আসন্ন পবিত্র হজকে সামনে রেখে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার ঐতিহাসিক তাবুর শহর মিনা, আরাফা ও মুজদালিফায় এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। আল্লাহর মেহমানদের আরামদায়ক ও নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
৭ জিলহজ মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এই লক্ষ্যে মিনায় অবস্থিত স্থায়ী অগ্নিরোধী তাঁবুগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। তাঁবুগুলোর এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা, ফায়ার সেফটি সিস্টেম, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং প্লাম্বিংয়ের কাজগুলো নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে টয়লেটগুলো মেরামত করে পানির লাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কাজ শেষ হওয়া মাত্রই সেখানে নতুন বিছানা ও কার্পেট পৌঁছে দেওয়া হবে।
এক সময় মিনায় অস্থায়ী তাঁবু ব্যবহার করা হলেও ১৯৯৭ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সৌদি সরকার পুরো এলাকায় স্থায়ী অগ্নিরোধী তাঁবু স্থাপন করে। বর্তমানে প্রতিটি তাঁবুতে আধুনিক পানির সরবরাহ ব্যবস্থা, অ্যালার্ম সিস্টেম, বৈদ্যুতিক আউটলেট ও রান্নাঘরসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা রয়েছে। হজের নির্দিষ্ট পাঁচ দিন বাদে বছরের বাকি সময় মিনা এলাকাটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়।
হজের নিয়ম অনুযায়ী, ১০ জিলহজ হাজিরা মিনায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, কোরবানি করা এবং মাথা মুণ্ডন শেষে মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। এরপর পুনরায় মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান করে প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন।
এদিকে, হজযাত্রীদের জন্য গৃহীত প্রস্তুতি সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন হজ প্রশাসনিক দলের প্রধান ডক্টর আয়াতুল ইসলাম। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন মক্কার হজ কাউন্সিলর মো. কামরুল ইসলামসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে তারা হজযাত্রীদের খাবারের মান এবং আবাসনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি হজে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। হজযাত্রীদের উন্নতমানের সেবা দিতে মক্কা পৌরসভা তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে মাঠে রয়েছে।
আরটিভি/এসএস



