কঙ্গোর বিপক্ষে ব্যর্থ হলেও গুলিস্তান কাঁপাচ্ছেন রোনালদো-ভিতিনহারা

মো.সাঈদুর রহমান

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ , ১২:৫৪ পিএম


কঙ্গোর বিপক্ষে ব্যর্থ হলেও গুলিস্তান কাঁপাচ্ছেন রোনালদো-ভিতিনহারা
ছবি: আরটিভি

বিশ্বকাপে ফুটবল মানেই লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের দলগুলো দাপট। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে আলোচনায় থাকে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি ও পর্তুগাল। বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম নয়, বিশ্বকাপ আসলে এই চার দেশের পতাকা বেশি উড়তে দেখা যায়।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলো ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। কিন্তু লাতিন আমেরিকার এই দুটি দল ছাড়াও ২০২৬ বিশ্বকাপে বাংলাদেশে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু রয়েছে ইউরোপের দেশ পর্তুগাল। বিগত আসরগুলোতে ফাইনাল খেলতে না পারলেও এবার স্বপ্ন দেখছে ভক্তরা।

তাই জার্সি ও পতাকার মার্কেটেও আলো ছড়াচ্ছেন রোনালদো-ভিতিনহারা। হাউসস্টোনে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুর্বল ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র করলেও বাংলাদেশের রাজধানীর ব্যস্ততম স্থান গুলিস্তান মার্কেটে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে পর্তুগালের জার্সি ও পতাকা। 

আরও পড়ুন

গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) ছুটির দিনে গুলিস্তান মার্কেট ঘুরে ঘুরে এই দৃশ্য দেখা গেছে।

মার্কেটে জার্সির সঙ্গে সঙ্গে পতাকার চাহিদা তুঙ্গে, পর্তুগালের ৫ ফুট দৈর্ঘ্যর চায়না প্রিন্টের পতাকা বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২০০ টাকায় আর দেশিটা পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ টাকায়। অন্য দেশের পতাকাতে ছাড় পাওয়া গেলেও পর্তুগালের বিষয়ে যেন অনড় অবস্থানে বিক্রেতা।

Screenshot_2026-06-20_125021

সাব্বির আহমেদ নামের এক রোনালদো ভক্ত আরটিভিকে জানান, ‘ছুটির দিনে একটা পতাকা কেনার জন্য গুলিস্তানে এসেছিলাম। কিন্তু দোকানদাররা দাম কমাচ্ছে না। ২০০ টাকার নিচে নামে না, একদরে বিক্রি করছে।’

পতাকা ব্যবসায়ী গফুর আহমেদ বলেন, আগে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার চাহিদা বেশি ছিল। বর্তমানে পর্তুগালের পতাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। চায়না প্রিন্টগুলো আমরা ৫ ফুটের পতাকা ২০০ টাকা (ফিক্সড), এর থেকে বড়টা ৮০০ টাকায় বিক্রি করছি। এর চেয়ে কম রাখার সুযোগ নেই।

Screenshot_2026-06-20_125037

অন্যদিকে ফুটপাতেও রমরমা জার্সির বাজার। বিভিন্ন দেশের জার্সির বেশ কয়েকটি এডিশনে পাওয়া যাচ্ছে। দামের উপর ভিত্তি করে ক্রেতারা নিজের চাহিদা মতো জার্সি কিনছেন নিজের ও প্রিয় মানুষদের জন্য। কোয়ালিটির উপর ভিত্তি করে ১৫০-৭০০ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে জার্সি। তবে উন্নত মানের বা প্লেয়ার এডিশন কিনতে মার্কেটের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে ফুটবল প্রেমিরা।

কয়েকটি দোকান পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, একদরের দোকানে প্লেয়ার এডিশন জার্সি বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়। অন্যদিকে দামদরের সুযোগ থাকার শর্তে দাম চাওয়া হচ্ছে ১৬০০-১৮০০ টাকা। তবে এখানেও চাহিদার শীর্ষে রয়েছে পর্তুগালের জার্সি।

