সহকর্মীদের ‘ভুলে’ প্রাণ গেল সৌদি প্রবাসীর

স্টাফ রিপোর্টার (কুমিল্লা), আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১০:৫৭ এএম


সহকর্মীদের ‘ভুলে’ প্রাণ গেল সৌদি প্রবাসীর
নিহত মো. নাদিম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করার সময় মেশিনে কাটা পড়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার এক প্রবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৮টার দিকে সৌদি আরবের আল-কাসিম অঞ্চলের বুকারিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. নাদিম হোসেন (২৭) বুড়িচং পৌরসভার যদুপুর গ্রামের সামাদ মিয়ার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে প্রায় ১০ মাস আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাদিম। সেখানে আল-কাসিমের বুকারিয়া এলাকার একটি খেজুর প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কর্মরত ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন

স্বজনরা জানান, ঘটনার সময় একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিন পরিষ্কার করার জন্য নাদিম মেশিনের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় বাইরে থাকা কয়েকজন সহকর্মী মেশিনটি চালু করে দিলে তিনি মেশিনের ভেতরে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ঘটনার পর সৌদি আরবের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় কারখানার তিন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে নিহতের পরিবার জানতে পেরেছে।

নাদিমের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর যদুপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের বাবা সামাদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমার সন্দেহ। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই। একই সঙ্গে দ্রুত আমার ছেলের মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশিদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission