ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

স্টিফেন হকিং সম্পর্কে জানা অজানা

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০১:৩২ পিএম

জন্মেছিলেন ১৯৪২ সালের ৪ জানুয়ারি, না ফেরার দেশে চলে গেলেন ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ। বিপুল জ্ঞান, প্রতিভা, প্রজ্ঞা ও বিজ্ঞানমনষ্কতার জোরে পৃথিবী থেকেই জয় করেছিলেন তারার দেশ। দেহান্তের পর আবার তারার দেশেই চলে গেলেন স্টিফেন হকিং। আসুন জেনে নেই আলবার্ট আইনস্টাইনের পর বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী পদার্থবিদ সম্পর্কে জানা অজানা নানা তথ্য।

১. গ্যালিলিওর মৃত্যুর ঠিক তিনশ’ বছর পর জন্মগ্রহণ করেছিলেন হকিং। আর মারা গেলেন আইনস্টাইনের জন্মদিনের দিনে।

২. যখন তার বয়স ছিল নয় বছর তখন হকিং ছিলেন ক্লাসের সবচেয়ে খারাপ ছাত্র। অর্থাৎ মেধাক্রমের দিক থেকে সবার পেছনে।

৩. যদিও পরীক্ষায় কম নাম্বার পেতেন তবুও তাঁর বুদ্ধির তীব্রতায় শিক্ষকদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। বিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহের কারণে শিক্ষক আর বন্ধুরা আদর করে ডাকতেন আইনস্টাইন।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: মৃত্যুর কাছে হার মানলেন স্টিফেন হকিং
--------------------------------------------------------

৪. অক্সফোর্ডে ভর্তির আগে পছন্দ করতেন নৌকা চালাতে ও ঘোড়া দাবড়িয়ে বেড়াতে।

৫. ১৯৬৫ সালে জেইন ওয়াইল্ডকে বিয়ে করেন হকিং। তাদের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে। ৩০ বছরের বৈবাহিক জীবন শেষ হয় বিবাহ বিচ্ছেদের মাধ্যমে। এরপর তিনি আবারও বিয়ে করেন তার সাবেক নার্স এলেইন ম্যাসনকে। তবে এ সম্পর্কটিও ভেঙ্গে যায়।

৬. ডাক্তাররা ১৯৬৪ সালেই ঘোষণা করেছিলেন তিনি আর বড়জোর দুই-তিন বছর বাঁচবেন। কিন্তু তাদের মুখে চুনকালি মেখে তিনি বেঁচে ছিলেন ২০১৮ সাল অবধি।

৭. ১৯৭৪ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি ব্রিটেনের সবচেয়ে সম্মানজনক রয়েল সোসাইটি অব সায়েন্সের কনিষ্ঠতম ফেলো হন।

৮. টেলিভিশনের পর্দায় হকিংকে দেখা যেত মাঝে মাঝেই। তিনি প্রায়ই তার ভয়েস সিনথেসাইজার দিয়ে বলা কণ্ঠে ক্যামিও হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন ‘দ্য সিম্পসনস’, ‘দ্য বিগ ব্যাংগ থিওরি’ ও ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’ নামের জনপ্রিয় আমেরিকান সিটকম গুলোতে। এছাড়া আমেরিকার বিখ্যাত টকশোসহ বেশ কিছু ডকুমেন্টারিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

৯. ২০০৭ সালে স্টিফেন হকিং তার মেয়ে লুসি হকিং এর সঙ্গে মিলে লিখেছিলেন ছোটদের বই ‘জর্জস সিক্রেট কি টু দ্য ইউনিভার্স’। যা জর্জ নামের ছোট বালকের কাহিনী। কিন্তু সেখানে রয়েছে ব্ল্যাকহোল, বিগ ব্যাংগ থিওরিসহ নানা বৈজ্ঞানিক ধারণার সহজ বিশ্লেষণ।

১০. ২০১৬ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্স রিসার্চ সেন্টারের উদ্বোধনকালে হকিং বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্ভবত মানব সভ্যতার ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, এর মাধ্যমে সারা পৃথিবী থেকে রোগ এবং দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হবে। তবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র ও দরিদ্র মানুষকে ঠকানোর নতুন পদ্ধতিও তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন।

