দেশের বিদ্যুৎ খাতে পাহাড়সম ৫০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া থাকার মূল কারণ হিসেবে বিগত আওয়ামী লীগ আমলের ভয়াবহ দুর্নীতি ও অর্থ পাচার দায়ী বলে জানিয়েছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’।
প্রতিষ্ঠানটি এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিদ্যুৎ খাতের এই বিশাল ঋণের বোঝার পেছনে বর্তমান সরকারের কোনো দায় নেই।
বাংলাফ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল থেকেই এই বকেয়া সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এই বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নিলেও ঋণের পরিমাণ বিশাল হওয়ায় তার একটি বড় অংশ অমীমাংসিত থেকে যায়। বর্তমানে বিএনপি সরকার এই দায় মেটানোর জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। যার অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পাওনা পরিশোধ করেছে।

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব অপতথ্যের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এবং চব্বিশের গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।
পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে এবং নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে নানা গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট। নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরা এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করাই এই টিমের মূল কাজ।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-র অধীনে ‘বাংলাফ্যাক্ট’ একটি পেশাদার মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম হিসেবে কাজ করছে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করার মাধ্যমে তারা জনমনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনছে। বাংলাদেশে চলমান গুজব এবং অপতথ্য প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট সকলকে যেকোনো তথ্যে বিশ্বাস করার আগে তার সত্যতা যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছে। বিশেষ করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচারিত কোনো রাজনৈতিক অপপ্রচারে কান না দিয়ে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এবং ভুয়া খবরের বিস্তার রোধে বাংলাফ্যাক্ট তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে।
আরটিভি/এআর



