বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা। রোববার(৪ জানুয়ারি) শোকবার্তা গ্রহণের তৃতীয় দিনে কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে তিনি এই শ্রদ্ধা জানান। এসময় নেপালি মন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
শোক বইতে দেওয়া মন্তব্যে বালা নন্দ শর্মা বেগম খালেদা জিয়াকে একজন প্রভাবশালী ও মহান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য এটি একটি অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর অবদানকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ও স্থায়ী বলে অভিহিত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, নেপালে বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বিশেষ করে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নেপাল ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংহতির ক্ষেত্রে তার আজীবন নিবেদন দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে একটি স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দূতাবাসে এসে প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। রাষ্ট্রদূত জানান দক্ষিণ এশীয় সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বেগম জিয়ার স্বপ্ন ও অবদানকে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো।
উল্লেখ্য, ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল ও সংকটাপন্ন। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টার দিকে তিনি মারা যান। পরদিন বিকেল ৩টার পরপরই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়।
এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।
আরটিভি/এআর





