চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ইকুয়েডর। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুর্দান্ত এই জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। আর এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আর্জেন্টাইন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে পুরো ইকুয়েডর শিবির। খেলোয়াড়দের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দেন বেকাসেসেও। সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে গ্যালারির দিকে ছুটে যান তিনি এবং দলের সঙ্গে মাঠেই উদযাপনে মেতে ওঠেন।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বেকাসেসে বলেন, এখন উদযাপনের সময়। পরিবারের সঙ্গে, বন্ধুদের সঙ্গে এই আনন্দ ভাগাভাগি করুন, চাইলে এক গ্লাস বিয়ারও পান করুন। এটি বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের সবচেয়ে বড় জয়। আমরা এই লক্ষ্য নিয়েই এসেছিলাম দেশের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ উপহার দিতে। আজ আমরা সেটা করতে পেরেছি।
বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে হারের পর নবাগত কুরাসাওয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি। তবে খারাপ ফলের পরও নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেননি বেকাসেসে।
তিনি বলেন, আমরা শান্ত ছিলাম। একই পরিকল্পনা এবং একই ফুটবল দর্শন ধরে রেখেছিলাম। আমি মনে করি না আগের ফলাফলগুলো আমাদের প্রাপ্য ছিল। ফুটবল এমনই একদিন জিতবেন, আরেকদিন হারবেন। আগের ম্যাচগুলোর পর আমরা নরকে ছিলাম না, আবার আজ জিতে স্বর্গেও পৌঁছে যাইনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারসাম্য বজায় রাখা।
জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের আগে বেকাসেসে ঘোষণা দিয়েছিলেন, নকআউট পর্বে উঠতে না পারলে কোচের পদ ছেড়ে দেবেন। তবে ঐতিহাসিক এই জয়ের পর তিনি পুরো কৃতিত্ব খেলোয়াড় ও ইকুয়েডরের জনগণকে উৎসর্গ করেন।
"এটা আমার জন্য নয়, জনগণের জন্য। খেলোয়াড়রা তাদের নকআউট পর্বের টিকিট এনে দিয়েছে। এটি তাদের উদযাপন করার সময়," বলেন তিনি।
খেলোয়াড় হিসেবে তেমন পরিচিতি না থাকলেও কোচিং ক্যারিয়ারে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন ৪৫ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন। দীর্ঘদিন হোর্হে সাম্পাওলির সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। চিলিকে ২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পৌঁছানো এবং ২০১৫ সালে দেশটির প্রথম কোপা আমেরিকা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। এছাড়া ২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ইকুয়েডরের দায়িত্ব নেওয়ার আগে স্প্যানিশ ক্লাব এলচের কোচ ছিলেন বেকাসেসে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইকুয়েডরের কোচ হিসেবে তার অভিষেক হয় ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-০ গোলের হারের ম্যাচ দিয়ে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি দলটিকে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ইকুয়েডর। বিশ্বকাপে আসার আগে তাদের অপরাজিত থাকার ধারাও ছিল ১৯ ম্যাচ।
যদিও বিশ্বকাপের শুরুটা ছিল কঠিন। প্রথম দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট পাওয়ার পর অনেকেই ইকুয়েডরের বিদায় নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ ম্যাচে জার্মানিকে হারিয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় সেরা দল হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় বেকাসেসের শিষ্যরা।
খাদের কিনারা থেকে ফিরে এসে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করল ইকুয়েডর। আর সেই রূপকথার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এক আর্জেন্টাইন সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে।
আরটিভি/এসকে



