ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ট্রফি। প্রতি চার বছর অন্তর আয়োজিত এই বিশ্বকাপের প্রথম আসর হয় ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে, যেখানে ১৩টি দেশ অংশ নেয়। বর্তমান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশ সংখ্যা ৩২। যুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ হয়নি। কাতারে ২০২২ সালের এই বিশ্বকাপ ছিল ২২তম আসর। ব্রাজিল সর্বোচ্চ ৫ বার বিশ্বকাপ জয়ী, জার্মানি ও ইতালি চারবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে।
বিশ্বকাপের বল তৈরি করে জার্মান ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এডিডাস। বিশ্বকাপ শুরু থেকে দুটি ট্রফি ব্যবহার হয়েছে। প্রথমটি ছিল জুলে রিমে ট্রফি (১৯৩০-১৯৭০), যা নামকরণ করা হয়েছিল তখনকার ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমের নামে।
জুলে রিমে ট্রফির রহস্য:
জুলে রিমে ট্রফি ছিল সোনার প্লেট ও রূপোর তৈরি। এই ট্রফির আকৃতি গ্রিসের জয়ীর দেবী নাইকির মূর্তি দ্বারা অনুপ্রাণিত, যার উচ্চতা ছিল ৩৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৩.৮ কেজি। ১৯৪৬ সালে এই ট্রফির নাম রাখা হয়েছিল জুলে রিমের নামে, যার মূল নাম ছিল ‘ভিক্টোরিয়া’।
১৯৮৩ সালে এই ট্রফিটি চুরি হয়ে গলিয়ে ফেলা হয়। ব্রাজিলিয়ান পুলিশ পরে সেই চোরদের ধরতে সক্ষম হয়। ব্রাজিল ১৯৭০ সালে শেষবার এই ট্রফি জিতেছিল।
নতুন ট্রফির ডিজাইন ও গুরুত্ব:
১৯৭০ সালের পর ফিফা নতুন ট্রফি তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ৭টি দেশের শিল্পীদের মধ্যে থেকে ইতালির শিল্পী সিলভিও গাজ্জানিগার ডিজাইন করা ট্রফি নির্বাচন করা হয় এবং এটি তৈরি করেন জিডিএ বার্তনি।
নতুন ট্রফির উচ্চতা ৩৬.৮ সেন্টিমিটার, পাদদেশের ব্যাস ১৩ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৬.১৪২ কেজি, যার মধ্যে ৫ কেজি সোনা। এই ট্রফি ১৮ ক্যারেট সোনায় তৈরি। এতে দুই ব্যক্তি পৃথিবীকে ধরে রাখার ছবি রয়েছে, যা বিশ্ব ফুটবলের ঐক্য ও গ্লোবাল স্পিরিটের প্রতীক।
বিশ্বকাপ জয়ী দল ট্রফিটির আসলটি ধরে রাখতে পারে না, তাদের হাতে থাকে কেবল রেপ্লিকা, আর তাদের নাম অরিজিনাল ট্রফির তলায় খোদাই করা হয়।
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির রহস্যময় ইতিহাস ফুটবলের জগতে একটি অমূল্য অংশ হিসেবে রয়ে গেছে, যা প্রতিবার বিশ্বকাপ আসলে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা ও গর্বের নতুন অধ্যায় খুলে দেয়।
আরটিভি/এসকে




