কাজ না পেয়ে হতাশায় নিজেকে শেষ করলেন প্রবাসী বাংলাদেশি

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ , ০৯:১৫ পিএম


কাজ না পেয়ে হতাশায় নিজেকে শেষ করলেন প্রবাসী বাংলাদেশি
প্রতীকী ছবি

কাজ না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় ভুগছিলেন এক বাংলাদেশি ইতালি প্রবাসী। পরবর্তীতে ইতালির কাতানিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। 

নিহত প্রবাসীর নাম জিন্নাত খান খোকন (৩৫)। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান খানের ছেলে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বসতভিটা বিক্রি এবং ঋণ নিয়ে সংগ্রহ করা অর্থে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশ ত্যাগ করেন তিনি। প্রথমে একটি দালালচক্রের মাধ্যমে বুলগেরিয়ায় যান এবং পরে অনিয়মিত পথে ইতালিতে প্রবেশ করেন বলে দাবি পরিবারের।

আরও পড়ুন

ইতালিতে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি কোনো স্থায়ী কাজ বা বৈধ কাগজপত্রের সুযোগ পাননি। ফলে দেশে ঋণের চাপ ও বিদেশে বেকারত্ব—দুই দিক থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব কারণেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারেন।

নিহতের স্ত্রী সুমি বেগম জানান, পরিবারের সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গেলেও বাস্তবে তা পূরণ হয়নি। এখন পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং মরদেহ দেশে আনার সক্ষমতাও তাদের নেই।

এ পরিস্থিতিতে রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় বহনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইতিমধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথাও আলোচনায় রয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission