১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বর্নাঢ্য এক আয়োজন করেছে দেশের জনপ্রিয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভি। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে বিশেষ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা; নাচ, গান ও ফ্যাশন-শোর মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত আয়োজনটি আরটিভি’র পর্দায় প্রচার করা হবে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে।
‘ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজে অন্তভূক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় ।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন— ‘ক’ গ্রুপ থেকে ১ম সায়ান হাসান, ২য় ইয়েসাদ বেনসালেম ও ৩য় শানায়া তাহনিয়াত; ‘খ’ গ্রুপ থেকে ১ম আরিয়ান আরিন খান, ২য় ইলতুতমিস আব্দুল্লাহ ও ৩য় ওয়েন্স লরেন্স গমেজ।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিভাবকরা বলেন, পরিবার ও সমাজে আমাদের সন্তানদেরকে নিয়ে অনেক নেতিবাচক কথা শুনতে হয়, তার মধ্যেই আমাদের সন্তান প্রতিযোগিতায় অংশ্রহণ করে বিজয়ী হচ্ছে, পুরস্কার পাচ্ছে। এটা সত্যিই অনেক আনন্দ এবং সান্তনার। আরটিভিকে অশেষ ধন্যবাদ এমন একটি আয়োজনের জন্য।
আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, এই আয়োজনটি আন্তরিকতা, সম্মান, ভালোবাসা ও সহমর্মীতার। আরটিভি মনে করে, অটিজম নিয়ে কাজ করাটা এখন প্রতিটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। প্রতিটি প্রাণই মূল্যবান। আমরা চাই, কোন শিশু যেন অটিজম বৈশিষ্ট্যের কারণে সমাজ থেকে পিছিয়ে না পড়ে। নিয়মিত অনুষ্ঠানসহ আরও একাধিক আয়োজনের মাধ্যমে আরটিভি সবসময়ই অটিজম সচেতনতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে, ইনআশাল্লাহ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, অটিজম এখন আর কারও একার বিষয় নয়, এটি এখন সমাজ ও রাষ্ট্রের নানাবিধ দায়িত্বের অংশ। আমি নিজেও তাদের অটিজম সচেতনতা নিয়ে কাজ করতে চাই। আরটিভি গণমাধ্যম হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে যে কাজ করে যাচ্ছে, তা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উক্ত আয়োজনটির পরিচালক ও ‘ইন্সপিরেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা মুনিরা ইসলাম বলেন, আমরা যারা অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সন্তানের অভিভাবক তারা সবসময়ই একটি চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়- আমাদের অবর্তমানে আমাদের সন্তানের কী হবে? কে তাকে দেখে রাখবে? পরিবারের পাশাপাশি রাষ্ট্র তার কতটুকু দায়িত্ব নিবে?
তিনি বলেন, আমরা সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কথা শুনেছি। আশা করি, অটিজম বৈশিষ্টসম্পন্ন মানুষগুলোর জন্য উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশও একটি সুন্দর অন্তর্ভূক্তিমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সঙ্গীতশিল্পী লীনু বিল্লাহ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু সাঈদ মোঃ কাওছার রহমান, সঙ্গীতশিল্পী আবিদা সুলতানা, হায়দার হোসেন, রিজিয়া পারভিন, শওকত আলী ইমন, ইথুন বাবু, দিঠি আনোয়ার, চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও বেনীবুনন-এর সত্ত্বাধিকারী সাহেদুল ইসলাম হেলাল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শান্তা ইসলাম প্রমুখ। ফ্যাশন-শো’র কোরিওগ্রাফ করেছেন আসাদ খান।
সৈয়দা মুনিরা ইসলামের গ্রন্থণা ও পরিচালনায় মনোজ্ঞ আয়োজনটির টাইটেল স্পন্সর ছিল বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে সহযোগিতায় ছিল ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি। এছাড়া, অনলাইন পার্টনার হিসেবে ছিল আরটিভি অনলাইন এবং ম্যাগাজিন পার্টনার ছিল লুকএ্যাটমি।
আরটিভি/এসএইচএম




