বাহরাইনের কর্মস্থলে গিয়ে আট দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন শামসুল আলম বাবুল নামে এক বাংলাদেশি যুবক। গত ২২ এপ্রিল মধ্যরাতের পর থেকে তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় তার পরিবার ও প্রবাসে থাকা সহকর্মীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিখোঁজের আট দিন পেরিয়ে গেলেও মেলেনি কোনো সন্ধান। প্রিয়জনকে ফিরে পেতে এখন প্রহর গুনছে তার পরিবার।
নিখোঁজ শামসুল আলম বাবুল কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। তিনি বাহরাইনে একটি ফুড ডেলিভারি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম এই সদস্যের নিখোঁজ হওয়ার খবর শোনার পর থেকে গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সহকর্মী ও রুমমেটদের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২২ এপ্রিল রাতের দিকে বাহরাইনের জল্লাক এলাকায় একটি ডেলিভারি সম্পন্ন করার পর থেকেই বাবুলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কাজের প্রয়োজনে তিনি সাধারণত মোবাইল ফোন সচল রাখতেন, কিন্তু সেই রাত থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এরপর থেকেই তার সহকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
এই নিখোঁজের ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে তার ব্যবহৃত গাড়িটি। সাধারণত ডেলিভারি কর্মীরা তাদের গাড়ি ব্যবহার করে দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু ঘটনার পর থেকে বাবুলের ব্যবহৃত গাড়িটিরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রিয় বন্ধুর এমন নিরুদ্দেশ হওয়ার খবর পেয়ে তার বাল্যবন্ধু মোহাম্মদ মুরাদ বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। কিন্তু কোথাও কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি বাহরাইনের ইস্ট রিফা পুলিশ স্টেশনে একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেছেন। এছাড়াও মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তারা আশা করছেন, দূতাবাস থেকে যদি কূটনৈতিক সহায়তা পাওয়া যায় এবং স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করে, তবেই হয়তো বাবুলের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হবে।
আরটিভি/এআর



