আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপ। মাঠের লড়াই এই তিন দেশে হলেও ফুটবলের এই মহাযজ্ঞের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বে। সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নামও।
এবার বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জার্সি থেকে পরিবহন খরচ, সবকিছুর দাম বাড়িয়েছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক দূরত্ব আকাশপথে গড়ে প্রায় ১২,৪৪০ থেকে ১৩,২৪৭ কিলোমিটার। কিন্তু একই চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশের জার্সি মার্কেটেও।
রাজধানীর ফুটপাত থেকে শুরু করে স্পোর্টস শোরুম সবখানেই দেখা মিলছে বিভিন্ন দেশের পতাকা ও জার্সির। আকাশি-সাদা, হলুদ-সবুজসহ নানা রঙের জার্সিতে সেজেছে দোকানের তাক ও ফুটপাতের পসরা।
গুলিস্তানের ফুটপাত ও স্পোর্টস মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুচরা বিক্রেতারা বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে জার্সি কিনতে এসেছেন। তারা নিজেদের পছন্দের দলের জার্সি কিনছেন।
ফুটপাত ও শোরুমে সারি সারি করে সাজানো ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের জার্সি। ফুটপাতে ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে জার্সি পাওয়া গেলেও দোকান ও শোরুমে ৫০০ টাকার নিচে জার্সি পাওয়া যাচ্ছে না। উন্নতমানের জার্সির দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন দোকানিরা।
গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খুচরা বিক্রেতারা পাইকারিভাবে জার্সি সংগ্রহ করছেন। সব দলের জার্সির চাহিদা থাকলেও বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি। বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে জার্সির দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
এদিকে জার্সি বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনলাইন ব্যবসায়ীরাও। অনলাইনে সব ধরণের জার্সিই পাওয়া যাচ্ছে। তবে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে ফ্যান এডিশন ও প্লেয়ার এডিশন জার্সি। পছন্দের দলের জার্সি কিনে নিজের নাম লেখাতে ব্যস্ত সময় পার করছে দর্শকরা।

দক্ষিণ এশিয়ায় বরাবরই বিশ্বকাপে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের মার্কেটে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জার্সি। গত আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় দলের সমর্থকদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। তাই ৩ তারা বিশিষ্ট জার্সিটা কিনতে মার্কেটগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন আর্জেন্টাইন ভক্তরা।
বিপরীতে মার্কেটে আলোচিত আরেকটি নাম ব্রাজিল। গত দুই যুগ ধরে শিরোপা পথে ছুটতে থাকা দলটি বরাবরই বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। আনচেলত্তির নতুন প্লেয়িং স্টাইল ও নেইমার-ভিনিদের মতো তারকা ফুটবলাররা এবারও বিশ্বকাপের যোগ্য দাবিদার।
বিশেষ করে আনচলত্তিকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিলিয়ান ফ্যানরা। প্রথমবার জাতীয় দলের দায়িত্ব নিলেও ক্লাবে আনচেলত্তির সাফল্যের কথা সবারই জানা। তাই এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ছাড়াও বিশ্লেষকদের নজর থাকবে এই ইতালিয়ান কোচের উপর।

পরিসংখ্যান ও শক্তি যেমন আলোচনায় রেখেছে ব্রাজিলকে। তেমনই জার্সি মার্কেটেও আগুন ছড়াচ্ছে ৫ তারা যুক্ত হলুদ-সবুজের সমন্ময়ে তৈরি করা জার্সিটা।
গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেটের সালমান স্পোর্টসের বিক্রেতা নূরে আলম মিয়াজি বলেন, সারাদেশ থেকেই খুচরা বিক্রেতারা আমাদের কাছে আসেন। এখানে পাইকারিভাবে ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা দামের জার্সি বিক্রি হয়।

স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে প্রতিটি জার্সি ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য দলের তুলনায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির বিক্রি কয়েকগুণ বেশি।
ফুটপাতের বিক্রেতা শামীম বলেন, ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জার্সি রয়েছে আমার কাছে। বিক্রি অনেক ভালো হচ্ছে, খেলা যত ঘনিয়ে আসবে, বিক্রিও তত বাড়বে বলে আশা করছি।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পর জার্সির মার্কেটে চাহিদা রয়েছে পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স ও জার্মানির। প্রতিবার রোনালদোর কারণে পর্তুগালের জার্সি বিক্রি হলেও বিশ্লেষকদের মতে এবারের বিশ্বকাপের যোগ্যদাবিদার নেশন্স লিগ জয়ী দলটি।

এদিকে তরুণ নির্ভর দল গড়ে আলোচনায় রয়েছে স্পেন। গত কয়েকবছর ধরে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে তারা। পেদ্রি-ইয়ামালদের নিয়ে আরও একবার সোনালী ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্প্যানিশরা।
অন্যদিকে টানা দুটি ফাইনাল খেলে এশিয়ার ফুটবল ভক্তদের মনে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের অ্যাটাকিং ফুটবলে মুগদ্ধ। ফলে ফ্রান্সের জার্সিরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
আরটিভি/এসআর


