বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ মানেই একদিকে স্নায়ুর চাপ, অন্যদিকে বাড়তি আকর্ষণ। এছাড়া রয়েছে ইতিহাসের নতুন পাতা খোলার উন্মাদনা। মেক্সিকো সিটির আসতেকা স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটিও এর ব্যতিক্রম নয়।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেপেলো সিথোলের জন্য এই ইতিহাস শুধুই হতাশার ও আক্ষেপের। ৩২ বছরের পুরোনো এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে নাম লিখিয়ে মাঠ ছেড়েছেন এই প্রোটিয়া ডিফেন্ডার।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের লাল কার্ড দেখার ঘটনা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর আবার দেখল বিশ্ব ফুটবল। সর্বশেষ ১৯৯৪ সালের ১৬ জুন জার্মানির বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বলিভিয়ার মার্কো এচেভেরি। ঠিক ৩২ বছর পর আজ আসতেকায় সেই তিক্ত স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটালেন সিথোলে।
ম্যাচের ৫০ মিনিটে মেক্সিকান মিডফিল্ডার গুতিরেসকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তিনি। মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা একটি থ্রু বল ধরে দ্রুতগতিতে ডি-বক্সের দিকে ছুটে যাচ্ছিলেন গুতিরেস। তাকে আটকাতে গিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করে বসেন সিথোলে। প্রথমার্ধেও মেক্সিকোর গোলের সময় বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে বড় ভুল করেছিলেন তিনি, আর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তার এই লাল কার্ড প্রোটিয়াদের ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় পুরোপুরি জল ঢেলে দেয়।
শেষ পর্যন্ত মেক্সিকো সিটিতে ৩ লাল কার্ডের ম্যাচে আজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২–০ গোলে হারায় মেক্সিকো। ৯ মিনিটে হুলিয়ান কিনিয়োনেসের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। ৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমিনেজ। আর প্রথম ম্যাচেই ৩ লাল কার্ড দেখে ফেলল ২০২৬ বিশ্বকাপ।
ব্রাজিলের এক যুগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস
১২ বছর আগে সাও পাওলোতে মার্সেলোর আত্মঘাতী গোলে স্তব্ধ হয়েছিল ব্রাজিল। এতদিন সেই ঘটনাটিই ছিল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম গোলের রেকর্ড হিসেবে অজেয়। কিন্তু আজটেকার মঞ্চে এসে সেই এক যুগের আধিপত্য গুঁড়িয়ে দিলেন হুলিয়ান কুইনোনাস। মার্সেলোর সেই আত্মঘাতী গোলের স্মৃতি পেছনে ফেলে কুইনোনেস এখন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলকের নাম—দ্রুততম গোলদাতা।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর হয়ে গোল করতে মোটেও সময় নেননি হুলিয়ান কুইনোনেস। ম্যাচের ৮ মিনিটেই তার নির্ভুল এক স্ট্রাইকে মেক্সিকো এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে। বিশ্বকাপের বর্তমান আসরের দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি কুইনোনেস নিজের নামের পাশে লিখিয়ে নিলেও, ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্রুততম গোলের রেকর্ডের সিংহাসনটি কিন্তু এখনও অনেক দূরের পথ। মেক্সিকান এই উইঙ্গারের গোলটি বর্তমান টুর্নামেন্টে দারুণ শুরুর বার্তা দিলেও, বিশ্বকাপের সর্বকালের দ্রুততম গোলের অনন্য রেকর্ডটি এখনো অক্ষত রয়েছে।
কুইনোনাসের এই অর্জনে পেছনে পড়ে গেল ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১২ বছর আগে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আয়োজক ব্রাজিলের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার গোলটি ছিল এতদিন এই তালিকায় সবার ওপরে; যদিও সেই গোলটি এসেছিল ব্রাজিলের তারকা মার্সেলোর আত্মঘাতী গোল থেকে। সেই রেকর্ড ভেঙে আজতেকার গর্জনে কুইনোনেস নিজের নাম লেখালেন ইতিহাসের পাতায়।
কুইনোনেসের এই গোলটি এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম হতে পারে, তবে বিশ্বকাপের সর্বকালের ইতিহাসের দ্রুততম গোলের রেকর্ডের তুলনায় এটি বেশ পিছিয়েই আছে। কুইনোনাসের গোলটি আসতে প্রায় ৭ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড দেরি হয়ে গেছে!
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের অবিসংবাদিত রেকর্ডটি এখনও তুরস্কের স্ট্রাইকার হাকান শুকুরের দখলে। ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলার বাঁশি বাজার মাত্র ১১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে তিনি এক মহাকাব্যিক রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই রেকর্ডের ধারেকাছে পৌঁছানো যেকোনো ফুটবলারের জন্যই এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। আপাতত, হাকান শুকুরের সেই মাইলফলকটি তাই ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকছে।
সৌদি প্রো লিগে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় পা রাখা কুইনোনেস যেন থামতেই জানেন না। ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। লিগে সর্বোচ্চ ৩৩টি গোল করে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। এমনকি লিগের শেষ সপ্তাহেও হ্যাটট্রিক করে নিজের ছন্দের জানান দিয়েছেন স্পষ্টভাবে। সৌদি লিগের সেই ছন্দের ধারাবাহিকতা কুইনোনেস বজায় রেখেছেন মেক্সিকোর জার্সি গায়েও।
আরটিভি/এসএস



