ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফেসবুকে স্ট্যাটাসে যা বললেন সালাহউদ্দিন আম্মারের মা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২০ এএম
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের মা রোকেয়া খানম নিজের ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। নিজেকে ‘গর্বিত বিপ্লবীর মা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি তার ছেলের সংগ্রামী জীবন এবং তার পরিবারের ওপর বিগত দিনে বয়ে যাওয়া রাজনৈতিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন।

শুক্রবার(২৪ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তিনি এই স্ট্যাটাস দেন, যা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

স্ট্যাটাসে রোকেয়া খানম জানিয়েছেন, ১৫ জুলাই পর্যন্ত সালাহউদ্দিনকে নিয়ে তার অনেক দুশ্চিন্তা ছিল। কিন্তু যেদিন আবু সাঈদ শাহাদাতবরণ করলেন, সেদিনই তিনি তার একমাত্র ছেলেকে দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন। তিনি লিখেছেন, তার ছেলেকে যারা ঘৃণা করে তারা দলের জন্য করে, আর যারা ভালোবাসে তারা দেশের জন্য ভালোবাসে।

আরও পড়ুন

নিজের পরিবারের ওপর গত সরকারের শাসনামলে হওয়া অমানবিক নির্যাতনের করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি। তিনি লিখেছেন, তার নিজের আপন ভাইকে বিএনপি করার অপরাধে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানো হয়েছিল। এমনকি তার স্বামীকে জামায়াত সমর্থনের অভিযোগে কোমরে দড়ি বেঁধে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যার ফলে তিনি আর কখনোই সুস্থ হতে পারেননি।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ২০১৮ সালে সালাহউদ্দিনকে তিনি একরকম চুপিচাপি দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। স্ট্যাটাসে রোকেয়া খানম আক্ষেপ করে লিখেছেন, অনেকেই তার ছেলের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হন, আবার অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলেন, ২০২৪-এর আগে সে কোথায় ছিল।

তিনি বলেন, সালাহউদ্দিনের কৈশোর কেড়ে নিয়েছে তৎকালীন ফ্যাসিজমের শাসকেরা। যারা তার দিকে আঙুল তোলেন, তারা বোঝেন না যে এই ইস্যুগুলো দেখতে দেখতে তার জীবনে নিজের জন্য কোনো আবেগ অবশিষ্ট নেই।

সালাহউদ্দিনের মা আরও বলেন, তাকে থামতে বলতে বলতে তিনি চলতে শিখে গেছেন। তাই এখন আর তিনি থামতে বলেন না। তার প্রার্থনা, আল্লাহ যখন তার ছেলেকে নিয়ে যাবেন, তখন যেন তিনি তাকে হাসিমুখে বিদায় জানাতে পারেন।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের ফেসবুক পোস্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত তাদেরকে ঘরবন্দী করে রেখেছিল পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের একটাই দাবি ছিল, সালাহউদ্দিনকে যেন ফিরিয়ে আনা হয়, নতুবা তার অসুস্থ স্বামীকে হত্যা করা হবে। সেই হুমকির মুখেও তিনি ছেলেকে থামতে বলেননি। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, ছেলের জন্য তাকে মারবেন, নাকি তার অসুস্থ স্বামীকে মারবেন?

অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী তাকে জিডি করার পরামর্শ দিয়েছেন। এর উত্তরে তিনি লিখেছেন, প্রয়োজন হলে তিনি জিডি করবেন, কিন্তু নিরাপত্তার জন্য নয়; বরং জাহেলি যুগের মতো ইতিহাসের সাক্ষী থাকার জন্য। তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হলে যেন সেই জিডির কপি দেখে বাংলাদেশের বিপ্লবী সন্তানদের মা-বাবারা সাহস পান।

