ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিচ্ছন্নতা, শালীনতা ও ইবাদতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর বৈধ দাম্পত্য মিলন যেমন সওয়াবের কাজ, তেমনি এর পরবর্তী সময়ে পবিত্রতা ও আদব রক্ষার জন্যও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিধান।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে শারীরিক সম্পর্কের পর করণীয় সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো:
গুপ্তাঙ্গ ধৌত করা (ইস্তিনজা)
গোসলের আগে প্রথমেই শরীরের অপবিত্র স্থান পরিষ্কার করা সুন্নাহ। এ বিষয়ে হজরত মায়মুনাহ (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য গোসলের পানি প্রস্তুত করলে নবী (সা.) প্রথমে উভয় হাত ধৌত করেন এবং এরপর লজ্জাস্থান পরিষ্কার করেন। (সহিহ বুখারি: ২৫৯)
গোসল বিলম্বিত হলে অজু করা
কোনো কারণে সঙ্গে সঙ্গে গোসল করা সম্ভব না হলে বা ঘুমানোর আগে গোসল করতে না পারলে নামাজের অজুর মতো অজু করে নেওয়া সুন্নাহ। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) অপবিত্র অবস্থায় ঘুমানোর আগে অজু করতেন। (সহিহ বুখারি: ২৮৮)
খাওয়া-দাওয়ার আগে হাত ধোয়া বা অজু করা
জানাবাত অবস্থায় গোসলের আগে খাবার বা পানীয় গ্রহণের প্রয়োজন হলে হাত ধুয়ে নেওয়া বা অজু করা সুন্নাহ। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জানাবাত অবস্থায় আহার বা নিদ্রার আগে অজু করতেন। (সুনানে নাসায়ি: ২৫৬)
পুনরায় সহবাসের আগে অজু করা
একই রাতে পুনরায় দাম্পত্য মিলনের ইচ্ছা হলে মাঝখানে অজু করে নেওয়া সুন্নাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি একবার সহবাস করার পর পুনরায় তা করতে চায়, তাহলে সে যেন মাঝখানে অজু করে নেয়। (সুনানে আবু দাউদ: ২২০)
দাম্পত্য গোপনীয়তা রক্ষা করা
স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও গোপন বিষয় অন্যের কাছে প্রকাশ করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের একজন হবে সে, যে স্ত্রীর সঙ্গে একান্ত সম্পর্কের বিষয় মানুষের কাছে প্রকাশ করে। (সহিহ মুসলিম: ১৪৩৭)
প্রয়োজনে প্রস্রাব করে নেওয়া
অনেক ফিকহবিদ গোসলের আগে প্রস্রাব করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এতে বীর্যের কোনো অবশিষ্টাংশ বের হয়ে গেলে পরবর্তীতে পবিত্রতা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও এটি মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি সুন্নাহ হিসেবে হাদিসে বর্ণিত নয়; বরং ফিকহবিদদের একটি সতর্কতামূলক পরামর্শ।
ফরজ গোসল সম্পন্ন করা
দাম্পত্য মিলনের পর নামাজসহ অন্যান্য ইবাদতের জন্য ফরজ গোসল করা আবশ্যক। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, আর যদি তোমরা অপবিত্র থাক, তবে ভালোভাবে পবিত্র হও (গোসল করো)। (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৬)
ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে শরীরের প্রতিটি অংশ এবং চুলের গোড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছানো জরুরি। শরীরের কোনো অংশ শুকনো থাকলে গোসল পূর্ণাঙ্গ হবে না।
ইসলামের শিক্ষা
দাম্পত্য জীবনকে শুধু পারিবারিক সম্পর্ক নয়, বরং ইবাদতের অংশ হিসেবেও বিবেচনা করে ইসলাম। তাই সহবাস-পরবর্তী পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশনা মেনে চললে ব্যক্তি যেমন ধর্মীয় বিধান পালন করতে পারেন, তেমনি স্বাস্থ্যবিধি ও পারিবারিক শৃঙ্খলাও বজায় থাকে।
তথ্যসূত্র: কোরআন; সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম; সুনানে নাসায়ি।
আরটিভি/এসকে