১১. তিনি যে মটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে হুইলচেয়ারে বসা ছিলেন, সেই দুরারোগ্য ব্যাধিটির নাম অ্যামিওট্রফিক ল্যাটারাল স্লেরোসিস।

১২. ২০১৪ সালে স্টিফেন হকিং ও তার প্রথম স্ত্রী জেইন ওয়াইল্ডের প্রেমকাহিনী নিয়ে বানানো হয় চলচ্চিত্র ‘দ্য থিওরি অব এভরিথিং’। তার চরিত্রে অভিনয় করা ব্রিটিশ অভিনেতা এডি রেডমেইন ২০১৪ সালে সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কার জেতেন। সিনেমাটির উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন স্টিফেন হকিং।

১৩. ২০০৭ সালে তিনি পৃথিবীর প্রথম প্যারালাইজড ব্যক্তি হিসেবে ‘জিরো গ্র্যাভিটি’তে ভেসেছিলেন। নাসার কেনেডি ফ্লাইট স্টেশনের একটি বিশেষ বিমানে চড়ে তিনি এ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন।

আরও পড়ুন:

কেএইচ/ এ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মঙ্গল গ্রহে ৫০ মাইল জুড়ে বরফপূর্ণ গর্ত
মঙ্গল গ্রহের এই ছবিকে বরফের সুন্দর একটি স্তূপ মনে হতে পারে। বৃহস্পতিবার ‘মার্স এক্সপ্রেস’ মিশনের মাধ্যমে তোলা এই ছবিটি প্রকাশ করে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি। এতে দেখা যায়, আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের মতো বৃত্তাকার গর্তটি বরফ পানি দিয়ে পূর্ণ। মঙ্গলের শীতকালীন আবহাওয়ার জন্য গর্তটি শুধু বরফ পূর্ণই নয় বরং এখানে ৫ হাজার ৯০৫ ফুট পুরুত্বের বরফ থাকে সারাবছর। এই গর্তকে করোলেভ ক্রাটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সিএনএনের প্রতিবেদন বলছে, এটা ৫০ দশমিক ১ মাইল জুড়ে বিস্তৃত। মঙ্গল গ্রহের উত্তরে নিম্নাঞ্চলের এই জায়গাটি অলিম্পিয়া আনডে হিসেবেও পরিচিত। বরফ দিয়ে পূর্ণ এই গর্তের গভীর অংশটি ‘কোল্ড ট্র্যাপ’ হিসেবে ভূমিকা পালন করে। এই বরফের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বাতাস ঠাণ্ডা হয় এবং বরফের ওপরে ঠাণ্ডা বাতাসের একটি স্তর তৈরি করে। মূলত এ কারণেই বরফ গলে না। এই গর্তের নাম করোলেভ রাখা হয়েছে সার্গেই করোলেভের নামানুসারে যিনি একজন শীর্ষ রকেট ইঞ্জিনিয়ার এবং স্পেসক্র্যাফট ডিজাইনার। তাকে সোভিয়েত স্পেস টেকনোলজির জনক বলা হয়। সার্গেই করোলেভ স্পুটনিক প্রোগ্রামে কাজ করেছেন। এছাড়া ভোস্টক প্রোগ্রামেও তিনি কাজ করেছেন যা মানুষকে প্রথম মহাশূন্যে নিয়ে যায়। মঙ্গল গ্রহের এই গর্তটির ছবি তোলা হয়েছে মার্স এক্সপ্রেস হাই রেজুলেশন স্টেরিও ক্যামেরা দিয়ে। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি তাদের মার্স এক্সপ্রেস মিশনের ১৫ বছর পূর্তি পালন করছে। এই মিশন চালু হয় ২০০৩ সালের জুনে এবং মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করে ২০০৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর। ইনসাইটের কার্যক্রম কিছুদিন আগে নাসার যান ইনসাইট মঙ্গলে সফলভাবে অবতরণ করেছে। ২৬ নভেম্বর মঙ্গলের মাটিতে পৌঁছানোর পর থেকে ছবি তোলার পাশাপাশি আশেপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছে ইনসাইট। বুধবার প্রথমবারের মতো এর যন্ত্রাংশ মঙ্গলের মাটিতে স্থাপন করা হয়। সিসমোমিটার নামের ভূমির অবস্থা পর্যবেক্ষণের যন্ত্রটি এই প্রথম অন্য কোনও গ্রহের মাটিতে স্থাপন করা