ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ভুলে কিছু খেলে কি রোজা ভাঙবে?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই অনেকের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ ঘটনা ঘটে থাকে যে, অভ্যস্ততার অভাবে ভুলে হঠাৎ কোনো কিছু খেয়ে বা পান করে ফেলেন। দীর্ঘ এগারো মাস দিনের বেলায় স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত থাকায় অসতর্কতাবশত এমনটা হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। তবে এই অবস্থায় অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে এবং অনেকে দুশ্চিন্তায় ভোগেন যে, তার কষ্টার্জিত রোজাটি কি তবে ভেঙে গেল?

ইসলামের ফিকহশাস্ত্র এবং নির্ভরযোগ্য হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, কেউ যদি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলবশত কোনো কিছু খেয়ে ফেলেন, তবে তার রোজা মোটেও ভঙ্গ হবে না।

এই বিধানের স্বপক্ষে বুখারি শরিফের ১৯৩৩ নম্বর হাদিসে একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন যে, ‘যখন কেউ ভুলে খেয়ে বা পান করে ফেলে, সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। কেননা আল্লাহ তাআলাই তাকে পানাহার করিয়েছেন।’ অর্থাৎ, এই পানাহার করাটা বান্দার পক্ষ থেকে কোনো ত্রুটি নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে এক প্রকার রিযিক বা মেহমানদারি হিসেবে গণ্য হয়।

এই হাদিসের আলোকে ফকিহগণ একমত হয়েছেন যে, ভুল করে খাওয়া বা পান করার পর মনে হওয়ার সাথে সাথেই তা বন্ধ করে দিলে রোজাটি সম্পূর্ণ সঠিক ও কার্যকর থাকবে।

তবে এই ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা রয়েছে যা সবার জানা প্রয়োজন। যদি কেউ ভুল করে কোনো কিছু খেয়ে ফেলেন এবং পরক্ষণেই নিজের ভুলের জন্য মনে করেন যে তার রোজাটি বোধহয় ভেঙে গেছে—এমন ভুল ধারণা থেকে যদি তিনি পুনরায় ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার খান বা পানি পান করেন, তবে অবশ্যই তার রোজাটি ভেঙে যাবে।

কিতাবুল আছল ও ফাতাওয়া শামি সহ বিভিন্ন ফিকহ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির ওপর কাফফারা (টানা ৬০টি রোজা রাখা) ওয়াজিব হবে না, তবে ওই দিনের রোজার পরিবর্তে পরবর্তীতে একটি রোজা ‘কাজা’ করতে হবে।

আরও পড়ুন

ইসলামি আইনবিদদের মতে, যারা ভুলে খেয়ে ফেলেছেন তাদের উচিত হবে রোজাটি পূর্ণ করা এবং নিজের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও ইসতেগফার করা। তবে রোজা ভেঙে গেছে ভেবে ইচ্ছাকৃত দ্বিতীয়বার খাওয়াটা বড় ধরনের অবহেলা হিসেবে গণ্য হয়।

মনে রাখতে হবে, রোজা রাখার অর্থ কেবল না খেয়ে থাকা নয়, বরং আল্লাহর নির্দেশের পূর্ণ আনুগত্য করা। তাই ভুলবশত আল্লাহ কোনো রিযিক খাওয়ালে তাতে বিচলিত না হয়ে শোকরিয়া আদায় করে দিনের বাকি অংশ সিয়াম পালন অব্যাহত রাখাই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে রয়েছে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা।
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
কালেমার পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো নামাজ। নামাজ আদায়ের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ৮২ বার বলা হয়েছে। তাই দৈনিক  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের ফরজ করা হয়েছে। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে এলো সে বিষয়ে জানবো।
যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে ছোট ছোট কিছু নেক আমল। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজও হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
মানুষের চোখে ছোট, আল্লাহর কাছে বড় ৭ আমল
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য আজান দেওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নামাজের প্রতি আহ্বান জানাতে মুয়াজ্জিন আজান দিয়ে থাকেন।
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ
আরও পড়ুন
মেসিকে সম্মান জানাতে নতুন রূপে সেজেছে জন্মস্থান রোজারিও
এবার জরিমানার মুখে পাকিস্তানি ক্রিকেটার গুল ফিরোজা
১০ মহররমের বিশেষ মর্যাদার আসল কারণ
ইবাদতে মশগুল থেকে দিনটি পালনের পরামর্শ