পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই অনেকের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ ঘটনা ঘটে থাকে যে, অভ্যস্ততার অভাবে ভুলে হঠাৎ কোনো কিছু খেয়ে বা পান করে ফেলেন। দীর্ঘ এগারো মাস দিনের বেলায় স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত থাকায় অসতর্কতাবশত এমনটা হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। তবে এই অবস্থায় অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে এবং অনেকে দুশ্চিন্তায় ভোগেন যে, তার কষ্টার্জিত রোজাটি কি তবে ভেঙে গেল?
ইসলামের ফিকহশাস্ত্র এবং নির্ভরযোগ্য হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, কেউ যদি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলবশত কোনো কিছু খেয়ে ফেলেন, তবে তার রোজা মোটেও ভঙ্গ হবে না।
এই বিধানের স্বপক্ষে বুখারি শরিফের ১৯৩৩ নম্বর হাদিসে একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন যে, ‘যখন কেউ ভুলে খেয়ে বা পান করে ফেলে, সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। কেননা আল্লাহ তাআলাই তাকে পানাহার করিয়েছেন।’ অর্থাৎ, এই পানাহার করাটা বান্দার পক্ষ থেকে কোনো ত্রুটি নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে এক প্রকার রিযিক বা মেহমানদারি হিসেবে গণ্য হয়।
এই হাদিসের আলোকে ফকিহগণ একমত হয়েছেন যে, ভুল করে খাওয়া বা পান করার পর মনে হওয়ার সাথে সাথেই তা বন্ধ করে দিলে রোজাটি সম্পূর্ণ সঠিক ও কার্যকর থাকবে।
তবে এই ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা রয়েছে যা সবার জানা প্রয়োজন। যদি কেউ ভুল করে কোনো কিছু খেয়ে ফেলেন এবং পরক্ষণেই নিজের ভুলের জন্য মনে করেন যে তার রোজাটি বোধহয় ভেঙে গেছে—এমন ভুল ধারণা থেকে যদি তিনি পুনরায় ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার খান বা পানি পান করেন, তবে অবশ্যই তার রোজাটি ভেঙে যাবে।
কিতাবুল আছল ও ফাতাওয়া শামি সহ বিভিন্ন ফিকহ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির ওপর কাফফারা (টানা ৬০টি রোজা রাখা) ওয়াজিব হবে না, তবে ওই দিনের রোজার পরিবর্তে পরবর্তীতে একটি রোজা ‘কাজা’ করতে হবে।
ইসলামি আইনবিদদের মতে, যারা ভুলে খেয়ে ফেলেছেন তাদের উচিত হবে রোজাটি পূর্ণ করা এবং নিজের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও ইসতেগফার করা। তবে রোজা ভেঙে গেছে ভেবে ইচ্ছাকৃত দ্বিতীয়বার খাওয়াটা বড় ধরনের অবহেলা হিসেবে গণ্য হয়।
মনে রাখতে হবে, রোজা রাখার অর্থ কেবল না খেয়ে থাকা নয়, বরং আল্লাহর নির্দেশের পূর্ণ আনুগত্য করা। তাই ভুলবশত আল্লাহ কোনো রিযিক খাওয়ালে তাতে বিচলিত না হয়ে শোকরিয়া আদায় করে দিনের বাকি অংশ সিয়াম পালন অব্যাহত রাখাই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
আরটিভি/এআর