হলো। ইনসাইটে সংযুক্ত হাত যন্ত্রটি থেকে ৫ দশমিক ৩ ফুট দূরত্বে পৌঁছাতে পারে। ফলে ইনসাইট থেকে এই পরিমাণ দূরত্বে সিসমোমিটারটি স্থাপন করা হয়েছে। এ সম্পর্কে ইনসাইটের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ব্রুস বানেড বলেন, সিসমোমিটার স্থাপন মঙ্গলে ইনসাইট অবতরণের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। ইনসাইটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ হলো সিসমোমিটার। আমাদের উদ্দেশ্য পূরণে এই যন্ত্রাংশ প্রয়োজন। ইনসাইট প্রোজেক্ট ম্যানেজার টম হফম্যান বলেন, ইনসাইট আমাদের আশার চেয়েও ভালো কাজ করছে। সিসমোমিটারকে ভূমিতে স্থাপন করতে পারা বড়দিনের দারুণ একটি উপহার। সিসমোমিটারটির সাহায্যে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন, মঙ্গলের ভূমির নিচ্ছে কী হচ্ছে। এছাড়া এর সাহায্যে সেখানকার ভূমিকম্পের অবস্থা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে। এ সম্পর্কে সিসমোমিটারটির প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ফিলিপে লগনন্নে বলেন, এটা ভূমিতে রাখা মানে কানের কাছে একটি ফোন ধরে রাখা। আমরা খুবই উত্তেজিত যে, আমরা মঙ্গলের মাটির নিচে কী হচ্ছে তা শোনার জন্য ভালো অবস্থায় আছি। সিসমোমিটারটি কী তথ্য পাঠায় তা পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বিজ্ঞানীরা। এ সম্পর্কে এক বিজ্ঞানী বলেন, ইনসাইটের ওই সিসমোমিটার থেকে যখন তথ্য পাওয়া শুরু করবো তখন আমরা শ্যাম্পেইনের মাধ্যমে তা উদযাপন করবো। এজন্য আমার নিজের একবোতল শ্যাম্পেইন রাখা আছে। ডি/পি
মঙ্গল গ্রহে ৫০ মাইল জুড়ে বরফপূর্ণ গর্ত
মঙ্গলে বাতাসের শব্দ রেকর্ড নাসার (ভিডিও)
মহাকাশযান ইনসাইট মঙ্গল গ্রহের বাতাসের শব্দ রেকর্ড করে পাঠিয়েছে। লাল গ্রহের মাটিতে পা ছোঁয়ানোর ১০ দিনের মধ্যেই বাতাসের শব্দ শুনতে পেল ইনসাইট। শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাব এই বাতাসের শব্দ প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অল্প কম্পাঙ্কসহ বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ সংগ্রহ করেছে ইনসাইট। তাদের ধারণা মঙ্গলে প্রতি ঘণ্টায় ১৬ থেকে ২৪ কিলোমিটার গতিতে বাতাস বয়ে যায়। এই প্রথমবার মানবসভ্যতা মঙ্গলের শব্দ শুনলো বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। জানা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর ওই বাতাস রেকর্ড করে পাসাডেনায় নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরিতে রিলে করে পাঠিয়েছে ইনসাইট ল্যান্ডার। আর তা পরীক্ষা করে নাসা জানিয়েছে, গত ১ ডিসেম্বর মঙ্গলের বুকে বইতে থাকা বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ মাইল অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ৫ থেকে ৭ মিটার। বিজ্ঞানীরা জানান, এটি পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে। স্বাভাবিক চাপ ও তাপমাত্রায় সমতল এলাকায় আমাদের গ্রহে গড়ে সেকেন্ডে ২০ মিটার গতিবেগের মধ্যে বাতাস বইতে থাকে। নাসা জানিয়েছে, ইনসাইটের দুটি যন্ত্রে বাতাসের সেই শব্দ ধরা পড়েছে। তাদের একটি ‘এয়ার প্রেসার সেন্সর’,  যা বসানো ইনসাইটের ভেতরে রয়েছে। এটি ইনসাইটে থাকা ‘অক্সিলিয়ারি