ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

জবাইয়ের আগেই পশু মারা গেলে কোরবানি আদায় হবে কী  

আরর্টিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির সময় অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—জবাইয়ের আগে যদি পশু মারা যায়, তাহলে কি কোরবানি আদায় হবে? ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে কোরবানি আদায় হয় না।

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানির পশু অবশ্যই জীবিত অবস্থায় জবাই করতে হবে। জবাইয়ের আগে কোনো কারণে পশুটি মারা গেলে, সেটি কোরবানির পশু হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং সেই কোরবানি আদায় হবে না। কারণ ইসলাম মৃত প্রাণী ভক্ষণকে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করেছে।

পবিত্র কোরআনের সুরা মায়েদায় মৃত প্রাণী খাওয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই কোনো পশু যদি জবাইয়ের আগেই হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে বা অন্য কোনো কারণে মারা যায়, তবে তার গোশত খাওয়াও বৈধ নয়।

ফিকহের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, পশু জবাইয়ের সময় জীবিত ছিল কি না তা বোঝার জন্য কিছু লক্ষণ দেখা হয়। যেমন—জবাইয়ের পর রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সামান্য নড়াচড়া বা স্পন্দন।

আরও পড়ুন

ইসলামি পরিভাষায় একে ইদতিরাব বলা হয়। যদি পশুর মধ্যে প্রাণের সামান্য লক্ষণও থাকে এবং দ্রুত জবাই সম্পন্ন করা হয়, তবে সেই পশু হালাল হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু প্রাণের লক্ষণ না থাকলে সেটি মৃত প্রাণী হিসেবে গণ্য হবে এবং কোরবানি শুদ্ধ হবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ভয়, গরম বা চাপের কারণে অনেক সময় পশুর হঠাৎ মৃত্যু ঘটতে পারে। এ কারণে ইসলাম পশুর প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) পশুকে জবাইয়ের আগে শান্ত রাখতে এবং ছুরি ভালোভাবে ধার করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে পশু কম কষ্ট পায়।

সহিহ হাদিসে এসেছে, জবাইয়ের সময় পশুকে কষ্ট না দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা, ধারহীন ছুরি ব্যবহার করা বা অমানবিক আচরণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ।

তাই কোরবানির সময় পশুকে শান্ত রাখা, সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া এবং জবাইয়ের আগে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোনো সন্দেহ দেখা দিলে অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সচেতনতা ও দয়া-অনুভূতির মাধ্যমেই কোরবানির এই মহান ইবাদত সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নামের আগে শায়খ কেন কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ
নিজের নামের আগে শায়খ কেন ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়ে খোলামেলা ব্যাখ্যা দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি তিনি  এই বহুল আলোচিত সম্মানসূচক শব্দের প্রকৃত তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি। আলাপচারিতার একপর্যায়ে সাংবাদিক জানতে চান যে সাধারণত দেশে ইসলামী স্কলারদের নামের পূর্বে মুফতি বা মাওলানা জাতীয় পরিচিতি দেখা গেলেও তার নামের শুরুতে ‘শায়খ’ যুক্ত হওয়ার কারণ কী। জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, শায়খ আসলে সম্মানসূচক একটি ভূষণ। আমরা যেরকম ‘জনাব’, ‘শ্রদ্ধেয়’—এ ধরনের শব্দ দিয়ে মানুষকে সম্মানিত করার চেষ্টা করি, শায়খও অনেকটা তেমন। শায়খ শব্দটি মূলত সিনিয়রিটি বোঝায়। আরব বিশ্বে এটি খুব পরিচিত একটি সম্বোধন বা টাইটেল বলা যেতে পারে। সেখানে আলেম-ওলামাসহ সর্বস্তরের মানুষ পরস্পরকে সম্মান করে শায়খ বলে সম্বোধন করেন। আলেমদের ক্ষেত্রে এটি একটু বেশি ব্যবহৃত হয়। তিনি নিজের প্রবাস জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সৌদি আরবে তিনি প্রায় ১০ বছর অবস্থান করেছিলেন। সেখানে দেশটির ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাভাষী প্রবাসীদের ধর্মীয় নানা বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। কোনো প্রবাসী আইনি জটিলতা বা মামলায় জড়িয়ে পড়লে কখনো কখনো স্থানীয় আদালতের বিচারকদের সাথে দোভাষীর দায়িত্বও পালন করতে হতো তাকে। সেখানে বাংলা ভাষাভাষীরাও ‘শায়খ’ শব্দটি বলতে অভ্যস্ত। মূলত সেখান থেকেই ‘শায়খ’ শব্দটি আমার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। বিষয়টি এমন নয় যে এটি কোনো অর্জনের টাইটেল, তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি বিশেষ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা আনুষ্ঠানিক অর্জনের মাধ্যমে পাওয়া কোনো উপাধি নয়। মুফতিদের ক্ষেত্রে যেমন নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা দায়িত্বের বিষয় আছে, এটি তেমন নয়। আমাদের দেশে যেমন মাওলানা বা হুজুর বলে সম্বোধন করা হয়, সেখানে শায়খ বলে সম্বোধন করা হয়। আরটিভি/টিআর
নামের আগে শায়খ কেন কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ
কবর জিয়ারত ও সালাম দিলে মৃতরা কি টের পান?
মৃত্যু অবধারিত। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। প্রিয়জনের মৃত্যুতে স্বজনরা যেমন শোকাহত হন, তেমনি অনেকেই কবর জিয়ারত করতে গিয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও সালাম করেন।
কবর জিয়ারত ও সালাম দিলে মৃতরা কি টের পান?
আজকের নামাজের সময়সূচি
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
যে কারণে ধর্ম উপদেষ্টা ও বায়তুল মোকাররমের খতিব হতে রাজি হননি আহমাদুল্লাহ
অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের প্রস্তাব পেয়েও তা গ্রহণ করেননি আলোচিত ইসলামি বক্তা ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
যে কারণে ধর্ম উপদেষ্টা ও বায়তুল মোকাররমের খতিব হতে রাজি হননি আহমাদুল্লাহ
সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া কি জায়েজ?
ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রী উভয়ের সম্মতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অধিকার বাবা-মায়ের নেই বলে জানিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।
সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া কি জায়েজ?
আরও পড়ুন
দেশে এবার পশু কোরবানি হয়েছে প্রায় ৯৪ লাখ
কোরবানির মাংস খেয়েই কী পেট খারাপ? জানুন আসল কারণ ও সমাধান 
তেজগাঁওয়ে কোরবানির পশুর হাটের জায়গায় বৃক্ষরোপণ
২৮ হাজার টন কোরবানির বর্জ্য ডাম্পিং করেছে ডিএসসিসি