Screenshot_2026-06-20_125053

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন, ইংল্যান্ড, মরক্কোসহ আলোচিত দলগুলোর জার্সি থাকলেও পর্তুগালের জার্সি নেই বেশকয়েকটি দোকানে। এ বিষয়ে তরুণ ব্যবসায়ী রবিন বলেন, আমাদের এখানে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে পর্তুগালের জার্সি, তাই স্টক শেষ। প্লেয়ার এডিশন জার্সিগুলো দেশের বাইরে থেকে আসে, আমরা আবার অর্ডার করেছি কাল-পরশু পাওয়া যাবে।

ফলে বোঝা যাচ্ছে পর্তুগালকে নিয়ে এখনও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশিরা। প্রথম ম্যাচে হারলেও ভক্তরা চায় পরের দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াবে রোনালদোরা। 

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপের যোগ্য দাবিদার পর্তুগাল। বিশ্বসেরা মিডফিল্ড ও রোনালদোর মতো কিংবদন্তি ফরোয়ার্ডকে নিয়ে স্কোয়াড প্রতিপক্ষকে চোখ রাঙাবে। তবে কঙ্গোর বিপক্ষে বাজে শুরুর পর কিছুটা এলোমেলো হয়েছে হিসাব। এখন বাকি দুই ম্যাচে কেমন করে সেটাই দেখার বিষয়।

ফুটবল বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বোচ্চ সাফল্য হলো তৃতীয় স্থান অর্জন করা। বিশ্বমঞ্চে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লুইস ফিগো বা ইউসেবিওদের মতো কিংবদন্তি ফুটবলার উপহার দিলেও পর্তুগাল এখন পর্যন্ত কখনোই বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারেনি।

ইতিহাসে মাত্র দুইবার তারা সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পেরেছিল। নিচে পর্তুগালের বিশ্বকাপের সেরা দুটি পারফরম্যান্সের বিবরণ দেওয়া হলো—

 

১. ১৯৬৬ বিশ্বকাপ (ইংল্যান্ড): প্রথমবারেই বাজিমাত (তৃতীয় স্থান)

 

পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ অংশগ্রণেই। কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ইউসেবিও এর হাত ধরে সেবার বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল তারা।

 

  • কোয়ার্টার ফাইনাল: উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এক সময় ৩–০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও ইউসেবিওর অবিশ্বাস্য ৪ গোলের ওপর ভর করে ৫–৩ ব্যবধানে ম্যাচ জেতে পর্তুগাল। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা কামব্যাক।

  • সেমিফাইনাল: স্বাগতিক ও সেবারের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের কাছে ২–১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের।

  • তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ: সোভিয়েত ইউনিয়নকে ২–১ ব্যবধানে হারিয়ে তারা টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

  • ইউসেবিও সেবার ৯ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) হয়েছিলেন।

 

২. ২০০৬ বিশ্বকাপ (জার্মানি): সোনালী প্রজন্মের দৌড় (চতুর্থ স্থান)

 

পর্তুগালের ‘সোনালী প্রজন্ম’  লুইস ফিগো, ডেকো এবং তরুণ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ওপর ভর করে দীর্ঘ ৪০ বছর পর আবার সেমিফাইনালে উঠেছিল।

 

  • নকআউট পর্ব: রাউন্ড অব ১৬-এ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিখ্যাত 'ব্যাটল অব নুরেমবার্গ' (যে ম্যাচে রেকর্ড সংখ্যক কার্ড দেখানো হয়েছিল) ম্যাচটি ১–০ গোলে জেতে তারা। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে।

  • সেমিফাইনাল: জিনেদিন জিদানের ফ্রান্সের কাছে ১–০ গোলে হেরে যায় পর্তুগাল।

  • তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ: স্বাগতিক জার্মানির কাছে ৩–১ ব্যবধানে হেরে চতুর্থ স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে তারা।

 

সংক্ষেপে পর্তুগালের বিশ্বকাপ ইতিহাস:

বিশ্বকাপ অর্জিত স্থান মূল তারকা
১৯৬৬ তৃতীয় স্থান (সর্বোচ্চ সাফল্য) ইউসেবিও
২০০৬ চতুর্থ স্থান লুইস ফিগো, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
২০২২ কোয়ার্টার ফাইনাল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ব্রুনো ফার্নান্দেস

 

আরটিভি/ এসআর

 

 

 

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission