উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে দাপুটে পারফরম্যান্সে ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড-কে ৭-২ গোলে বিধ্বস্ত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বার্সেলোনা। দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ গোলের ব্যবধানে শেষ আট নিশ্চিত করেছে কাতালানরা।
ম্যাচের ৬১ মিনিটে নিউক্যাসল গোলরক্ষক অ্যারন রামসডেল-এর মুখে তখন হতাশার ছাপ স্পষ্ট। ছয় গোল হজম করেও প্রতিরোধ গড়তে পারেননি একবারের জন্যও। আসলে বার্সেলোনার আক্রমণের সামনে তার কিছুই করার ছিল না। ৭২ মিনিটে আরও একবার বল জালে জড়ালে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে পুরো নিউক্যাসল শিবিরে, বিশেষ করে জোড়া গোল করা অ্যান্থনি এলাঙ্গ-র চোখেমুখে। অন্যদিকে ক্যাম্প ন্যুর গ্যালারিতে তখন উৎসবের আবহ— কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হওয়াটা যেন কেবল সময়ের অপেক্ষা ছিল।
ম্যাচের শুরুটা ছিল দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ। মাত্র ১৮ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল হয়ে যায়। ৬ মিনিটে রাফিনিয়া বার্সাকে এগিয়ে দিলেও ১৫ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান এলাঙ্গা। তিন মিনিট পর মার্ক বার্নাল গোল করে আবার এগিয়ে দেন স্বাগতিকদের।
তবে নিউক্যাসল হাল ছাড়েনি। ২৮ মিনিটে আবারও গোল করে সমতা ফেরান এলাঙ্গা, যিনি এই মৌসুমে আগের ৩৫ ম্যাচে গোল না পেলেও মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে চমক দেখান।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সে ফাউলের শিকার হন রাফিনিয়া। কিয়েরন ট্রিপিয়েরের সেই ফাউলে পেনাল্টি পায় বার্সা। স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লামিনে ইয়ামাল।
এদিকে বিরতির পর পুরোপুরি বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। মাত্র ২৭ মিনিটেই নিউক্যাসলের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেয় বার্সা।
৫১ মিনিটে গোল করেন ফারমিন লোপেজ। এরপর ৫৬ ও ৬১ মিনিটে জোড়া গোল করে নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন রবার্ট লেভানডফস্কি, যিনি প্রথমার্ধে একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেছিলেন।
শেষ গোলটি আসে ৭২ মিনিটে, রাফিনিয়ার পা থেকে। জোড়া গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের সেরা পারফরমারও ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।
রেকর্ডের রাত
এই ম্যাচে নতুন ইতিহাস গড়েছেন লেভানডফস্কি ও ইয়ামাল।
চ্যাম্পিয়নস লিগে ৪১টি ভিন্ন দলের বিপক্ষে গোল করে লিওনেল মেসির (৪০) রেকর্ড ভেঙেছেন লেভানডফস্কি।
সবচেয়ে বেশি বয়সে নকআউট পর্বে জোড়া গোলের রেকর্ড গড়েছেন, ছাড়িয়ে গেছেন ফিলিপ্পো ইনজাঘিকে।
অন্যদিকে সবচেয়ে কম বয়সে চ্যাম্পিয়নস লিগে অন্তত ১০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলেছেন ইয়ামাল।
প্রথমার্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হলেও বিরতির পর বার্সেলোনার ঝড়ো আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি নিউক্যাসল। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের এই জয়ে ইউরোপের মঞ্চে নিজেদের শক্তির জানান দিল কাতালান ক্লাবটি।
কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ হবে আতলেতিকো মাদ্রিদ অথবা টটেনহাম হটস্পার।
আরটিভি/এমএইচজে





