বিশ্ব ফুটবলে ‘ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি’ (ভিএআর) নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা এফএ কাপের পর এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চ। আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচে লিওনেল মেসির রেকর্ড গড়া গোলকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ম্যাচে মেসি যখন নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করা গোল উদযাপনে ব্যস্ত, তখন অস্ট্রিয়া শিবিরে দেখা যায় হতাশা ও ক্ষোভ। তাদের অভিযোগ ছিল, গোলের আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার মুহূর্তে অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার জাভার শ্লাগারের ওপর ফাউল করেছিলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সেই ফাউলের ফলেই বলের দখল বদলে গিয়ে শেষ পর্যন্ত গোল পায় আর্জেন্টিনা।
তবে মাঠের রেফারি অস্ট্রিয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। পরে ভিএআর পুরো ঘটনাটি পর্যালোচনা করেও রেফারির সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন দেখেনি।
ভিএআর প্যানেল গোলের আগের পুরো অ্যাটাকিং ফেজ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হয় যে, ম্যাক অ্যালিস্টার ও শ্লাগারের মধ্যে হওয়া শারীরিক সংঘর্ষকে স্পষ্ট ফাউল হিসেবে গণ্য করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। ফলে এটিকে রেফারির ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
এ কারণে রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের জন্য পিচসাইড মনিটরে ডাকারও প্রয়োজন মনে করেনি ভিএআর কর্মকর্তারা।
ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের বিশ্লেষণেও ভিএআরের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলা হয়েছে। তাদের মতে, ঘটনাটি ফাউল ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ রয়েছে। সংঘর্ষের সময় শ্লাগারের অবস্থান স্থির ছিল না এবং তার নিজস্ব গতি ও শরীরী ভরবেগও সংঘর্ষের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, চলতি বিশ্বকাপে ভিএআরের হস্তক্ষেপের মানদণ্ড তুলনামূলকভাবে কঠোর রাখা হয়েছে। মাঠের রেফারি কোনো ঘটনাকে ফাউল না বলে সিদ্ধান্ত দিলে, সেটিকে বদলাতে ভিএআরের কাছে স্পষ্ট ও নির্ভুল প্রমাণ থাকতে হয়। এই ঘটনায় তেমন কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় মেসির গোল বহাল রাখাই ছিল নিয়মসম্মত সিদ্ধান্ত।
ফলে বিতর্ক থাকলেও, ভিএআর এবং ইএসপিএনের মূল্যায়ন অনুযায়ী মেসির রেকর্ড গড়া গোলটি বৈধ বলেই গণ্য হয়েছে।
আরটিভি/এসকে



