নির্বাচনি আচরণবিধি কেউ তোয়াক্কা করছেন না। অনেকটা কাজীর গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই অবস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্ষেত্রে কমিশনের যেমন ব্যর্থতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার অভাব। অবশ্য নির্বাচন কমিশনের দাবি, অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবার আচরণবিধি পালনে বেশি সচেষ্ট প্রার্থীরা।
জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীরা কী করতে পারবেন আর কী পারবেন না, সেটি আগেই ঠিক করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সময় সময় এতে হয়েছে সংযোজন-বিয়োজন। লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন, ব্যানার কিংবা বিলবোর্ড ব্যবহার নিয়ে বিধিতে অনেক আগে থেকেই দেওয়া আছে নির্দেশনা।
নির্দেশনায় অনুযায়ী, ব্যানার-ফেস্টুনে রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিক তথা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদান ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে আকারও। তবে, অধিকাংশই এই আচরণবিধির তোয়াক্কা করছেন না।
ঢাকা-৮ আসনের গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট। রঙিন ব্যানার টাঙিয়েছেন এনসিপির নাসির উদ্দিন পাটোয়ারি ও বিএনপির মির্জা আব্বাস। আছে সাদাকালোও। তবে সেগুলো আবার পিভিসি পেপারের, যেটি প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি-সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত ডিজিটাল ব্যানার হিসেবে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় বাংলামোটরের রূপায়ন টাওয়ারের ঠিক সামনে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারির এমন আরেকটি রঙিন ব্যানার দেখা যায়। রাজধানীজুড়েই চোখে পড়ছে এমন ব্যানার-ফেস্টুন।
ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলনের একাধিক রঙিন ব্যানার শোভা পাচ্ছে কাওরানবাজার মোড়ে। আছে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নিরব ও বিএনপি জোটের সাইফুল হকের ব্যানারও। ঢাকা-১০ এর বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম রবির রঙিন ব্যানারও শোভা পাচ্ছে কাওরানবাজার মোড়ে। সবই ঘটছে চোখের সামনে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কমিশন ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, আর প্রার্থীদের ঘাটতি সদিচ্ছার। অবশ্য নির্বাচন কমিশন বলছেন, অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবার আচরণবিধি বেশি মানছেন প্রার্থীরা।
আচরণবিধি নিয়ে কমিশনকে আরও বেশি কঠোর হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
আরটিভি/আরএ





