২০২৬ ও ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে ভারত, বাংলাদেশ ও চীনের বাজারে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। বিশাল দর্শকগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো বড় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরটির স্বত্ব কিনতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বিশ্বকাপের জন্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১২০০ কোটি টাকা) মূল্য নির্ধারণ করেছে বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট বাজারগুলো থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাব এর তুলনায় অনেক কম হওয়ায় দরকষাকষি জটিল হয়ে উঠেছে।
ভারতের ক্ষেত্রে রিলায়েন্স জিও এবং স্টার স্পোর্টস যৌথভাবে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা ফিফার প্রত্যাশার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার ওই প্রস্তাব ফিফা প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে সনি নেটওয়ার্ক প্রাথমিক আগ্রহ দেখালেও পরে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের জন্য সম্প্রচার স্বত্ব ভারতীয় একটি প্ল্যাটফর্ম প্রায় ৮০০ কোটি টাকায় কিনেছিল, যেখানে ডিজিটাল মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য দর্শকসংখ্যা পাওয়া গিয়েছিল। তবে আগামী বিশ্বকাপগুলোর ম্যাচের সময়সূচি (মধ্যরাত ও ভোর) সম্ভাব্য দর্শক কমিয়ে দিতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই বড় বিনিয়োগে অনাগ্রহী সম্প্রচারকারীরা।
চীনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি অতীতে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব কিনে ব্যাপক প্রচারণা চালালেও এবার এখন পর্যন্ত কোনো সক্রিয় উদ্যোগ দেখা যায়নি।
বাংলাদেশেও বিশ্বকাপ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ বরাবরের মতো তুঙ্গে থাকলেও এখনো কোনো টেলিভিশন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম স্বত্ব কেনার বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। ফলে দেশীয় দর্শকদের জন্যও বিশ্বকাপ উপভোগের বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিফার উচ্চমূল্য প্রত্যাশা এবং স্থানীয় বাজারের বাণিজ্যিক বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধানই এই অচলাবস্থার মূল কারণ। বড় তিনটি বাজারে সম্প্রচার স্বত্ব অনিশ্চিত থাকায় বিশ্বকাপের বৈশ্বিক সম্প্রচার কৌশলেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরটিভি/এসকে



