কোরবানির সময় অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—জবাইয়ের আগে যদি পশু মারা যায়, তাহলে কি কোরবানি আদায় হবে? ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে কোরবানি আদায় হয় না।
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানির পশু অবশ্যই জীবিত অবস্থায় জবাই করতে হবে। জবাইয়ের আগে কোনো কারণে পশুটি মারা গেলে, সেটি কোরবানির পশু হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং সেই কোরবানি আদায় হবে না। কারণ ইসলাম মৃত প্রাণী ভক্ষণকে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করেছে।
পবিত্র কোরআনের সুরা মায়েদায় মৃত প্রাণী খাওয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই কোনো পশু যদি জবাইয়ের আগেই হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে বা অন্য কোনো কারণে মারা যায়, তবে তার গোশত খাওয়াও বৈধ নয়।
ফিকহের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, পশু জবাইয়ের সময় জীবিত ছিল কি না তা বোঝার জন্য কিছু লক্ষণ দেখা হয়। যেমন—জবাইয়ের পর রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সামান্য নড়াচড়া বা স্পন্দন।
ইসলামি পরিভাষায় একে ইদতিরাব বলা হয়। যদি পশুর মধ্যে প্রাণের সামান্য লক্ষণও থাকে এবং দ্রুত জবাই সম্পন্ন করা হয়, তবে সেই পশু হালাল হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু প্রাণের লক্ষণ না থাকলে সেটি মৃত প্রাণী হিসেবে গণ্য হবে এবং কোরবানি শুদ্ধ হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ভয়, গরম বা চাপের কারণে অনেক সময় পশুর হঠাৎ মৃত্যু ঘটতে পারে। এ কারণে ইসলাম পশুর প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) পশুকে জবাইয়ের আগে শান্ত রাখতে এবং ছুরি ভালোভাবে ধার করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে পশু কম কষ্ট পায়।
সহিহ হাদিসে এসেছে, জবাইয়ের সময় পশুকে কষ্ট না দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা, ধারহীন ছুরি ব্যবহার করা বা অমানবিক আচরণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ।
তাই কোরবানির সময় পশুকে শান্ত রাখা, সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া এবং জবাইয়ের আগে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোনো সন্দেহ দেখা দিলে অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সচেতনতা ও দয়া-অনুভূতির মাধ্যমেই কোরবানির এই মহান ইবাদত সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
আরটিভি/জেএমএ



