ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

রমজানের ইতিহাস: সভ্যতা ও সংযমের দীর্ঘ যাত্রা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
হেরা গুহা। ছবি: সংগৃহীত

রমজান কেবল একটি ধর্মীয় মাস নয় এটি সময়ের স্রোতে গড়ে ওঠা এক পূর্ণাঙ্গ সভ্যতাগত অভিজ্ঞতা। উপবাস, সংযম ও ইবাদতের এই মাস মুসলমানদের ব্যক্তিগত জীবন যেমন নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনি সমাজ, সংস্কৃতি ও ইতিহাসেও রেখে গেছে গভীর ছাপ। ইসলামের জন্মলগ্ন থেকে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পর্যন্ত রমজান মানুষের বিশ্বাস, আচরণ ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। খবরের কাগজের পাতায় রমজানের ইতিহাস মানে তাই শুধু ধর্মীয় বিবরণ নয়, বরং এক মানবিক অভিযাত্রার দলিল।

ইসলামপূর্ব আরব ও উপবাসের ধারণা

ইসলামের আবির্ভাবের আগে আরব সমাজে রোজা বা উপবাস একেবারে অজানা বিষয় ছিল না। ইহুদি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে নির্দিষ্ট দিনে উপবাস পালনের রীতি প্রচলিত ছিল। আরবের কিছু একেশ্বরবাদী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী মানুষ (যাদের হানিফ বলা হতো)নিজেদের মতো করে সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের চর্চা করতেন। ফলে উপবাসের ধারণা সমাজে সম্পূর্ণ নতুন ছিল না, তবে তার কোনো সুসংহত ধর্মীয় কাঠামো তখনো গড়ে ওঠেনি।

এই প্রেক্ষাপটেই ইসলামে রোজার বিধান আসে- যা কেবল খাদ্যবর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নৈতিক ও আত্মিক শুদ্ধতার একটি পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে রূপ নেয়।

কোরআন নাজিল ও রমজানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব

রমজানের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় সপ্তম শতকের শুরুতে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মাসেই মানবজাতির জন্য পথনির্দেশনা হিসেবে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। ৬১০ খ্রিস্টাব্দে, মক্কার উপকণ্ঠে অবস্থিত হেরা গুহা-তে ধ্যানরত অবস্থায় নবী মুহাম্মদ (সা.) প্রথম ওহি লাভ করেন। এই ঘটনাই ইসলামের সূচনা এবং একই সঙ্গে রমজানকে ইতিহাসের এক অনন্য মাসে পরিণত করে।

কোরআনের ভাষায়, রমজান হলো সেই মাস- যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে। ফলে রোজা শুধু শারীরিক উপবাস নয়, কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি সময়।

রোজা ফরজ হওয়ার প্রেক্ষাপট

ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে রোজা বর্তমান কাঠামোয় ফরজ ছিল না। হিজরতের পর দ্বিতীয় হিজরি সনে (৬২৪ খ্রিস্টাব্দে) রমজানের রোজা মুসলমানদের ওপর ফরজ করা হয়। তখন ইসলামী সমাজের কেন্দ্র ছিল মদিনা। একটি নতুন রাষ্ট্র, নতুন সামাজিক শৃঙ্খলা ও নৈতিক কাঠামো গড়ে উঠছিল।

এই সময়ে রোজার বিধান মানুষের আত্মসংযমের পাশাপাশি সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রথমদিকে রোজার নিয়ম ছিল কঠোর- ইফতারের পর ঘুমিয়ে পড়লে আর খাবার গ্রহণ করা যেত না। পরে আল্লাহর পক্ষ থেকে সহজীকরণ আসে, যা ইসলামের মানবিক ও বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পষ্ট করে।

বদর যুদ্ধ: রোজা ও সংগ্রামের মিলন

রমজানের ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো বদর যুদ্ধ। দ্বিতীয় হিজরি সনের ১৭ রমজান সংঘটিত এই যুদ্ধে সংখ্যায় কম হলেও মুসলমানরা শক্তিশালী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেন। রোজা অবস্থায় সংঘটিত এই যুদ্ধ মুসলিম সমাজে রমজানকে ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতার প্রতীকে রূপ দেয়।

এই ঘটনা প্রমাণ করে, রমজান কেবল নীরব সাধনার মাস নয়; প্রয়োজনে ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার শক্তিও এই মাস থেকেই আসে।

খেলাফত যুগে রমজান

উমাইয়া ও আব্বাসীয় খেলাফত আমলে রমজান রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। শাসকরা এই মাসে দানশীলতা বাড়াতেন, দরিদ্রদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা জোরদার করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে কারাবন্দিদের শাস্তি লঘু করা কিংবা বিশেষ সুযোগ দেওয়ার নজিরও ইতিহাসে পাওয়া যায়।

এই সময়েই মসজিদকেন্দ্রিক রমজান সংস্কৃতি বিস্তৃত হয়। তারাবির নামাজ, কোরআন খতম ও রাতব্যাপী ইবাদত মুসলিম নগরজীবনের চিত্র বদলে দেয়। বিশেষ করে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী-তে রমজান ধীরে ধীরে এক বিশাল ধর্মীয় সমাবেশে রূপ নেয়।

