জাকাত ইসলামের পাঁচস্তম্ভের মধ্যে অন্যতম স্তম্ভ। পবিত্র কোরআনের অনেক সুরায় জাকাতের কথা বলা হয়েছে। জাকাতের মাধ্যমে সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয় এবং সম্পদের পবিত্রতা অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন— وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ অর্থ হলোঃ ‘তোমরা নামাজ কায়েম কর এবং জাকাত প্রদান কর।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ৪৩)
তবে কেউ যদি রমজান মাস ব্যতীত অন্য মাস বা সময়ে জাকাত দেওয়া যাবে কিনা, সেক্ষেত্রে ইসলাম কী বলে?
জাকাতের বিধান
জাকাত একজন প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ও স্বাধীন মুসলিমের ওপর ফরয। সেক্ষেত্রে শরিয়ত নির্ধারিত সীমার (৭ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা বা ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্য অথবা সমপরিমাণ নগদ অর্থ) বেশি সম্পদ হিজরি এক বছর ধরে কারো কাছে থাকলে তাকে সম্পদশালী গণ্য করা হয় এবং তার বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫ শতাংশ বা ১/৪০ অংশ জাকাত হিসেবে প্রদান করতে হয়।
জাকাত প্রদানের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই; বরং এটি ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। কেউ যদি অগ্রিম জাকাত দেয়, সেক্ষেত্রে কোনো বাঁধা নেই। এতে অবশ্যই বছর শেষে তার হিসেব করতে হবে। জাকাত ওয়াজিব হওয়ার পর তা দ্রুত আদায় করাই উত্তম। কোনো কারণ ছাড়া দেরি করা উচিত নয়। তবে রমজান মাসে জাকাত আদায় করা সর্বোত্তম।
জাকাত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি
সুরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াত অনুযায়ী ফকির, মিসকিন, জাকাত আদায়কর্মী, নও মুসলিম ও অনুরাগী, দাস–দাসী, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, মুজাহিদ, বিপদগ্রস্ত মুসাফির জাকাত পাওয়ার যোগ্য।
আরটিভি/এমআই




