযোগ প্রচার করা হয়েছিল তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, জান্নাত আরার সঙ্গে তার বিয়ে ছিল শরিয়তসম্মত ইসলামি বিয়ে।

জান্নাত আরার বর্তমান অবস্থান প্রসঙ্গে মামুনুল হক জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। তবে ২০২১ সালের ঘটনার পর বিভিন্ন মনোমালিন্যের কারণে আলোচনার মাধ্যমে ২০২৫ সালের মার্চে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

তিনি দাবি করেন, বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত এবং নিজের কারাবাসকালেও জান্নাত আরার ভরণপোষণসহ প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন।

দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে চরিত্র হননের অভিযোগ তুলে মামুনুল হক দাবি করেন, রাজনৈতিক ও আদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে তার বিরুদ্ধে চরিত্রহননের চেষ্টা হয়েছে। আদালতেও তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, বিভিন্ন সময় তাকে দিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে কিংবা আল্লামা বাবুনগরীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি তাতে রাজি হননি।

পোস্টের একটি বড় অংশে মামুনুল হক হজরত আয়েশা (রা.)-এর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনার ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, কুৎসা রটনাকারীদের কথা বলে সত্যকে আড়াল করা যায় না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে নিজের সঙ্গে হযরত আয়েশা (রা.)-এর কোনও তুলনা করছেন না, বরং ঘটনাটি থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন।

মাওলানা মামুনুল হক দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে প্রচারণা ছিল তৎকালীন সরকারের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রকল্পের অংশ। তিনি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অতীতে পরিচালিত চরিত্রহননের প্রচারণার উদাহরণও টানেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে ইসলামপন্থি কিছু ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন।

পোস্টের এক পর্যায়ে পবিত্র কোরআনের সূরা আল ইমরানের ৬১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি ‘মুবাহালা’র আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তার বক্তব্যকে মিথ্যা প্রমাণ করতে চাইলে যে কেউ তার সঙ্গে এ ধরনের চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে পারেন।

‘৫০১’ কে বিজয়ের প্রতীক ঘোষণা

মামুনুল হক জানান, ‘৫০১ তার কাছে কোনও নেতিবাচক বিষয় নয়। বরং এটি তার ভাষায় ‌‌‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের পরাজয়ের দলিল। ৫০১ কে তারা বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করছেন এবং ভবিষ্যতে এটি উদযাপন করবেন। যেখানে এ প্রসঙ্গ উত্থাপিত হবে, সেখানে ‘৫০১’-এর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস
দ্বিতীয় দফায় মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে তার সহধর্মিনী আফরোজা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন।  গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার সহকারী একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল। তিনি জানান, মির্জা আব্বাস এখন অনেকটাই সুস্থ। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফলোআপ চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তারও আগে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন মির্জা আব্বাস। গত ১১ মার্চ ইফতারের সময়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাকে রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার মস্তিষ্কে রক্তঃক্ষরণ হয়েছে। পরে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে দেড় মাস চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় প্রিন্স কোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আরটিভি/টিআর
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস
‘পরাজিত ফ্যাসিবাদের দোসররা বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন’
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতনের শিকার অসহায় নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
‘পরাজিত ফ্যাসিবাদের দোসররা বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন’
কোনো ফ্যাসিস্টের জায়গা বাংলাদেশে হবে না: আমানউল্লাহ আমান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান বলেছেন, কোনো ফ্যাসিস্টের জায়গা বাংলাদেশে হবে না। যেখানেই ফ্যাসিস্টদের ছায়া দেখা যাবে, সেখানেই প্রশাসনকে অবহিত করে তাদের ধরিয়ে দিতে হবে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে জেলা পরিষদের অর্থায়নে এবং উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক ডাকসু নেতা আমানউল্লাহ আমান বলেন, যেখানে ফ্যাসিস্টের ছায়া দেখবেন, প্রশাসনকে বলে তাদের ধরিয়ে দেবেন। কোনো ফ্যাসিস্টের জায়গা বাংলাদেশে দেওয়া যাবে না। উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা প্রত্যেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাবেন। জনগণের সঙ্গে সর্বদা নিবেদিত থাকবেন। জনগণকে রাস্তায় দেখলে সালাম দেবেন, সম্মান করবেন। সমাজকে সম্মান করলে সম্মান পাবেন। ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার; ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় আছে এবং থাকবে, সরকার তা নিশ্চিত করবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন আমরা ঘটাব। আমরা সবাই হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সমান অধিকার ভোগ করব। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ। কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন মন্দির কমিটির প্রতিনিধিদের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। আরটিভি/এসআর  
কোনো ফ্যাসিস্টের জায়গা বাংলাদেশে হবে না: আমানউল্লাহ আমান
জুরাইনে চিরনিদ্রায় শায়িত বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ দলের নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অকৃত্রিম ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন।   বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে। দাফন শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় তার ছেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন সবার কাছে বাবার মাগফিরাতের জন্য দোয়া কামনা করেন। এর আগে বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। এরপর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তার দ্বিতীয় জানাজা হয়। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ঢাকা মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে দলের নেতাকর্মীরা সাবেক এই সংসদ সদস্যের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নিজ এলাকা রাজধানীর শ্যামপুরের লাল মসজিদে। সেখানে বিকেল ৩টায় তার তৃতীয় ও শেষ জানাজা হয়। উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার সালাহউদ্দিন আহমেদ রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা শোক প্রকাশ করেন।  আরটিভি/এসআর  
জুরাইনে চিরনিদ্রায় শায়িত বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ
সার সংকটে ১১ দলীয় জোটের এমপিদের হাত থাকতে পারে: মীর শাহে আলম
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, যেসব এলাকায় বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) রয়েছেন, সেখানে সারসংকট বা এ-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হয়নি। যেসব জেলায় সার নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেসব জেলার এমপিরা ১১-দলীয় জোটের। সরকারকে বিভ্রান্ত করতে তারা দলীয় লোকজনের মাধ্যমে এই সংকট তৈরি করে থাকতে পারেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ঘোড়াইঘাট এলাকায় গড়াই নদীর ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতুর স্থান পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে তারা যেসব সার ডিলার পেয়েছেন, তাদের স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের অসহযোগিতার কারণে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকারের আমলে সার ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উপজেলার রায়ডাঙ্গায় শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে গাড়িতে ওঠার সময় সেখানে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত দুটি স্থান ঘুরে দেখেন। এ সময় জেলার বর্তমান ও সাবেক বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যরা এবং শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
সার সংকটে ১১ দলীয় জোটের এমপিদের হাত থাকতে পারে: মীর শাহে আলম
আরও পড়ুন
ইরানে খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন এনসিপি-জামায়াত-খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধিদল
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা 
জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
ভোট দিলেন মামুনুল হক