রোকেয়া খানম আক্ষেপ করে লিখেছেন, তার আপন ভাই, যাকে বিএনপি করার জন্য একসময় অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছিল, সেই ভাই এখন সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এটা দেখে তিনি বুঝে গেছেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক, সালাহউদ্দিন সবসময় তাদের ক্ষমতার ত্রুটিগুলো প্রশ্নবিদ্ধ করবে, আর তখন সেই ক্ষমতার মোহে থাকা মানুষগুলোই তার বিরুদ্ধে কথা বলবে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি লাগানোর অ্যাক্টিভিজম জামায়াত করিয়েছে: রাশেদ খান
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি লাগানোর অ্যাক্টিভিজম জামায়াত করিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খান।  সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এমন মন্তব্য করেন। রাশেদ খান লেখেন, গতকাল পোস্ট করেছিলাম যে প্রতারক উজ্জ্বল তথা নাম বদলে ফেলা আয়াসকে দিয়ে জামায়াতের পক্ষে অ্যাক্টিভিজম করান জামায়াত আমিরের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। তিনি আরো লেখেন, ‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি লাগানোর অ্যাক্টিজমও জামায়াত করিয়েছে। আজকে (সোমবার) অবশ্য চুনকালি লাগানোর পক্ষে বিবৃতি দিয়ে জামায়াত এই দায় নিয়েই নিল। আর এ জন্য নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য আমি জামায়াতকে ধন্যবাদ জানাই। এখন অপেক্ষায় রইলাম এনসিপির অবস্থান দেখার জন্য।’ রাশেদ খান লেখেন, ‘জামায়াতের কাছে মেজর আখতারুজ্জামান যেমন একজন জুলাইযোদ্ধা, ঠিক প্রতারক উজ্জ্বলও একজন জুলাইযোদ্ধা! এভাবে জুলাইযোদ্ধা শব্দটিকে বিতর্কিত করেছে জামায়াত ও মববাজরা।’ আরটিভি/এসকে
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি লাগানোর অ্যাক্টিভিজম জামায়াত করিয়েছে: রাশেদ খান
ওসমান হাদি বলে গেছেন, পাটওয়ারী জুলাই বিক্রিকারী গাদ্দার: ফারুক
গণ অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি পদমর্যাদার দলীয় মুখপাত্র ফারুক হাসান বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের শহীদ ওসমান হাদি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ সংশ্লিষ্টদের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিক্রিকারী গাদ্দার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে গেছেন। 
ওসমান হাদি বলে গেছেন, পাটওয়ারী জুলাই বিক্রিকারী গাদ্দার: ফারুক
ভারতে জেন-জি আন্দোলনের পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশ: নেহা বোরা
নেহা বোরা বলেন, আশা করি, আপনারা ও আমরা মিলে একটি ভালো দক্ষিণ এশিয়া গড়তে পারবো।
ভারতে জেন-জি আন্দোলনের পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশ: নেহা বোরা
সারজিস শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডেকে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে: রাশেদ খান
সারজিস আলম শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডাকতে ডাকতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, ছাত্রলীগের একটা কর্মী পদের জন্য যে সারজিস আলম প্রতিদিন সাদ্দাম-ইনানের পা চাটত, সেও আজকে আমাদের নিয়ে বড় বড় কথা বলে! শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডেকেও যার একটা পদ হয়নি, সেই পা-চাটা সারজিস আলম কোন লজ্জায় আমাদের নিয়ে কটাক্ষ করে? মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। রাশেদ খান বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় যার চুলের স্পাইক পর্যন্ত নষ্ট হয়নি, পাঞ্জাবির আয়রনের ভাঁজ পর্যন্ত ভাঙেনি, ডিবি অফিসে জুস খেতে খেতে যে ঘটনাচক্রে নেতা হয়ে গেছে, সেও আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আমরা নাকি ১৮ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে আপস করে সরকার পতন না ঘটিয়ে শুধুমাত্র কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছি! তিনি বলেন, আচ্ছা ধরেই নিলাম, আমরা আপস করেছিলাম। কিন্তু ২০১৮ সালের পরে আমরা যেসময় শেখ হাসিনাবিরোধী লড়াইয়ে নেমেছি, ক্যাম্পাসে অসংখ্যবার মাইর খেয়েছি, তখন এই সারজিস আলম শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডাকতে ডাকতে ফেনা তুলে ফেলেছে! প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরো বলেন, জুলাই গাদ্দার সারজিস আলম শহীদের রক্ত মাড়িয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে, এটা কি জাতি ভুলে গেছে? জাতি কি ভুলে গেছে, নাহিদ-আসিফকে তুলে নেওয়া কিংবা ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পরেও কারফিউয়ের মধ্যে সারজিস-হাসনাত গোয়েন্দা সংস্থার গাড়ি করে ঘুরে বেড়িয়েছে! আরটিভি/এসকে
সারজিস শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডেকে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে: রাশেদ খান
‘কী হাস্যকর আত্মসন্তুষ্টি, কী অসুস্থ চিন্তা’
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
‘কী হাস্যকর আত্মসন্তুষ্টি, কী অসুস্থ চিন্তা’
আরও পড়ুন
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আম্মারের কটূক্তি, প্রতিবাদে রাকসুতে পোস্টার সাঁটাল ছাত্রদল
রাকসুর উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ফ্রি হেলথ ক্যাম্প
বাংলাদেশ শিবির ও পাকিস্তান শিবিরের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন আম্মার
এক হাত নেই তবুও শিক্ষার্থীদের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন রাকসুর মাসুদ