কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু জবাই করাকে কোরবানি বলা হয়। এই ইবাদতের প্রতিটি পশুর প্রতিটি লোমের বিনিময়ে নেকি দেওয়ার কথা হাদিসে এসেছে। সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। তবে ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, সব কোরবানি আল্লাহর কাছে কবুল হয় না।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَ لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا لِّيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ...
উচ্চারণ: ওয়া লিকুল্লি উম্মাতিন জাআলনা মানসাকাল লিয্যাযকুরুসমাল্লাহি আলা মা রাযাকাহুম মিন বাহীমাতিল আনআম…
অর্থ: প্রত্যেক জাতির জন্য আমি কোরবানির বিধান দিয়েছি, যাতে তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে… (সূরা হজ: ৩৪)
আর আল্লাহ আরও বলেন—
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
উচ্চারণ: ফাসাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ানহার
অর্থ: তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো। (সূরা কাউসার: ২)
যেসব কারণে কোরবানি কবুল হয় না
ইসলামি বিধান অনুযায়ী কিছু ভুল ও গুনাহপূর্ণ কারণে কোরবানি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না—
১. হারাম বা অবৈধ টাকায় কোরবানি
হারাম সম্পদ দিয়ে কোরবানি করলে তা কবুল হয় না। কারণ আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি শুধু পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন।
২. নিয়ত বিশুদ্ধ না হলে
কোরবানির মূল বিষয় হলো তাকওয়া ও একনিষ্ঠতা। নিয়ত সঠিক না হলে ইবাদত গ্রহণযোগ্য হয় না। কোনো শরিকের নিয়তে গলদ থাকলে পুরো কোরবানিতে প্রভাব পড়ে।
৩. লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে কোরবানি
শুধু সুনাম বা প্রদর্শনের জন্য বড় পশু জবাই করলে তা কোরবানি হিসেবে কবুল হয় না। কোরবানি হতে হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য।
আল্লাহ বলেন—
إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ
উচ্চারণ: ইন্নামা ইয়াতাকাব্বালুল্লাহু মিনাল মুতাক্কীন
অর্থ: আল্লাহ কেবল মুত্তাকিদের আমলই কবুল করেন। (সূরা মায়েদা: ২৭)
৪. কোরআন-সুন্নাহর বিধান লঙ্ঘন করলে
যে ইবাদতে আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশ মানা হয় না, তা গ্রহণযোগ্য নয়। নিয়ত ও আমল—দুটোই সঠিক হতে হবে।
৫. ভাগ-বণ্টনে গরমিল থাকলে
একই পশুতে অংশীদারদের মধ্যে সমান ভাগ না থাকলে কোরবানি শুদ্ধ হয় না। গরু বা উটে সর্বোচ্চ সাতজন অংশ নিতে পারে, তবে সবার অংশ সমান হতে হবে।
৬. শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কোরবানি
যদি কেউ শুধু মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যে কোরবানি করে, আল্লাহর সন্তুষ্টি না থাকে, তাহলে সেই কোরবানি কবুল হয় না।
ইসলামি দৃষ্টিতে কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, বরং এটি নিয়ত, তাকওয়া এবং আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতার পরীক্ষা। তাই হারাম উপার্জন, লোক দেখানো বা ভুল নিয়ত থেকে দূরে থেকে খাঁটি নিয়তে কোরবানি করাই প্রকৃত ইবাদতের শর্ত।
আরটিভি/জেএমএ



