ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে শরিয়ত নির্দিষ্ট কিছু সময়কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। মূলত সূর্যের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এই সময়গুলো নির্ধারিত হয়, যার উদ্দেশ্য হলো ইবাদতের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং সূর্যপূজারিদের রীতিনীতির সঙ্গে সাদৃশ্য এড়িয়ে চলা।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী দিনের মধ্যে এমন ৩টি সময় আছে যখন সব ধরনের নামাজ (ফরজ, ওয়াজিব বা নফল) পড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা হারাম। একে ‘আওকাতে মামনুয়া’ বলা হয়।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সূর্য ডোবার পূর্বে আসরের এবং সূর্য ওঠার পূর্বে ফজরের এক রাকআত নামায পেয়ে যায়, সে (যথাসময়ে) নামায পেয়ে যায়। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৬০১নং)
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি সূর্য ডোবার পূর্বে আসরের এক রাকআত নামায পায়, সে যেন (সূর্য ডুবে গেলেও) তার বাকী রাকআত নামায সম্পন্ন করে নেয়। আর যে ব্যক্তি সূর্য ওঠার পূর্বে ফজরের এক রাকআত নামায পায়, সে যেন (সূর্য উঠে গেলেও) তার বাকী রাকআত নামায সম্পন্ন করে নেয়। (বুখারী, মিশকাত ৬০২নং)
নামাজের নিষিদ্ধ সময়গুলো হলো:
১. সূর্যোদয়ের সময়
সূর্য যখন পূর্ব দিগন্তে উদিত হতে শুরু করে, তখন থেকে নিয়ে সূর্য পুরোপুরি উপরে ওঠা (প্রায় ১৫-২০ মিনিট) পর্যন্ত সব ধরনের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ।
২. ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়
সূর্য যখন মাঝ আকাশে বা একদম মাথার উপরে অবস্থান করে, তখন থেকে পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ার আগ পর্যন্ত সময়টি নামাজের জন্য নিষিদ্ধ। জোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক মিনিট আগে এই সময়টি থাকে।
৩. সূর্যাস্তের সময়
সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ডুবতে শুরু করে, তখন থেকে পুরোপুরি অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত নামাজ পড়া হারাম। তবে বিশেষ ক্ষেত্র হিসেবে, যদি ওই দিনের আসরের ফরজ নামাজটি পড়া না হয়ে থাকে, তবে তা দ্রুত আদায় করে নেওয়া যায়।
এই বিধিনিষেধের মাধ্যমে মুসলিমদের ইবাদতে যেমন শৃঙ্খলা আসে, তেমনি এটি অন্য ধর্মের উপাসনা পদ্ধতির সঙ্গে সংমিশ্রণ রোধ করে ইবাদতকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নির্দিষ্ট রাখতে সাহায্য করে।
আরটিভি/এমআই




