ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কাজ না পেয়ে হতাশায় নিজেকে শেষ করলেন প্রবাসী বাংলাদেশি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
প্রতীকী ছবি

কাজ না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় ভুগছিলেন এক বাংলাদেশি ইতালি প্রবাসী। পরবর্তীতে ইতালির কাতানিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ।

নিহত প্রবাসীর নাম জিন্নাত খান খোকন (৩৫)। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান খানের ছেলে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বসতভিটা বিক্রি এবং ঋণ নিয়ে সংগ্রহ করা অর্থে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশ ত্যাগ করেন তিনি। প্রথমে একটি দালালচক্রের মাধ্যমে বুলগেরিয়ায় যান এবং পরে অনিয়মিত পথে ইতালিতে প্রবেশ করেন বলে দাবি পরিবারের।

আরও পড়ুন

ইতালিতে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি কোনো স্থায়ী কাজ বা বৈধ কাগজপত্রের সুযোগ পাননি। ফলে দেশে ঋণের চাপ ও বিদেশে বেকারত্ব—দুই দিক থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব কারণেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারেন।

নিহতের স্ত্রী সুমি বেগম জানান, পরিবারের সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গেলেও বাস্তবে তা পূরণ হয়নি। এখন পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং মরদেহ দেশে আনার সক্ষমতাও তাদের নেই।

এ পরিস্থিতিতে রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় বহনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইতিমধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথাও আলোচনায় রয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ফেরাউনের জন্মদিনে ‘অদ্ভুত’ বিরল দৃশ্য দেখলেন হাজারো মানুষ 
প্রাচীন মিশরের স্থাপত্যশৈলী, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ধর্মীয় বিশ্বাসের অপূর্ব সমন্বয় আবারও মুগ্ধ করল বিশ্ববাসীকে। ফেরাউনের (দ্বিতীয় রামেসিস) জন্মদিনে সূর্যের সোনালি রশ্মি তার মন্দিরের গভীরে প্রবেশ করে আলোকিত করেছে ফেরাউনের মুখমণ্ডল।
ফেরাউনের জন্মদিনে ‘অদ্ভুত’ বিরল দৃশ্য দেখলেন হাজারো মানুষ 
বাংলাদেশি চক্ষু রোগীদের জন্য চীনে ‘বিশেষ চিকিৎসাসেবা’
এ ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশি রোগীরা চীন সফরের আগেই চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ ও নথি পর্যালোচনার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি হাসপাতালে অগ্রাধিকার ভিত্তিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট, পৃথক আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দোভাষী সহায়তা এবং দেশে ফেরার পরও ফলো-আপ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
বাংলাদেশি চক্ষু রোগীদের জন্য চীনে ‘বিশেষ চিকিৎসাসেবা’
কানাডায় ভিসা আবেদনে জালিয়াতি, বাংলাদেশি সংঘবদ্ধ চক্র ধরা
অভিবাসন সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগে চার বাংলাদেশি ও তাদের এক সহযোগীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। একই তদন্তের মাধ্যমে জাল কাগজপত্র জমা দিয়ে কানাডার সাময়িক রেসিডেন্স ভিসা (টিআরভি) আবেদনের চেষ্টার সঙ্গে জড়িত ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককেও শনাক্ত করা হয়েছে।
কানাডায় ভিসা আবেদনে জালিয়াতি, বাংলাদেশি সংঘবদ্ধ চক্র ধরা
পর্তুগালের রাষ্ট্রপতির কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ
পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. এস এম কামরুল হাসান পর্তুগিজ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতির কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) লিসবনের বেলেম প্রাসাদে তিনি তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। পর্তুগালের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ড. এস এম কামরুল হাসান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিবাদন জানান। তিনি ঢাকায় পর্তুগালের একটি আবাসিক কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই পদক্ষেপ ঘনিষ্ঠতর কূটনৈতিক যোগাযোগ সহজ করবে, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করবে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। তিনি একটি দ্বিপাক্ষিক শ্রমগতিশীলতা কাঠামোর আওতায় সহযোগিতা কার্যকর ও এগিয়ে নেওয়া, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। জনগণের মধ্যে সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের স্বীকৃতি দেন ও তাদের প্রশংসা করেন এবং পর্তুগিজ সমাজে তাদের একীভূত হওয়ার গুরুত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেন। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সামুদ্রিক বিষয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং জনগণের মধ্যে আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার সম্ভাবনার বিষয়টিও উঠে আসে। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নিতে, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার করতে এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তরিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আরটিভি/টিআর
পর্তুগালের রাষ্ট্রপতির কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ
মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালন
প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিশরের রাজধানী কায়রোয় বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলার মরমি সাধক, মানবতাবাদী দার্শনিক ও কালজয়ী বাউল সংগীতসাধক ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লালনের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে মানবতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতির চিরন্তন বার্তা তুলে ধরা হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দূতাবাসের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিশরে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে। জি এম মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রেজাউল করিম, মাসুদ করিম চৌধুরী, নোমান করিম আজহারী ও দূতাবাসের শ্রম সচিব মো. জাকির হোসেন। বক্তারা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে লালন সাঁইয়ের অবিস্মরণীয় অবদান তুলে ধরেন। তারা বলেন, লালনের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের বিভেদ অতিক্রম করে মানবতা, সাম্য, ভালোবাসা ও সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। তার কালজয়ী সৃষ্টি আজও মানুষকে উদারতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে। সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান এবং বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক ও মানবতাবাদী চিন্তাবিদ লালন সাঁইয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ফকির লালন সাঁইয়ের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাম্য, মৈত্রী, প্রেম, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির চিরন্তন বাণী বহন করে। ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিপরীতে মানবতার জয়গান গাওয়া তাঁর দর্শন আজও বিশ্বজুড়ে শান্তিকামী মানুষ, মানবতাবাদী চিন্তাবিদ ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের অনুপ্রাণিত করে। লালন সাঁইয়ের কালজয়ী দর্শনের তাৎপর্য তুলে ধরে গৌতম কুমার দে বলেন, তার সৃষ্টি বাঙালির সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ভৌগোলিক ও ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে লালনের গান প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গোঁড়ামিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এবং মানবধর্মের চেতনাকে সমুন্নত করেছে। ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের বিভেদ পেরিয়ে অভিন্ন মানবসত্তাকে উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহিষ্ণু, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে লালনের শিক্ষা আজও গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা জোগায়। বাউল সম্প্রদায়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত বলেন, বাউল সংস্কৃতি বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার মতে, সহনশীলতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ক্ষেত্রে লালন সাঁইয়ের দর্শন বর্তমানের অনিশ্চিত ও জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। লালনের সৃষ্টি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্য এবং অসাম্প্রদায়িক, উদার ও মানবতাবাদী পরিচয়ের উজ্জ্বল প্রতিফলন। নতুন প্রজন্মের মধ্যে লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণ ও চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে লালনের জীবনদর্শন পৌঁছে দিতে হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পীরা লালনগীতি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। শিশুদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনাও উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অতিথিরা বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক স্বতন্ত্র ধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে লালন সাঁইয়ের জীবন, দর্শন এবং বাঙালি সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তার অবদান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে মিশরে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, দেশটির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। আরটিভি/টিআর
মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালন
আরও পড়ুন
ইতালিতে খুন হওয়া পরিবারটিকে পাঠানো হয়েছিল উড়োচিঠি, যা লেখা তাতে