বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরু হওয়ার ২০ দিন পরে প্রথমবারের মতো সিলেটের দর্শকরা নিজেদের ঘরের মাঠে খেলা দেখার সুযোগ পেয়েছেন। আর প্রথমদিনেই কিনা দারুণ এক ব্যাটিংশৈলী দেখলো সিলেটের দর্শকরা।
সিলেটে প্রথমদিনেই যে উইকেটে প্রত্যেক ব্যাটসম্যান সংগ্রাম করেছিল, সেখানে কিনা আনামুল হক বিজয়ের কাছে ব্যাটিং করাটা ছিল সবচেয়ে সহজ কাজ। অন্য ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বল সুইং করছিল, টার্ন করছিল ভয়ানকভাবে সেখানে বিজয়ের কাছে বল যেন সোজা হয়ে আসছিল।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এদিন দুই ম্যাচে মোট ৩৩ ব্যাটসম্যান ব্যাটিং করতে নেমেছিল। যেখানে আনামুল ব্যতীত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল চট্টগ্রামের কার্টিস ক্যাম্পারের, ৪৫ রান। অন্যদিকে আনামুল ফিফটি পেরিয়ে করেছিলেন ৭৮ রান। তাও মাত্র ৫০ বলে, ১৫৬ স্ট্রাইক রেটে। ৬টি করে চার-ছয়ের সাহায্যে।
এই ব্যাটসম্যানের অসাধারণ ইনিংসে ভর করে চট্টগ্রামকে শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে হারিয়েছে বরিশাল। যদিও ম্যাচটি জিততে বরিশালকে অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচের শেষ ওভার পর্যন্ত।
সিলেটে এদিন দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে চট্টগ্রাম। নির্ধারিত ২০ ওভারে দলটি ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান করে। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় বরিশাল।
এদিন অবশ্য জয়ের ধারায় ফিরতে একাদশে সাত পরিবর্তন আনে চট্টগ্রামের টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। প্রথমবারের মতো এবারের বিপিএল খেলতে নেমে ৫ রানের বেশি করতে পারেননি মেহেদী মারুফ।
গত কিছু ম্যাচে একাদশে না থাকা উন্মুক্ত চাঁদকে ব্যাট হাতে উপরে উঠানো হয়। ১৩ বলে ১৬ রান করে ফেলেন এই ব্যাটসম্যান। দারুণ কিছুর ইঙ্গিতও দেন এই ভারতীয় রিক্রুট। তবে শেষ পর্যন্ত ১৬-তেই থেমে যান এই ব্যাটসম্যান।
তবে পাওয়ারপ্লেতে অবশ্য ৪৩ রান তুলে ফেলে চট্টগ্রাম। চারে নেমে আফিফ এদিন দারুণ খেলতে থাকেন। ম্যাক্স ও’ডোডের সাথে গড়েন ৪২ রানের জুটি। ম্যাক্স ৩৩ রানে ফিরলে ভাঙে জুটিটি। এরপর দ্রুত আরও ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে চট্টগ্রাম। আফিফও ফেরেন ৩৭ রান করে।
১০২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেললে চট্টগ্রামের সংগ্রহ খুব দেড়শর মাঝে থমকে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। তবে সেখান থেকে প্রথমবারের মতো এবারের বিপিএলে মাঠে নামা ক্যাম্পার এবং ইরফান শুক্কুর দ্রুত ৬৬ রানের জুটি গড়লে লড়াই করার মতো বড় সংগ্রহ পায় চট্টগ্রাম।
ইরফান শুক্কুর ২০ রান করে ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হলেও অন্যপ্রান্তে ক্যাম্পার ছিলেন অপরাজিত। মাত্র ২৫ বলে ৪টি চার ও ২টি ছয়ে ৪৫ রান করে অপরাজিত থাকেন এই আইরিশ ক্রিকেটার। বরিশালের পক্ষে সৈয়দ খালেদ এবং কামরুল ইসলাম ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আনামুল এক প্রান্তে যখন ব্যাট হাতে ঝড় তুলছেন, অন্যপ্রান্তে ব্যাটসম্যানরা আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যস্ত ছিলেন। বরিশালের প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের মধ্যে আনামুল একাই করেছিলেন ৭৮ রান। অন্য দিকে বাকি ৬ জনের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল মাত্র ১৩ রান।
আনামুলের ৭৮ রানের সুবাদে নেট রান রেটে একবারের জন্যও পিছিয়ে ছিল না বরিশাল। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারানোতে বিপদেই ছিল সাকিবের দল। চট্টগ্রামের পক্ষে মোহাম্মদ নিহাদুজ্জামান ১৭ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে চাপে রাখেন বরিশালকে।
কিন্তু শেষদিকে ব্যাট হাতে নেমে করিম জানাত ঝড়ে জয় নিজেদের করে নেয় বরিশাল। আফগান এই ব্যাটসম্যান মাত্র ১২ বলে খেলেন অসাধারণ ৩১ রানের ইনিংস। ৩টি চার ও ২টি ছয়ে খেলা জানাতের ইনিংসের জন্যই বরিশালের জয় সহজ হয় শেষদিকে। এছাড়াও সালমান হোসেন ইমন ১৪ বলে ১৮ রান করে দল জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।
