৭৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দবাজার অনলাইনে সম্প্রতি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন সংগীতশিল্পী কবীর সুমন। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কাম! মুক্ত কাম! যেখানে অশ্লীলতাই সব। বয়স হয়েছে। রাতে ভাল ঘুম হয় না। কিন্তু আমি বিছানায় চূড়ান্তভাবে সক্ষম। নারীরা আমাকে সমৃদ্ধ করেছেন। নতুন ধারণা আবিষ্কার করে প্রেম করাতেই আমার এনার্জি। আঁতলামি নয়, প্রেম করতে হবে শরীর দিয়ে, ভালবাসা দিয়ে এবং সম্মান দিয়ে।
এই সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) ক্ষোভ ঝেড়েছেন বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
স্ট্যাটাসে তসলিমা লেখেন,এই সুমনকে আমি ‘মুসলমান সুমন’ বলি না, এই সুমনকে আমি ‘হিপোক্রেট সুমন’ বলি। আমি বিশ্বাস করি না এই সুমন আল্লাহ রসুল নামাজ রোজায় বিশ্বাস করেন। এই সুমন স্বার্থের জন্য যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন। যদি দেখেন আঘোরি বা নাঙ্গা সন্ন্যাসী সাজলে কিছু ফায়দা হবে, বা লোককে বোকা বানিয়ে মজা লোটা যাবে, তিনি তাই করবেন।
তিনি লেখেন, আমি বুঝি না, সাংবাদিকরা যখন তাঁর ইন্টারভিউ নেয়, কেন সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা কেউই জিজ্ঞেস করে না। বিছানায় তিনি ৭৫ বছর বয়সেও সক্ষম, এই কথা কেন শোনাচ্ছেন, পুরুষদের বোকা বানানোর জন্য নাকি নারীদের? মানুষটার আদর্শ বলে কোনওকালে কিছু কি ছিল? আমার সন্দেহ হয়। একসময় নাকি বামপন্থী ছিলেন। বামপন্থী যদি সত্যি হতেন, এত সহজে তৃণমূলী হতেন না।
নির্বাসিত এ লেখিকা লেখেন, তাঁর নাকি গাড়ি নেই। অনেকে এমন কথা বলে প্রমাণ করতে চান তাঁরা খুব সৎ মানুষ। অনেক অসৎ লোকের কিন্তু গাড়ি থাকে না, আবার অনেক সৎ লোকেরও গাড়ি থাকে। গাড়ি না থাকা সততার কোনও প্রমাণ হয়। আমার আজ মনে হয়, যে অসাধারণ গানগুলো তিনি লিখেছিলেন, গেয়েছিলেন, সেই গানের কথাগুলো তিনি তখনও বিশ্বাস করতেন না, এখনও বিশ্বাস করেন না। গানের ক্ষেত্রে যেমন তাঁর প্রতিভার তুলনা হয় না, ভণ্ডামোর ক্ষেত্রেও তাঁর প্রতিভার তুলনা হয় না বলে মন্তব্য করেন তসলিমা।
সবশেষে তিনি লেখেন, পুনশ্চ: মনে আছে ২০০৭ সালে তিনি আমার বিরুদ্ধে তাণ্ডব করা কলকাতার ফতোয়াবাজ জিহাদিদের পক্ষ নিয়েছিলেন?
উল্লেখ্য, কবীর সুমন, বাংলাদেশের জনপ্রিয় গায়িকা সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামী। ২০০০ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার আগে তার পূর্বনাম সুমন চট্টোপাধ্যায়। তিনি একজন বিশিষ্ট আধুনিক ও রবীন্দ্রসংগীত গায়ক। তার স্বরচিত গানের অ্যালবামের সংখ্যা পনেরো। ১৯৯২ সালে তোমাকে চাই অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি বাংলা গানে এক নতুন ধারার প্রবর্তন করেন।