আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের পশুর হাটগুলোতে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক জায়গায় পশুর ওজন মেপে দাম নির্ধারণ করে কেনাবেচার নতুন পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে বড় শহর ও প্রবাসী এলাকায় কেজি বা ওজন অনুযায়ী গরু কেনার এই পদ্ধতি এখন অনেকেই ব্যবহার করছেন। তবে এতে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, এভাবে পশু কিনলে কোরবানি কি সহিহ হবে?
এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ তার বক্তব্যে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।
ওজন মেপে পশু কেনা কি জায়েজ?
তিনি বলেন, পশুর ওজন মেপে দাম নির্ধারণ করা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ। এতে ক্রেতা ন্যায্যমূল্যে পশু কিনতে পারেন এবং অতিরিক্ত দামের কারণে ক্ষতির শিকার হতে হয় না।
তার মতে, ইসলাম কারও ওপর অন্যায়ভাবে ক্ষতি চাপিয়ে দেয় না। তাই ওজন অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা একটি সহজ ও বৈধ পদ্ধতি।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই কেনাবেচা শুধু লাভ-ক্ষতির হিসাবেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায় এবং কোরবানির ইবাদতের উদ্দেশ্য ভুলে যাওয়া হয়, তাহলে কোরবানির আধ্যাত্মিক গুরুত্ব কমে যেতে পারে।
নিয়তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, অনেকেই বেশি মাংস পাওয়ার আশায় বড় পশু কেনেন, যাতে গরিবদের বেশি দেওয়া যায়— এটি ভালো নিয়ত এবং এতে কোনো সমস্যা নেই।
তিনি আরও বলেন, ন্যায্যমূল্যে ভালো পশু কেনা জায়েজ। এতে নিজের খরচ কমে এবং দরিদ্রদেরও বেশি সহায়তা করা যায়।
তবে যদি উদ্দেশ্য হয় শুধু মাংস খাওয়া বা লোক দেখানো, তাহলে কোরবানির মূল শিক্ষা নষ্ট হয়ে যায়।
কোরবানি কি শুধু মাংসের উৎসব?
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, কোরবানি শুধু মাংস বিতরণের উৎসব নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নির্দেশের সামনে নিজের ইচ্ছা ও স্বার্থকে ত্যাগ করা।
হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের স্মৃতিবিজড়িত এই ইবাদত মুসলমানদের শেখায়, আল্লাহর সন্তুষ্টিই জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য।
তাই আলেমরা বলছেন, কোরবানির ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো সঠিক নিয়ত, শরিয়তসম্মত পশু নির্বাচন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
আরটিভি/জেএমএ



