আত্মহত্যার প্রবণতা করোনার মতোই ছোঁয়াচে হচ্ছে! (ভিডিও) 

খান আলামিন

রোববার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ , ১১:৩৫ এএম


আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া মানে সামাজিক বিপর্যয়। পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা আর রাষ্ট্রীয় দায়িত্বহীনতার কারণেই এগুলো বেড়ে চলছে। আত্মহত্যার প্রবণতা করোনার মতোই ছোঁয়াচে হয়ে যাচ্ছে। মেনে নেওয়া, মানিয়ে চলার মতো সমাধান না খুঁজে সমস্যা থেকে চিরতরে পালাতে চাইছে মানুষ। সমাজ ও মনোজগৎ বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে উঠে এসেছে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার এমন নানান সবদিক।

বিজ্ঞাপন

বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশন পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, গত বছর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। ২০২০ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ৭৯। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন আত্মহত্যা করে।

সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর ও ব্যবসায়ী মহসিন খানের আত্মহত্যার ঘটনা সারাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। গুলি করার আগে ১৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে তার মনের যে ব্যকুলতা প্রকাশ পেয়েছে, তা সবার মনের গভীরে দাগ কেটেছে। এমন ঘটনা আগেও বেশ কয়েকবার প্রত্যক্ষ করেছে নেটিজেনরা।

বিজ্ঞাপন

সমাজ বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে গবেষণা করছেন। সামাজিক ও পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বহীনতা এবং প্রযুক্তির অবাধ বিকাশকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তারা।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলছেন, সামাজিক সম্পর্ক এবং বন্ধনের দিক থেকে তাদের (আত্মহত্যাকারী) সম্পর্কটা ছিলো অনেক শীতল এবং তারা কোনো উঞ্চতা এখানে অনুভব করেনি। এ কারণেই আত্মহত্যার মাধ্যমে জীবনকে বিসর্জন দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে তারা জানান দিয়ে যাচ্ছেন এই সমাজ, পরিবার-পরিজনের কাছ থেকে তারা কতটা অবহেলার শিকার হয়েছেন। এটি একটি সামাজিক বিপর্যয়।

বিজ্ঞাপন

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের বেঁচে থাকার যেমন ইচ্ছা থাকে, তেমনি মরে যাওয়ার প্রবৃত্তিও অবচেতন মনে বিরাজ করে। যখনই মরে যাওয়ার ইচ্ছাটা বেঁচে থাকার চেয়ে প্রবল হয়, তখনই মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেয়। একে ছোঁয়াচে আখ্যায়িত করে মনোবিদরা বলেন, মানুষ সমস্যা সমাধান না করে, চিরতরে পালাতে গিয়েই এমনটি ঘটায়।

মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. তানিয়া রহমান বলেন, আত্মহত্যাটা ছোঁয়াচে রোগের মতো ছড়িয়ে গেছে। কোনো একটা বিষয়ে সমাধান না পেয়েই মূলত তারা অত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। আত্মহত্যার আগে ফেসবুক লাইভে এসে জানান দিচ্ছেন, তারা কতটা কষ্টে ছিলেন। তবে আত্মহত্যা করতে গিয়ে যারা বেঁচে গেছেন, তারা পরবর্তীতে বাঁচতে চেয়েছে। তার মানে তারা মরার উদ্দেশ্যে আত্মহত্যা করে না।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন পারিবারিক বন্ধনের দৃঢ়তার ওপর। এখানটায় উন্নতি ঘটলে আত্মহত্যার প্রবণতা কমে আসবে।

আরএ/টিআই
 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission