বাংলাদেশের ক্রিকেটে আম্পায়ারিং নিয়ে বহুদিন ধরেই নানা আলোচনা-সমালোচনা চলমান। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিম্নমানের আম্পায়ারিং নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতিবাচক মন্তব্য এসেছে বহুবার। এসব বিবেচনায় এবার আম্পায়ারিং মান উন্নয়নে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিশ্বখ্যাত আম্পায়ার সাইমন টাওফেল এবং আইসিসির এলিট প্যানেলের সদস্য বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতকে নিয়ে বিসিবি সাজাচ্ছে একটি মহাপরিকল্পনা। বিষয়টি বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠু নিশ্চিত করেছেন।
ইফতেখার আহমেদ মিঠু জানান, সাইমন টাওফেলকে তিন বছরের জন্য পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে বিসিবির সঙ্গে প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে আলোচনা। চুক্তির আনুষ্ঠানিক কাগজপত্রের কিছু বিনিময় বাকি আছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে তিনি কাজ শুরু করতে পারেন।
মিঠু আরও জানান, আমরা আমাদের পুরো সিস্টেমকে একটা সুন্দরভাবে ডিজাইন করে প্রক্রিয়াকরণ করব। নতুন আম্পায়ারদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে ধাপগুলো দরকার, সেগুলো গড়ে দেবে টাওফেল।
টাওফেলের পরিকল্পনায় থাকবে যা যা থাকবে, আম্পায়ারদের মান অনুযায়ী A, B, C গ্রেডিং নির্ধারণ, প্রাতিষ্ঠানিক ট্রেনিংয়ের আধুনিকীকরণ ও স্থানীয় আম্পায়ারদের প্রস্তুত করে জেলা পর্যায়ের ম্যাচ পরিচালনায় যুক্ত করা।সারাদেশে বিস্তৃত লিগ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য আম্পায়ার তৈরি।।
প্রথম বছরে থাকছে কাঠামো গঠন, প্রশিক্ষণ সামগ্রী তৈরি, ও বর্তমানে কর্মরত আম্পায়ারদের মূল্যায়ন ও উন্নয়ন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছর থাকবে পর্যবেক্ষণ ও কার্যক্রম ঠিকভাবে অনুসরণ হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা।
এ প্রসঙ্গে মিঠু বলেন, আমরা অনেক কিছু শুরু করি কিন্তু মনিটরিংয়ের অভাবে ধরে রাখতে পারি না। এজন্যই তিন বছরের চুক্তি করা হচ্ছে।
এদিকে, সম্প্রতি এজবাস্টনে ভারত-ইংল্যান্ড টেস্টে দুর্দান্ত আম্পায়ারিং করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছেন বাংলাদেশের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। ওই ম্যাচে তার বিপক্ষে নেওয়া ১০টি রিভিউয়ের ৮টিই ব্যর্থ হয়। যা তার নির্ভুলতা ও পেশাদারিত্বের প্রমাণ।
সৈকতের প্রশংসা করে মিঠু বলেন, এটা শুধু বিসিবির নয়, পুরো বাংলাদেশের গর্ব। ইংল্যান্ডের মাঠে ভারতের বিপক্ষে এত চাপের ম্যাচে সে যেভাবে আম্পায়ারিং করেছে, তাতে বিশ্ব মুগ্ধ। আমরা আশা করি, তার মতো আরও আম্পায়ার তৈরি করতে পারব।
বিসিবির এই মহাপরিকল্পনা সফল হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি আম্পায়ারদের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আরটিভি/এসকে