পেলোড সেন্সর সাবসিস্টেম’ (এপিএসএস)-এরই একটি অংশ। ‘এপিএসএস’ মঙ্গলের বুক থেকে মাটি তুলে আনবে। মঙ্গলের বুকে বসেই পরীক্ষানিরীক্ষা চালানোর জন্য এমনটা করবে ইনসাইট। অন্য যন্ত্রটি ‘সাইসমোমিটার’, সেটি রাখা রয়েছে ইনসাইট ল্যান্ডারের ডেকে। ওই ‘ডেকই’মঙ্গলের মাটিতে নামিয়ে দেবে ইনসাইটের রোবট হাত। এটি লাল গ্রহের মাটি খুঁড়বে। তখন ডেকে থাকা সাইসমোমিটার মঙ্গলের পিঠের নিচে এখনও কম্পন (মার্সকোয়েক) হয় কি না, হলে তার মান কতটা পরীক্ষা করে দেখতে শুরু করবে। নাসা জানিয়েছে, এয়ার প্রেসার সেন্সরেই বইতে থাকা বাতাসের কম্পন প্রথম সরাসরি ধরা পড়েছে। দুটি সৌর প্যানেলের ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে যাওয়ার ফলে কেঁপে উঠেছিল ইনসাইট। নাসার ল্যান্ডারের সেই কম্পন ধরা পড়েছে সাইসমোমিটারে। এ
মঙ্গলে বাতাসের শব্দ রেকর্ড নাসার (ভিডিও)
মৃত নারীর প্রতিস্থাপিত জরায়ু থেকে শিশুর জন্ম
একজন মৃত নারীর জরায়ু অন্য নারীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হলে তিনি মা হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ব্রাজিলের চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, বিশ্বে এটিই এ ধরনের প্রথম ঘটনা। খবর বার্তা এপির। এর আগে অন্য ব্যক্তির শরীরে জীবিত ব্যক্তির প্রতিস্থাপিত জরায়ু থেকে ১১ বার সন্তান জন্ম হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যদি ব্রাজিলের ওই চিকিৎসকদের দাবি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে মৃত একজন ব্যক্তির জরায়ু, জীবিত কোনও ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করার পর মা হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের জরায়ু আরও অনেক জীবিত ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন সম্ভব হবে। এর আগে মৃত ব্যক্তি জরায়ু জীবিত কোনও ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপনের ১০টি চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকরা। জরায়ু প্রতিস্থাপিত করা ওই নারী গত ডিসেম্বরে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। একটি বিরল রোগের কারণে জরায়ু ছাড়াই ওই নারীর জন্ম হয়েছিল। ইউনিভার্সিটি অব সাও পাওলো স্কুল অব মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই জরায়ু প্রতিস্থাপন টিমের প্রধান চিকিৎসক ডা. দানি এজেনবার্গ বলেন, পেশায় মনোবিজ্ঞানী ৩২ বছর বয়সী ওই নারী জরায়ু প্রতিস্থাপনের বিষয়ে প্রথমে ভয় পাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, এটা তার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। এখন সে আমাদেরকে তার শিশুকে দেখাতে নিয়ে এসেছে এবং সে খুব খুশি। জরায়ু প্রতিস্থানের সাত মাস পর ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের মাধ্যমে ওই নারী গর্ভবতী হন। এই জরায়ুর দাতা ছিলেন তিন সন্তানের জননী ৪৫ বছর বয়সী এক নারী, যিনি স্ট্রোক করে মারা যান। অজ্ঞাত গ্রহীতা সিজারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসকরা এসময় তার গর্ভের কিছুটা অংশ সরিয়ে ফেলে, যাতে ওই নারীকে আর অ্যান্টি-রিজেকশন মেডিসিন নিতে না হয়। ওই ঘটনার প্রায় এক বছর পর মা ও সন্তান দুজনেই