পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে অনেকের মনে প্রশ্ন—সামর্থ্যবান স্বামী-স্ত্রীর কোরবানি কি একসঙ্গে হবে, নাকি আলাদা আলাদা করতে হবে? ইসলামি শরিয়তের ব্যাখ্যায় এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
শরিয়ত অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন ও মুকিম মুসলমানের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়, যদি তিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন। ১০ জিলহজের ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কারও কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ বা সম্পদ থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়। বর্তমানে রুপার মূল্যকে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়।
স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যদি আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে তাদের ওপর পৃথকভাবে কোরবানি করা ওয়াজিব। একে অপরের কোরবানি দিয়ে দিলে তা উভয়ের জন্য যথেষ্ট হবে না।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“সুতরাং তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।” (সূরা কাউসার: ২)
এই নির্দেশ প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য আলাদাভাবে প্রযোজ্য বলে ফিকহের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অনেক সময় দেখা যায়, স্ত্রীর কাছে নগদ টাকা না থাকলেও সোনা বা রুপার অলংকার থাকে। যদি এসব মিলিয়ে তার সম্পদের মূল্য নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে তার ওপরও কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।
কোরবানি আদায়ের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী চাইলে আলাদা দুটি পশু কোরবানি দিতে পারেন। আবার বড় পশু যেমন গরু বা উটে সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী আলাদা দুটি অংশ নিয়ে একই পশুতে শরিক হয়েও কোরবানি আদায় করতে পারেন।
তবে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানি মূলত যার সম্পদ, তার ওপরই ওয়াজিব। তাই স্ত্রী সামর্থ্যবান হলে স্বামী যদি নিজের অর্থ দিয়ে স্ত্রীর পক্ষ থেকে কোরবানি আদায় করেন, তবে স্ত্রীর অনুমতি থাকলে তা বৈধ হবে এবং স্ত্রীর কোরবানি আদায় হিসেবে গণ্য হবে।
আরটিভি/জেএমএ



