ঈদুল আজহা সামনে রেখে কোরবানির পশু কেনা নিয়ে অনেক সময় নানা অফার দেখা যায়। এর মধ্যে একটি হলো, গরুর সঙ্গে ফ্রি ছাগল দেওয়া। এই ছাগল কি কোরবানিতে ব্যবহার করা যাবে, নাকি আলাদা বিধান রয়েছে—এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানি ওয়াজিব হয় এমন ব্যক্তির ওপর, যার কাছে ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে। অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকলে কোরবানি করা আবশ্যক।
কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশু হলো—উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। এই নির্দিষ্ট পশু ছাড়া অন্য কোনো পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়।
শরিয়ত অনুযায়ী ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স কমপক্ষে এক বছর হতে হবে। গরু ও মহিষের বয়স কমপক্ষে দুই বছর এবং উটের বয়স কমপক্ষে পাঁচ বছর হতে হবে। তবে ভেড়া বা দুম্বা যদি ছয় মাসের বেশি বয়সী হয় এবং দেখতে এক বছরের মতো হৃষ্টপুষ্ট হয়, তাহলে তা দিয়েও কোরবানি করা যাবে।
বাজারে অনেক সময় গরুর সঙ্গে ফ্রি ছাগল বা খাসি দেওয়া হয়। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, এই ছাগলটি গরুর অংশ হিসেবে গণ্য হবে না। এটি আলাদা সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে। মালিক চাইলে সেটি কোরবানি করতে পারেন, রাখতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন বা উপহারও দিতে পারেন।
যদি একাধিক ব্যক্তি মিলে গরু কেনেন, তবে ফ্রি পাওয়া ছাগল তাদের যৌথ মালিকানায় থাকবে। তারা চাইলে সেটি বিক্রি করে টাকা ভাগ করে নিতে পারেন বা গোশত ভাগ করে ব্যবহার করতে পারেন। তবে কোরবানি করার জন্য আলাদা কোনো বাধ্যবাধকতা নেই—শুধু গরু কোরবানি করলেই হবে।
এছাড়া অনেক সময় কোরবানির পশুর সঙ্গে মোবাইল ফোন, ফ্রিজ বা অন্যান্য জিনিস ফ্রি দেওয়া হয়। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এসব পণ্য আলাদা উপহার হিসেবে গণ্য হবে। তাই এগুলো ব্যবহার করা যাবে, সদকা করা বাধ্যতামূলক নয়।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কোরবানি শুধু নির্ধারিত গবাদিপশু দিয়ে এবং নির্দিষ্ট বয়স পূর্ণ হলেই সহিহ হয়। তাই পশু কেনার সময় শরিয়তের নিয়ম সম্পর্কে সচেতন থাকাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/জেএমএ