সুস্থ আছে। গবেষণার অংশ হিসেবে আরও দুজনের জরায়ু প্রতিস্থান করা হবে জানা গেছে। তবে প্রথম ঘটনার বিস্তারিত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটে মঙ্গলবার প্রকাশ পায়। জরায়ু প্রতিস্থানের পথিকৃত বলা হয় সুইডেনের চিকিৎসক ম্যাটস ব্রানস্ট্রমকে। পরিবারের সদস্য বা বন্ধু-বান্ধবের শরীর থেকে নিয়ে গ্রহীতার শরীরে জরায়ু প্রতিস্থাপনের অন্তত আটজন নারী মা হয়েছেন। জীবন্ত দাতার শরীর থেকে প্রতিস্থাপিত জরায়ুর মাধ্যমে দুজন শিশুর একজন টেক্সাসের বেইলর ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার এবং আরেকজন সার্বিয়ায় জন্ম নেয়। এর আগে ২০১৬ সালে ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক একজন মৃত নারীর জরায়ু অন্য নারীর শরীরে প্রতিস্থাপন করেন, কিন্তু একটি সংক্রমণের কারণে সেটি ব্যর্থ হয়। ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. টোমাসো ফ্যালকন বলেন, ব্রাজিলের গ্রুপ প্রমাণ করেছে যে মৃত ব্যক্তিকে দাতা হিসেবে ব্যবহার একটি সম্ভাব্য অপশন। এর ফলে আমাদের ভাবনার চেয়েও বেশি পরিমাণ অঙ্গ সরবরাহ সম্ভব হবে। ক্লিভল্যান্ডের ওই দলটি এখনও মৃত দাতার জরায়ু প্রতিস্থাপনের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। ফ্যালকন বলেন, বরফের মধ্যে প্রায় আট ঘণ্টা ওই জরায়ু সংরক্ষণ করে রাখার পর প্রতিস্থাপন সফল হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে ওই জরায়ুটি কতটা স্থিতিস্থাপক ছিল। অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এর ফরে গর্ভবর্তী হতে বিলম্ব হওয়ার রহস্য হয়তো উদঘাটন করা সম্ভব হবে। ল্যানসেটে একই বিষয় নিয়ে এক যৌথ লেখায় ডা. সিজার ডিয়াজ বলেছেন, গর্ভধারণের অনেক বিষয় আছে যেগুলো আমরা এখনও জানি না, যেমন ভ্রূণ কীভাবে প্রতিস্থাপন করা যায়। এই প্রতিস্থাপন আমাদের জরায়ু প্রতিস্থাপন এবং গর্ভধারণের প্রতিটি ধাপ বুঝতে সাহায্য করবে। এ/ এমকে
মৃত নারীর প্রতিস্থাপিত জরায়ু থেকে শিশুর জন্ম
এলিয়েনরা ইতোমধ্যেই পৃথিবী পরিদর্শন করে গেছে: নাসার বিজ্ঞানী
এলিয়েন নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। কেউ কেউ এর অস্তিত্ব স্বীকার করলেও অনেকেই বহিরাগত এই প্রাণীর অস্তিত্ব অস্বীকার করেন। সম্প্রতি নাসার বিজ্ঞানী এলিয়েনদের কথা স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। নাসার এক বিজ্ঞানী বলেছেন, ইতোমধ্যে বুদ্ধিমান এলিয়েনরা পৃথিবী পরিদর্শন করে গেছে। তবে তাদের আকার এতোই ছোট যে আমাদের নজরে পড়েনি। ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নাসার এই বিজ্ঞানীর নাম সিলভানো পি কলম্বানো। নাসার এই বিজ্ঞানী বলেন, এলিয়েনরা খুবই বুদ্ধিমান। তারা পৃথিবীতে আসতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে যা আমাদের কল্পনাতেও নেই। বহিরাগত কোনও প্রাণী বা গোয়েন্দাদের সন্ধানে নাসা প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করে। তেমনই ‘সার্চ ফর এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল  ইন্টেলিজেন্স’ নামের একটি প্রোগ্রাম থেকে এলিয়েন সংক্রান্ত ধারণা পায় বিজ্ঞানীরা। এর আগে গত মার্চে আরও একবার এলিয়েনদের নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন কলম্বানো। তখন তিনি বলেছিলেন, বহিরাগত গোয়েন্দাদের সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণার পরিসর আরও বড় করতে হবে। