দীর্ঘ ৫২ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপে ফিরে নতুন এক বিতর্কে জড়িয়েছে হাইতি। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগেই দলটিকে জার্সি পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার আগমুহূর্তে এ সিদ্ধান্ত আসে। ফিফার দাবি, হাইতির জার্সিতে ব্যবহৃত একটি ঐতিহাসিক চিত্র তাদের কিট-সংক্রান্ত নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
হাইতির জার্সি প্রস্তুতকারক কলম্বিয়ার ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সায়েতা। প্রতিষ্ঠানটি হোম, অ্যাওয়ে ও থার্ড কিটে ১৮০৩ সালের ঐতিহাসিক ‘ভার্টিয়ার্সের যুদ্ধ’র প্রতিচ্ছবি ব্যবহার করেছিল। এই যুদ্ধের মধ্য দিয়েই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পথে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করে হাইতি।
তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী খেলোয়াড়দের জার্সিতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বার্তা, স্লোগান কিংবা ছবি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। ফিফা মনে করে, জার্সিতে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক যুদ্ধের চিত্র রাজনৈতিক বার্তার আওতায় পড়ে। ফলে কিটটি অনুমোদন পায়নি।
এদিকে জার্সি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সায়েতা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফিফার সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করেই কিটের নকশা তৈরি করা হয়েছিল। হাইতি ফুটবল ফেডারেশনও বিষয়টিকে দেশের ইতিহাস ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক হিসেবে দেখেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত ফিফার নির্দেশ মেনে জার্সিতে পরিবর্তন আনে হাইতি। টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল ফটোসেশনে খেলোয়াড়দের নতুন জার্সিতে দেখা গেছে, যেখানে বিতর্কিত প্রতিচ্ছবিটি আর নেই।
গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা হাইতি ১৩ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ডের। একই গ্রুপে রয়েছে মরক্কো ও ব্রাজিল।
মাঠের বাইরের এই বিতর্কের মধ্যেও হাইতির বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার গল্পটি অনুপ্রেরণাদায়ক। দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং নিজেদের অধিকাংশ ম্যাচ দেশের বাইরে খেলেও তারা বিশ্বমঞ্চে ফেরার কৃতিত্ব দেখিয়েছে।
জার্সি বিতর্কের সমাধান হয়ে যাওয়ায় এখন পুরো মনোযোগ মাঠের লড়াইয়ে। ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া হাইতি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে কেমন পারফরম্যান্স করে, সেদিকেই নজর ফুটবলপ্রেমীদের।
আরটিভি/এসকে



