যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার শিকার বাংলাদেশি মেধাবি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির দাফন হবে মাদারীপুরে নিজ গ্রামের কবরস্থানে। আগামী ৬ মে জানাজা শেষে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরইমধ্যে স্থানীয় ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নিহতের বাবা জহির উদ্দিন আকন।
তিনি জানান, আগামী বুধবার (৬ মে) যুক্তরাষ্ট্রে জানাজা শেষে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে বৃষ্টির লাশ দেশে এলে গ্রামের বাড়িতেই দাফন হবে। এতটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারব।
বুধবারের পর যেকোনো দিন বৃষ্টির লাশ আমাদের কাছে আসতে পারে। নিহত নাহিদা আক্তার বৃষ্টির বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দুপুর গ্রামে। তবে বাবার চাকুরির সুবাদে দীর্ঘদিন ঢাকার মিরপুরে পরিবারের সঙ্গে থাকতো বৃষ্টি।
নিহতের বাবা জহির উদ্দিন আকন জানান, ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যায় বৃষ্টি। ফ্লোরিডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো। সব শেষ গত ১৬ এপ্রিল বৃষ্টির সঙ্গে আমাদের কথা হয়। এরপর থেকেই বৃষ্টি নিখোঁজ। পরবর্তী সময়ে আমরা বৃষ্টি ও তার সহপাঠীর মৃত্যুর খবর পাই।
উল্লেখ্য, প্রায় সাত মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) থেকে পড়ালেখা শেষ করেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। এরপর উচ্চতর ডিগ্রির পাড়ি জমান আমেরিকায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার সুবাদে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে সহপাঠী জামিল আহম্মেদ লিমনের সঙ্গে। সেখানে লিমনের সঙ্গে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেটের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এই জেরে গত ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর আটদিন পর শুক্রবার (১ মে) লিমনের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে আমেরিকার পুলিশ। একদিন পর শনিবার ঘটনাস্থলে পাওয়া রক্তের ডিএনএ পরীক্ষার শেষে বৃষ্টিকে হত্যা করার বিষয়টি জানা যায়।
আরটিভি/টিআর