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি শুধু বলতে চাই, আমরা বহিরাগত যাদের পেতে পারি তারা কেউই আমাদের মতো হবে না। তাদের শরীরের গড়ন আমাদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। এ কারণে তাদের সম্পর্কিত সব ধারণাই পাল্টানো প্রয়োজন। আরও পড়ুন :  মঙ্গলে অবতরণ করেছে নাসার যান ‘ইনসাইট’ যে কাঁকড়ার রক্ত প্রতি লিটার ১২ লাখ টাকা ডি/এমকে
এলিয়েনরা ইতোমধ্যেই পৃথিবী পরিদর্শন করে গেছে: নাসার বিজ্ঞানী
মঙ্গলে ল্যান্ডিং স্পেস নির্বাচন করেছে নাসা
মঙ্গলে পরবর্তী রোভার মিশনের জন্য ল্যান্ডিং স্পেস নির্বাচন করেছে নাসা। এটা ৩৬০ বছরের পুরনো একটি আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ। সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই জায়গাটি এখনও অসমতল। সিএনএনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জেজারো ক্রেটার বা জেজারো আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ হিসেবে পরিচিত ল্যান্ডিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি ৪৫ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। কার্যকর বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ২০২০ সালের মিশনে এই ল্যান্ডিং স্পেসটি ব্যবহার করা হবে। এ সম্পর্কে নাসার বিজ্ঞান মিশন দপ্তরের সহযোগী প্রশাসক থমাস জরবাচ্চেন বলেন, জেজারো ক্রেটারে ল্যান্ডিংয়ের জায়গাটি ভূতাত্ত্বিকভাবে একটি সমৃদ্ধ অংশ। এর ভূতাত্ত্বিক গঠন ৩৬০ বছরের পুরনো। এজন্য এখান থেকে গ্রহের বিবর্তন ও এস্ট্রোবায়োলজি (জ্ঞানের যে শাখায় মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়) সম্পর্কিত অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, অনন্য এই এলাকাটি থেকে প্রাপ্ত নমুনা মঙ্গল সম্পর্কে আমাদের চিন্তা-ভাবনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। ল্যান্ডিং স্পেস হিসেবে এই জায়গা নির্ধারণ এতো সহজ ছিল না। পাঁচ বছর গবেষণা এবং আরও ৬০টি স্থানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর এই স্থানটি নির্বাচন করা হয়। অনলাইনে প্রকাশিত এক সংবাদ বিবৃতিতে নাসা জানায়, জেজারো অঞ্চলে পাঁচ ধরনের শিলার উপস্থিতি পাওয়া যেতে পারে। এগুলো বিশ্লেষণ করে অতীত জীবন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। মঙ্গলে ল্যান্ড করা খুবই দুঃসাধ্য। এখন পর্যন্ত লাল এই গ্রহের উদ্দেশে পরিচালিত মিশনের মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ মিশন সফল হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০টি যানের মধ্যে মাত্র ৪০টি যান সফলভাবে মঙ্গলে ল্যান্ড করতে সক্ষম হয়। ১৯৬৫ সাল থেকে মঙ্গলে মিশন পরিচালনা করে আসছে নাসা। ডি/ এমকে 
মঙ্গলে ল্যান্ডিং স্পেস নির্বাচন করেছে নাসা
আরও পড়ুন
মৃত্যুর আগে সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে যা বলে গেছেন হকিং
আম নিয়ে যত অজানা তথ্য
স্টিফেন হকিং কী সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী ছিলেন?
‘দ্য থিওরি অব এভরিথিং’