ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ইতিহাস গড়লো বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ, ভেঙে গেল ব্রাজিলের রেকর্ড

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০৪:২১ এএম
ছবি: কোলাজ আরটিভি

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ মানেই একদিকে স্নায়ুর চাপ, অন্যদিকে বাড়তি আকর্ষণ। এছাড়া রয়েছে ইতিহাসের নতুন পাতা খোলার উন্মাদনা। মেক্সিকো সিটির আসতেকা স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটিও এর ব্যতিক্রম নয়।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেপেলো সিথোলের জন্য এই ইতিহাস শুধুই হতাশার ও আক্ষেপের। ৩২ বছরের পুরোনো এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে নাম লিখিয়ে মাঠ ছেড়েছেন এই প্রোটিয়া ডিফেন্ডার।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের লাল কার্ড দেখার ঘটনা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর আবার দেখল বিশ্ব ফুটবল। সর্বশেষ ১৯৯৪ সালের ১৬ জুন জার্মানির বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বলিভিয়ার মার্কো এচেভেরি। ঠিক ৩২ বছর পর আজ আসতেকায় সেই তিক্ত স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটালেন সিথোলে।

ম্যাচের ৫০ মিনিটে মেক্সিকান মিডফিল্ডার গুতিরেসকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তিনি। মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা একটি থ্রু বল ধরে দ্রুতগতিতে ডি-বক্সের দিকে ছুটে যাচ্ছিলেন গুতিরেস। তাকে আটকাতে গিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করে বসেন সিথোলে। প্রথমার্ধেও মেক্সিকোর গোলের সময় বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে বড় ভুল করেছিলেন তিনি, আর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তার এই লাল কার্ড প্রোটিয়াদের ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় পুরোপুরি জল ঢেলে দেয়।

শেষ পর্যন্ত মেক্সিকো সিটিতে ৩ লাল কার্ডের ম্যাচে আজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২–০ গোলে হারায় মেক্সিকো। ৯ মিনিটে হুলিয়ান কিনিয়োনেসের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। ৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমিনেজ। আর প্রথম ম্যাচেই ৩ লাল কার্ড দেখে ফেলল ২০২৬ বিশ্বকাপ।

ব্রাজিলের এক যুগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস

১২ বছর আগে সাও পাওলোতে মার্সেলোর আত্মঘাতী গোলে স্তব্ধ হয়েছিল ব্রাজিল। এতদিন সেই ঘটনাটিই ছিল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম গোলের রেকর্ড হিসেবে অজেয়। কিন্তু আজটেকার মঞ্চে এসে সেই এক যুগের আধিপত্য গুঁড়িয়ে দিলেন হুলিয়ান কুইনোনাস। মার্সেলোর সেই আত্মঘাতী গোলের স্মৃতি পেছনে ফেলে কুইনোনেস এখন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলকের নাম—দ্রুততম গোলদাতা।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর হয়ে গোল করতে মোটেও সময় নেননি হুলিয়ান কুইনোনেস। ম্যাচের ৮ মিনিটেই তার নির্ভুল এক স্ট্রাইকে মেক্সিকো এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে। বিশ্বকাপের বর্তমান আসরের দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি কুইনোনেস নিজের নামের পাশে লিখিয়ে নিলেও, ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্রুততম গোলের রেকর্ডের সিংহাসনটি কিন্তু এখনও অনেক দূরের পথ। মেক্সিকান এই উইঙ্গারের গোলটি বর্তমান টুর্নামেন্টে দারুণ শুরুর বার্তা দিলেও, বিশ্বকাপের সর্বকালের দ্রুততম গোলের অনন্য রেকর্ডটি এখনো অক্ষত রয়েছে।

কুইনোনাসের এই অর্জনে পেছনে পড়ে গেল ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১২ বছর আগে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আয়োজক ব্রাজিলের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার গোলটি ছিল এতদিন এই তালিকায় সবার ওপরে; যদিও সেই গোলটি এসেছিল ব্রাজিলের তারকা মার্সেলোর আত্মঘাতী গোল থেকে। সেই রেকর্ড ভেঙে আজতেকার গর্জনে কুইনোনেস নিজের নাম লেখালেন ইতিহাসের পাতায়।

কুইনোনেসের এই গোলটি এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম হতে পারে, তবে বিশ্বকাপের সর্বকালের ইতিহাসের দ্রুততম গোলের রেকর্ডের তুলনায় এটি বেশ পিছিয়েই আছে। কুইনোনাসের গোলটি আসতে প্রায় ৭ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড দেরি হয়ে গেছে!

বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের অবিসংবাদিত রেকর্ডটি এখনও তুরস্কের স্ট্রাইকার হাকান শুকুরের দখলে। ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলার বাঁশি বাজার মাত্র ১১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে তিনি এক মহাকাব্যিক রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই রেকর্ডের ধারেকাছে পৌঁছানো যেকোনো ফুটবলারের জন্যই এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। আপাতত, হাকান শুকুরের সেই মাইলফলকটি তাই ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকছে।

আরও পড়ুন

সৌদি প্রো লিগে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় পা রাখা কুইনোনেস যেন থামতেই জানেন না। ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। লিগে সর্বোচ্চ ৩৩টি গোল করে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। এমনকি লিগের শেষ সপ্তাহেও হ্যাটট্রিক করে নিজের ছন্দের জানান দিয়েছেন স্পষ্টভাবে। সৌদি লিগের সেই ছন্দের ধারাবাহিকতা কুইনোনেস বজায় রেখেছেন মেক্সিকোর জার্সি গায়েও।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিনামূল্যে খেলা দেখার সুযোগ
বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে দর্শকদের জন্য দারুণ এক সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিনামূল্যে খেলা দেখার সুযোগ
রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে শাস্তির মুখে লা লিগা প্রধান
রিয়াল মাদ্রিদের যোগাযোগ ও প্রচারকৌশলকে নাৎসি জার্মানির প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের কৌশলের সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কে জড়িয়েছেন স্প্যানিশ লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস।
রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে শাস্তির মুখে লা লিগা প্রধান
ব্যালন ডি’অরের ভোটে কে এগিয়ে
ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে আছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। এক অনানুষ্ঠানিক ভোটাভুটিতে হ্যারি কেইন ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। তবে তালিকায় সবচেয়ে বেশি চমক দেখিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকার অবস্থান চতুর্থ। গোল ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরব বিশ্বের জনপ্রিয় ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট কুয়োরার ১৫ সম্পাদকের ভোটে ১৯৫ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন ইয়ামাল। ১৬২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। আর ১১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইয়ামালের শীর্ষে থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রথম স্থানের ভোট। ১৫ সম্পাদকের মধ্যে সাতজনই তাকে নিজেদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের ভোট থেকেও পয়েন্ট পেয়েছেন বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গার। সব মিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্থানের ভোটে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন কেইন। তবে সেই সমর্থন ইয়ামালের সঙ্গে ব্যবধান ঘোচানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি। ফলে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ইংলিশ তারকাকে। তৃতীয় স্থানে থাকা এমবাপ্পের সংগ্রহ ১১৬ পয়েন্ট। তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি। তার পয়েন্ট ৪৫। পঞ্চম স্থানে থাকা খভিচা কাভারাৎসখেলিয়ার সংগ্রহ ২২ পয়েন্ট। আর ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন ফাবিয়ান রুইজ। কুয়োরার এই ভোটাভুটিতে প্রত্যেক সম্পাদক তিনজন খেলোয়াড়কে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দ হিসেবে নির্বাচন করেছেন। প্রথম স্থানের জন্য ১৫, দ্বিতীয় স্থানের জন্য ১২ এবং তৃতীয় স্থানের জন্য ১০ পয়েন্ট নির্ধারিত ছিল। সেই হিসাবে পাওয়া পয়েন্ট যোগ করেই তৈরি করা হয়েছে তালিকা। ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর দেওয়া ব্যালন ডি’অর ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার। বিজয়ী নির্বাচনের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় সাফল্যে অবদান এবং সামগ্রিক অর্জন বিবেচনা করা হয়। তবে কুয়োরার এই ভোটাভুটি ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক ভোট নয়। এটি কেবল অংশ নেওয়া সম্পাদকদের ব্যক্তিগত পছন্দের প্রতিফলন। পুরস্কারের মূল ফলাফলেও এর কোনো প্রভাব নেই। তাই এই ভোটে ইয়ামাল এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আরটিভি/এসকে
ব্যালন ডি’অরের ভোটে কে এগিয়ে
মেসিকে এক নজর দেখার জন্য হাত কাটলেন তরুণ
লিওনেল মেসিকে একনজর দেখতে ভক্তদের পাগলামির শেষ নেই। প্রিয় তারকাকে দেখতে কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন, কেউ ভিড় জমান হোটেলের সামনে।
মেসিকে এক নজর দেখার জন্য হাত কাটলেন তরুণ
মেসির মুকুটে যুক্ত হচ্ছে নতুন আরেকটি পালক
বিশ্বকাপ জয়, আটটি ব্যালন ডি’অরসহ ক্যারিয়ারে অসংখ্য অর্জন। এবার সেই সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হচ্ছে আরেকটি পালক।
মেসির মুকুটে যুক্ত হচ্ছে নতুন আরেকটি পালক