লাইলাতুল কদর: হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত

রমজানের শেষ দশকের ইসলামী ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন একটি বিজোড় রাত লাইলাতুল কদর। বিশ্বাস করা হয়, এই রাতেই কোরআনের প্রথম অংশ নাজিল হয়। কোরআনের ভাষায়, এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

ইতিহাসে দেখা যায়, আলেম, সুফি ও ধর্মীয় মনীষীরা এই রাতকে কেন্দ্র করে আত্মশুদ্ধির বিশেষ সাধনা করেছেন। তাসাউফ বা সুফিবাদের বিকাশেও এই রাতের ভাবধারা গভীর প্রভাব ফেলেছে।

রমজান ও সমাজসংস্কৃতি

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রমজান একটি সমৃদ্ধ সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে রমজান মানেই পারিবারিক সমাবেশ, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও মসজিদকেন্দ্রিক জীবন। দক্ষিণ এশিয়ায় সেহরি ও ইফতার ঘিরে গড়ে উঠেছে নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি।

অটোমান আমলে সেহরি জাগানোর জন্য ঢোল বা ড্রাম বাজানোর প্রথা চালু হয়, যা আজও তুরস্কের কিছু অঞ্চলে দেখা যায়। এভাবে রমজান ধর্মীয় চর্চার পাশাপাশি লোকজ সংস্কৃতিরও বাহক হয়ে ওঠে।

দানশীলতা ও মানবিকতা

রমজান মানেই দান। জাকাত ও সদকাহ আদায়ের ক্ষেত্রে এই মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইতিহাসে বহু দাতব্য প্রতিষ্ঠান, মুসাফিরখানা ও ফ্রি খাবার বিতরণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে রমজানকে কেন্দ্র করে। এই দানশীলতা মুসলিম সমাজে একটি কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।

ঔপনিবেশিক যুগে রমজান

ঔপনিবেশিক শাসনামলে রমজান হয়ে ওঠে মুসলিম পরিচয় ও আত্মমর্যাদা রক্ষার প্রতীক। রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যেও রমজানের সমবেত ইবাদত ও সামাজিক আয়োজন মুসলমানদের ঐক্য ধরে রাখতে ভূমিকা রাখে। অনেক ইতিহাসবিদের মতে, রমজান তখন নীরব সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের ভাষায় রূপ নেয়।

আধুনিক বিশ্বে রমজান

আজকের বিশ্বে রমজান একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। প্রযুক্তি ও নগরজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও এই মাস মানুষকে থামতে শেখায়। টেলিভিশন, রেডিও ও ডিজিটাল মাধ্যমে কোরআন তিলাওয়াত ও তারাবির সরাসরি সম্প্রচার রমজানকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

আরও পড়ুন

একই সঙ্গে যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও উদ্বাস্তু সংকটে থাকা মানুষের কাছে রমজান আজও আশার প্রতীক- সংযমের মধ্যেই মানবিক মর্যাদা রক্ষার বার্তা।

>>> রমজানের ইতিহাস আসলে মানুষের ইতিহাস- আত্মসংযম, নৈতিকতা ও সহমর্মিতার ইতিহাস। হেরা গুহার নিভৃত অন্ধকার থেকে আধুনিক শহরের আলোকোজ্জ্বল ইফতার টেবিল পর্যন্ত রমজান বহন করে চলেছে এক অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা। সময় বদলেছে, সমাজ বদলেছে, কিন্তু রমজানের মূল শিক্ষা 'মানুষ হয়ে ওঠা' আজও অপরিবর্তিত।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশে আসছেন মাওলানা হানিফ জালান্ধরি
রাজধানীর দক্ষিণখান কেন্দ্রীয় কবরস্থান সংলগ্ন মধুবাগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক বৃহৎ ‘ঈসালে সওয়াব মাহফিল’। আগামী ২২ নভেম্বর (রোববার) এই মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে বয়ান করবেন পাকিস্তানের বিখ্যাত আলেম মাওলানা মুহাম্মদ হানিফ জালান্ধরি। মাহফিল পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দক্ষিণখান কেন্দ্রীয় কবরস্থান (ওয়ার্ড-৪৮, মধুবাগ, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০) প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।  উক্ত অনুষ্ঠানে মাগরিব নামাজের পর প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করবেন মাওলানা কারি মুহাম্মদ হানিফ জালান্ধরি। এছাড়া মাহফিলে বিশেষ আলোচক হিসেবে বাদ আছর বয়ান করবেন জাগ্রত কবি মাওলানা মুহিব খান। সকাল ১০টা থেকেই দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামের দ্বীনি আলোচনা শুরু হবে।    আয়োজকদের পক্ষ থেকে মুফতি বখতিয়ার হোসাইন সরদার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাহফিলে উপস্থিত হয়ে আখিরাতের সওয়াব হাসিল এবং মৃত স্বজনদের ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশে কুরআন শরিফ ও কালিমার খতম পাঠ করে দোয়ায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।  আরটিভি/এসআর  
বাংলাদেশে আসছেন মাওলানা হানিফ জালান্ধরি
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে (Astronomical calculations Ramadan start date 2027)। 
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আজকের নামাজের সময়সূচি
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- 
আজকের নামাজের সময়সূচি
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার (১ নভেম্বর) হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় থেকে সৌদি সরকারের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানান শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
আরও পড়ুন
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
২০২৭ সালের রমজান, শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা