ফুটবলের সবুজ গালিচায় যখন লিওনেল মেসি বল নিয়ে দৌড়ান, তখন মনে হয় সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। সেই জাদুকরী বাঁ পায়ের ছোঁয়ায় আরও একবার বিশ্বমঞ্চ রাঙাতে তিনি ফিরবেন কি না—ফুটবল বিশ্বের এই প্রশ্নের উত্তর যেন এখনো ধোঁয়াশায়।
কেননা ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র ৮১ দিন বাকি থাকলেও আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে মেসির উপস্থিতি নিয়ে খোদ আলবিসেলেস্তে শিবিরেই বইছে অনিশ্চয়তার হাওয়া। দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি জানিয়েছেন, এই মহাকাব্যের শেষ অধ্যায়টি কীভাবে লেখা হবে, তার কলম এখন কেবল মেসির হাতেই।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্ক্যালোনি বলেন, ‘মেসি খেলবে কি না, এই প্রশ্নটা আসলে তাকেই করা উচিত। হৃদয়ের গভীর থেকে আমি চাই সে যেন আমাদের সঙ্গেই থাকে। কেবল আর্জেন্টিনার জন্য নয়, ফুটবলের সৌন্দর্যের স্বার্থেই তাকে বিশ্বমঞ্চে দেখা দরকার। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিরঙ্কুশ অধিকার কেবল তারই। তার শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রশান্তির ওপরই নির্ভর করছে সবকিছু।’
৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি, ২০২২ সালে কাতারকে নীল-সাদা উৎসবে ভাসিয়েছিলেন, এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে ১১৫টি গোলের মালিক।
বিশ্বকাপ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও নিকট ভবিষ্যতে সমর্থকদের জন্য রয়েছে প্রশান্তির খবর। চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে আবারও মাঠের লড়াইয়ে নামছেন মেসি। আগামী ২৮ মার্চ মাউরিতানিয়া এবং ৩১ মার্চ জাম্বিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নেবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বোকা জুনিয়র্সের ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম ‘লা বোমবোনেরাতে’ এই ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে। তবে মেসি শুরু থেকেই মাঠে থাকবেন কি না, তা ম্যাচের দিনই চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্ক্যালোনি।
উল্লেখ্য, ২৭ মার্চ কাতারে স্পেনের বিরুদ্ধে ‘ফিনালিসিমা’ খেলার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে ম্যাচটি বাতিল করা হয়েছে। ঘরের মাঠে ফুটবল জাদুকরকে কাছ থেকে দেখার এই সুযোগকে সমর্থকদের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন কোচ।
বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে স্ক্যালোনি যে ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছেন, তাতে কাতার জয়ী ১৬ জন সেনানির পাশাপাশি ঠাঁই পেয়েছেন প্রতিভাবান নবীনরা। ডিফেন্ডার টমাস পালাসিওস, গ্যাব্রিয়েল রোহাস এবং বেনফিকার উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানিকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছে আলবিসেলেস্তেরা। কোচ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কেবল নাম নয়, ফিটনেস ও বর্তমান ফর্মই হবে চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার মাপকাঠি।
আরটিভি/এআর



