পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে না পারায় সমালোচনার মুখে ছিলেন। তবে মাঠের ভেতরের চাপের মাঝেই মাঠের বাইরের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ে বড় স্বস্তির খবর পেলেন তিনি।
পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাহোর হাই কোর্ট বাবর আজমের বিরুদ্ধে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলাটি বাতিল করে লিখিত আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাবরের করা রিট আবেদনও গ্রহণ করেছেন আদালত, যেখানে তার বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।
মামলাটির সূত্রপাত হয় হামিজা মুখতার নামের এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযোগে বলা হয়েছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর তা ভেঙে দেন বাবর আজম। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল ও আর্থিক শোষণের মতো গুরুতর অভিযোগও আনা হয়। অতীতে এই অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় আদালত ও এফআইএ পর্যায়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
তবে শুনানিতে মামলার নথি ও উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, অভিযোগগুলোর পক্ষে যথেষ্ট আইনি ভিত্তি পাওয়া যায়নি। বিচারপতি আসজাদ জাভেদ ঘারালের বেঞ্চ পূর্ববর্তী নির্দেশনা বাতিল করে দেন এবং এফআইআর নথিভুক্তির সিদ্ধান্তও প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আদালত আরও বলেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই পর্যবেক্ষণই শেষ পর্যন্ত বাবর আজমের পক্ষে বড় স্বস্তি এনে দেয়।
এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ক, যৌন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগসংক্রান্ত আইনি অনিশ্চয়তা থেকে আপাতত মুক্ত হলেন বাবর। এখন তিনি পুরোপুরি ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
মাঠে নিজের ফর্ম ফিরে পাওয়ার চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি এই আইনি জটিলতা কাটিয়ে ওঠা বাবর আজমের জন্য নিঃসন্দেহে এটি বড় স্বস্তির খবর।
আরটিভি/এসকে



