দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেয়েছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে রাত কাটাতে পারবে না দেশটির ফুটবলাররা।
যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম দ্য মিররের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা উদ্বেগের জের ধরেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমেরিকার এমন অনমনীয় সিদ্ধান্তের কারণে মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদেহ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান দলকে ম্যাচের দিন সকালে আমেরিকায় প্রবেশ করতে হবে এবং খেলা শেষ হওয়ার পরপরই সীমান্ত পার হয়ে চলে যেতে হবে। এমন নিয়ম একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তি ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন নজিরবিহীন কড়াকড়ির পেছনে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য অ্যাথলেট এবং প্রয়োজনীয় স্টাফসহ পুরো ইরানি দলের ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।
তবে একই সাথে তিনি এক বিস্ফোরক মন্তব্যে দাবি করেন, স্পোর্টিং ভিসার অপব্যবহার করে ইরান যাতে কোনো ছদ্মবেশী সন্ত্রাসীকে আমেরিকার মাটিতে প্রবেশ করাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের এমন সরাসরি সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ টুর্নামেন্টের পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
আমেরিকার এমন অনড় অবস্থানের কারণে ইরান দল তাদের পূর্বপরিকল্পিত অ্যারিজোনার টুসান শহরের বেসক্যাম্প বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকো।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান দলকে তাদের দেশে আশ্রয় দিতে কোনো আপত্তি নেই। মেক্সিকো সরকার ইরানি দলকে তাদের দেশে বেসক্যাম্প করার অনুমতি দিয়েছে এবং সেখান থেকেই ম্যাচ খেলার জন্য ইরান দল আমেরিকায় যাতায়াত করবে।
এর আগে ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের সব ম্যাচ মেক্সিকোর মাটিতে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ফিফার কাছে আবেদন করলেও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। ফলে বাধ্য হয়েই এক ভিন্নধর্মী ও ক্লান্তিকর 'ক্রস-বর্ডার' যাতায়াত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন পার করতে হবে ইরানকে।
আরটিভি/এসআর



